মনজুর গনসংযোগে হামলা-ভাংচুর আহত ২০

প্রকাশ:| রবিবার, ২৬ এপ্রিল , ২০১৫ সময় ০৬:৫১ অপরাহ্ণ

Captureচট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলন দাবী করেছেনির্বাচনী প্রচারনার শেষ দিনেও সন্ত্রাসীদের অভয়ারন্য খ্যাত পলিটেকনিক্যাল এলাকায় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রোববার দুপুরে নগরীর ৮ নং ওয়ার্ডের পলিটেকনিক্যাল এলাকায় ২০ দলীয় জোট সমর্থিত চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলনের প্রার্থী মনজুর আলমের নির্বাচনী গনসংযোগকালে এ হামলার ঘটনা ঘটে। সশস্ত্র যুবলীগ ছাত্রলীগ কর্মীদের হামলায় মনজুর আলমের নির্বাচনী প্রচারনার কাজে ব্যবহৃত নিজস্ব ভিডিও ক্যামেরা ভাংচুর করে ক্যামেরাম্যান মনিরকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে। এ ছাড়া অতর্কিত এ হামলায় আহত হয়েছে অন্তত ২০ জনের বেশী। হামলার সময় বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেওয়া ৬/৭ জন প্রচার কর্মীকে ছাত্রলীগ যুবলীগ কর্মীরা পলিটেকনিক ক্যাম্পাসে আটকে রেখে নির্যাতন করা হচ্ছে। তাদের উদ্ধারে পুলিশকে খবর দেওয়া হলেও বিকাল পর্যন্ত তাদের খোঁজ পাওয়া যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর একটার দিকে মেয়র প্রার্থী মনজুর আলম বিএনপি’র কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও মনজুর আলমের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান আবদুল্লাহ আল নোমানসহ নির্বাচনী গনসংযোগ চালিয়ে নগরীর ৮নং ওয়ার্ডের ২নং গেইট,কসমোপলিটন,রুবি গেইট হয়ে পলিটেকনিক্যালের দিকে আসছিলেন।
দুপুর একটার দিকে মনজুর আলমের নির্বাচনী প্রচারনার গাড়ী টেকনিক্যাল গেইট এলাকা অতিক্রম করার সময় পলিটেকনিক্যালের ভিতর থেকে কালা মানিক,আশ্রাফ,মহিউদ্দিন এর নেতৃত্বে দুই শতাধিক ছাত্রলীগ যুবলীগের নেতা-কর্মী পিছন দিক থেকে অতর্কিত হামলা করে। আক্রমনকারীরা এ সময় আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র, লাঠিসোটা সজ্জিত ছিল। হামলার এক পর্যায়ে তারা অস্ত্র উচিয়ে প্রচারনা টীমকে ধাওয়া করে এবং এলকায় ত্রাস সৃস্টি করে। হামলাকরীদের ইট পাটকেল নিক্ষেপ এলোপাতাড়ি মারধরে প্রচার টীমের বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন ক্যামেরাম্যান মনির (২০), ফরিদ আহমেদ মুরাদ ( ৪৫), মফিজ (৩৫)সহ অন্তত ২০ জন আহত হয়।
এঘটনার পর মনজুর আলম ও আবদুল্লাহ আল নোমানসহ অন্য নেতাকর্মীরা বিজিএমইএ ভবনের সামনের রাস্তা দিয়ে বের হয়ে চলে আসেন। এদিকে এ ঘটনার সময় পুলিশ দুরে দাঁড়িয়ে থেকে নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। ইতিপূর্বে পলিটেকনিক –বায়েজিদ এলাকার সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বারংবার নির্বাচন কমিশন ও সিএমপি কমিশনারকে লিখিতভাবে অভিযোগ জানানো হলেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। আগেকার হামলায় যারা অভিযুক্ত তারাই আজ রবিবারের সর্বশেষ হামলায়ও নেতৃত্ব দিয়েছে।

এ ঘটনার পর বিএনপির চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি ও চেয়ারপার্সনের উপদেস্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বাসায় তাৎক্ষনিকভাবে আবদুল্লাহ আল নোমান ও মনজুর আলম সাংবাদিকদের সামনে ঘটনার আদ্যপান্থ তুলে ধরেন।
ঘটনার বর্ননা দিয়ে মনজুর আলম বলেন আমাদের শান্তিপূর্ণ প্রচারনায় সরকারী দলের প্রার্থীর লোকজন পরিকল্পিত হামলা করেছে। এসময় আমাদের বেশ কিছু কর্মী আহত হয়েছে। তিনি বলেন এ ভাবে একজন প্রার্থীর গাড়ীতে প্রকাশ্যে হামলার পর নির্বাচনের সুষ্ঠ পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ তদন্ত পূর্বক দোষীদের শাস্তির দাবী জানান।

আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, পলিটেকনিক-বায়েজিদসহ সারা শহরে পুলিশ ও সরকারী দলের লোকজন যেভাবে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে তা জনগন নীরবে প্রত্যক্ষ করছে। জনগনের মধ্যে মনজুর আলমের পক্ষে অভূতপূর্ব সমর্থন দেখে আগাম পরাজয় নিশ্চিত হয়ে তারা এখন হামলা-গ্রেফতার ভয়-ভীতির আশ্রয় নিয়েছে। আগামী ২৮ তারিখ বাক্স ভরে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে গনরায় দেয়ার মাধ্যমে জনগন এর প্রতিশোধ নেবে।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সকালে নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনে যে আশংকা ব্যক্ত করা হয়েছিল এক ঘন্টার ব্যবধানে তা আবার সত্য প্রমানিত হলো। সরকারী দল রাস্ট্রীয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে বিএনপিকে নির্বাচন থেকে পিছু হটার উস্কানী দিচ্ছে অথবা নির্বাচন বয়কট না করলে জোর-জবরদস্তি গনরায় হাইজ্যাক করার চক্রান্ত করছে। আমরা সুস্পস্ট ভাষায় বলে দিতে চাই, বিএনপি -২০ দল কোন অবস্থাতেই নির্বাচন বয়কট করবে না। যত হামলা-আতংক তৈরী হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত আমাদের বিজয়ই নিশ্চিত। এ বিজয় কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। ২৮ তারিখ ভোটের গনঅভ্যূত্থান দেখলে সরকারী দল বুঝতে পারবে সন্ত্রাস-জুলুম করে ত্রাস সৃস্টি করা যায়, কিন্তু জন সমর্থন আদায় করা যায় না।

জনাব নোমান ও খসরু এ ধরনের কাপুরোষোচিত ও ন্যাক্কারজনক হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, একজন সাবেক মেয়র ও অগ্রগামী প্রার্থীর উপর হামলার পর নির্বাচন কমিশন, পুলিশ প্রশাসন সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিলে এটা জনগনের কাছে আরো পরিস্কার হয়ে যাবে যে, সরকার , নির্বাচন কমিশন দলীয় ক্যাডার ও প্রশাসনকে ব্যবহার করে ৫ জানুয়ারীর মত আরেকটি ভোটারবিহীন নির্বাচনী তামাশা আয়োজনের কুমতলব আঁটছে। এসময় বিএনপি নেতা আবু সুফিয়ান, মাহবুবুর রহমান শামীমসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।


আরোও সংবাদ