মধ্যরাতে ওয়ারেন্টভুক্ত শিবির কর্মীকে ছেড়ে দিলো পুলিশ

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ , ২০১৫ সময় ০৮:০৭ অপরাহ্ণ

মিরসরাই সংবাদদাতা:
মিরসরাইয়ে ওয়ারেন্টভুক্ত এক আসামী শিবির কর্মীকে গ্রেফতারের পর টাকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। গত বুধবার (১৮মার্চ) মধ্যরাতে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। এএসপি সার্কেল (সীতাকুন্ড), থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সম্মতিতে একজন সহকারি উপ পরিদর্শক টাকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয় বলে অভিযোগ করেন মায়ানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির আহম্মদ নিজামী।
চেয়ারম্যান কবির আহম্মদ নিজামী জানান, তার ইউনিয়নের আব্দুল আজিজ নামের এক ব্যক্তি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন ২০১০ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি মারামারির ঘটনায় মতিহার থানায় করা একটি মামলার আসামী। ওই মামলার ওয়ারেন্টভূক্ত আবদুল আজিজকে বুধবার সন্ধ্যায় মিরসরাই থানার উপ সহকারি পরির্দশক দেলোয়ার ফোন করে থানায় ডেকে আনে। এসময় চেয়ারম্যান কবির আহম্মদ নিজামী নিজেও আবদুল আজিজের সাথে থানায় আসেন। কিন্তু আজিজের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট থাকার বিষয়টি তিনি (চেয়ারম্যান) তখন জানতেন না। এরপর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইমতিয়াজ উদ্দিন ভূঁঞা, এএসপি সার্কেল (সীতাকুন্ড) সালাউদ্দিন সিকদার ও সহকারি উপ পরিদর্শক দেলোয়ারের কাছে আজিজকে ডেকে আনার বিষয়টি জানতে চান। তারা জানান, আবদুল আজিজের বিরুদ্ধে রাজশাহীর মতিহার থানায় একটি মামলায় ওয়ারেন্ট রয়েছে। ওই মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আজিজ ওয়ারেন্টভূক্ত আসামী হওয়ায় চেয়ারম্যান কবির নিজামী থানা থেকে চলে যান। একপর্যায়ে রাত সাড়ে ১১টায় আবদুল আজিজের ছোট বোন হাসিনা আক্তার চেয়ারম্যান কবির আহম্মদ নিজামীকে ফোন করে জানান, থানার এএসআই দেলোয়ার তাকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে থানায় যেতে বলেছে। পুলিশকে ৫০হাজার টাকা দিলে তারা আবদুল আজিজকে ছেড়ে দেবে। পরে বুধবার রাত দেড়টায় ৫০হাজার টাকা নিয়ে আবদুল আজিজকে পুলিশ ছেড়ে দেয়।
আসামীর বোন হাসিনা আক্তার জানান, পুলিশ কর্মকর্তা দেলোয়ার বুধবার সন্ধ্যায় তার ভাই আবদুল আজিজকে ফোন করে দুইজন মানুষকে নিয়ে থানায় আসতে বলেন। পরে মায়ানী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কবির আহম্মদ নিজামী ও বোন হাসিনা সহ আসামী আব্দুল আজিজ থানায় যায়। থানায় গেলে তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট আছে জানিয়ে তাকে পুলিশ গ্রেফতার করে। একপর্যায়ে রাত সাড়ে ১১টায় সহকারি উপ পরিদর্শক দেলোয়ার তাকে ফোন করে জানান, বড় স্যারদের ম্যানেজ করা হয়েছে। আজিজকে ছাড়িয়ে নিতে হলে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে আসেন। পরে টাকা দিয়ে রাতে দেড়টায় তারা আবদুল আজিজকে থানায় ছাড়িয়ে নেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত ১টার দিকে থানার গোলঘরে আজিজের বোন পুলিশের এএসআই দেলোয়ারের হাতে টাকা দেয়। এসময় পুলিশ ডিএসবি বেলাল উপস্থিত ছিলেন। পুলিশকে টাকা দেয়ার পর আবদুল আজিজকে পুলিশ ছেড়ে দেয়।
মিরসরাই থানার সহকারি উপ পরিদর্শক দেলোয়ারকে সাংবাদিক পরিচয়ে অভিযোগ সম্পর্কে জানাতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দিয়ে ফোনটি বন্ধ করে দেন।
এএসপি (সীতাকুন্ড সার্কেল) সালাউদ্দিন সিকদার মোবাইলফোনে জানান, মিরসরাই থানায় কোন আসামী গ্রেফতার নিয়ে চেয়ারম্যান কবির আহম্মদ নিজামীর সাথে তার কোন কথা হয়নি। এছাড়া কোন আসামীর বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট থাকলে তাকে ধরে ছাড়ার কথা নয়। তবে বিষয়টি তিনি জানেন না। তিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন।
এএসপি সার্কেল (সীতাকুন্ড) সালাউদ্দিন সিকদারের বক্তব্য সম্পর্কে মায়ানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির আহম্মদ নিজামী বলেন, বুধবার রাতে থানায় এএসপি সার্কেলসহ আমি একসাথে চা খেয়েছি। ওয়ারেন্ট থাকায় আবদুল আজিজকে ছাড়া যাবে না বলে তিনি নিজেই জানিয়েছেন।
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইমতিয়াজ উদ্দিন ভূঁঞাকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি স্বভাব সুলভ ফোন রিসিভ করেননি।


আরোও সংবাদ