মধুর বসন্ত এসেছে মধুর মিলন ঘটাতে

প্রকাশ:| শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি , ২০১৫ সময় ০৯:৩৮ অপরাহ্ণ

মির্জা ইমতিয়াজ শাওন::

Ctg photo 1“মধুর বসন্ত এসেছে মধুর মিলন ঘটাতে।
মধুর মলয়-সমীরে মধুর মিলন রটাতে।
কুহক লেখনী ছুটায়ে কুসুম তুলিছে ফুটায়ে,
লিখিছে প্রণয়-কাহিনী বিবিধ বরন-ছটাতে।
হেরো পুরানো প্রাচীন ধরণী হয়েছে শ্যামল-বরনী,
যেন যৌবন-প্রবাহ ছুটিছে কালের শাসন টুটাতে;
পুরানো বিরহ হানিছে, নবীন মিলন আনিছে,
নবীন বসন্ত আইল নবীন জীবন ফুটাতে।”

গাছের সবুজ পাতা দেখে আর নতুন বাতাস গায়ে লাগলেই বুঝি বসন্ত এসেছে। ‘আহা আজি এ বসন্তে, এতো ফুল ফোটে, এতো বাঁশি বাজে…….’ শীতের আড়ষ্ঠতা কাটিয়ে এ ধরাতে ধরা দিয়েছে ফাগুনের সব রং। গাছের ডালে নতুন পত্র-পল্লব, মাঝে মাঝে উকি ঝুকি দেয়া ফুড়ুতের ব্যস্ত আনাগোনা, কুহু কোকিলের অস্থিরতা আর নতুন আম্র মুকুলের মোহময় গন্ধে ব্যাকুল হয়ে ওঠে প্রতিটি বাঙালি হৃদয়। সব কিছুর যেন একটিই প্রয়াস, বসন্তের প্রথম স্নিগ্ধ সূর্যস্নাত একটি জঞ্জালহীন নতুন প্রাণের বার্তা সবার কাছে পৌছে দেয়া।

চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় বসন্ত বরণ হয়েছে প্রাণের মিলন মেলায়। রাজনৈতিক হানাহানির ভেতরেও মানুষের প্রাণের উচ্ছ্বাস ছিল চোখ জুড়ানো। চারুকলা , ডিসিহিল, সিবিচসহ নানা এলাকায় নারী-পুরুষ, তরুণ-তরুণী, শিশু-কিশোরের দল মাতোয়ারা ছিল বসন্ত বরণে। সড়ক, রেস্তোরাঁ আর বিভিন্ন ফুলের দোকানে বাসন্তি উচ্ছ্বাসে-আনন্দের ছড়াছড়ি… ।
ঋতুরাজের ডাকে সাড়া দেয় না এ সাধ্য কার? বসন্ত বরণে তাই প্রথম প্রহর থেকেই অপেক্ষা সবার। শুধু ফাল্গুনের আনন্দই নয়, তরুণ-তরুণীরা এবার বসন্তকে স্বাগত জানিয়েছে গভীর দেশপ্রেমের আবেগে।

প্রকৃতির উন্মাদনার পাশাপাশি দেশকে ঘিরে কবি, লেখক, শিল্পীদের মাঝে ফুটে উঠে কবিতায়-গানে, সুরে বৈচিত্র আর কথায়।

আগুন রাঙা ফাল্গুনের অশোক-পলাশ-শিমুলের রং প্রকৃতির পশাপাশি মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের রক্তরঞ্জিত স্মৃতির ওপরও।

এ দিনটিকে যৌবন বন্দনার দিনও বলা হয়। ফুলেল বসন্ত, মধুময় বসন্ত, যৌবনের উদ্দামতা বয়ে আনার বসন্ত আজ। আনন্দ, উচ্ছ্বাস ও উদ্বেলতায় মন-প্রাণ কেড়ে নেওয়ার দিন পয়লা ফাল্গুন।
তাই বর্ণাঢ্য নানা আয়োজনে প্রাণের উচ্ছ্বাসে হয়েছে বসন্তবরণ উৎসব। বিভিন্ন ধর্ম সম্প্রদায়ের মানুষ বিভিন্নভাবে ঋতুরাজ বসন্তকে বরণ করছে। শোভাযাত্রাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে বসন্তবরণ উৎসব।

প্রমা আবৃত্তি সংগঠনের আয়োজনে চট্টগ্রাম চারুকলা ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে বসেছে বসন্ত উৎসব। উৎসবে রয়েছে সংগীত, আদিবাসী নৃত্য, ঢোলবাদন, যন্ত্র সংগীত চিত্রাংকন প্রতিযোগিতাসহ নানা আয়োজন। এতে একক সংগীত পরিবেশন করবেন জনপ্রিয় শিল্পী সামিনা চৌধুরী, সন্দীপন, শীলা মোমেন, শ্রেয়সী রায়, মালাবিকা দাশ প্রমুখ। অনুষ্ঠান চলে সকাল ৮ টা থেকেরাত ৮টা পর্যন্ত ।

বসন্তকে বরণ করতে নগরীর ডিসি হিলে ‘নিবিড় অন্তরতর বসন্ত এল প্রাণে’ শীর্ষক শিরোনামে বোধন আবৃত্তি পরিষদের উৎসব হয়। বোধন দশমবারের মতো এ অনুষ্ঠান আয়োজন করে। তাছাড়া বিভিন্ন সাংষ্কৃতিক সংগঠনও বসন্তকে বরণ করছে নানা আয়োজনে।
‘আজি এ প্রভাতে রবির কর/কেমনে পশিল প্রাণের পর/কেমনে পশিল গুহার আঁধারে/প্রভাত-পাখির গান/না জানি কেন রে এতদিন পরে জাগিয়া-উঠিল প্রাণ। ’ শুক্রবার সকালে ডিসি হিলে কবিগুরুর ‘নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ’ কবিতা আবৃত্তির মধ্য দিয়ে আবৃত্তি শিল্পী রণজিৎ রক্ষিত আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেন ঋতুরাজ বসন্তকে।

এরপর একক আবৃত্তি করেন আবৃত্তি শিল্পী শিমুল নন্দী ও সায়রা শাহীদ। শিমুল নন্দী আবৃত্তি করেন কবি গুরুর ‘অনন্ত প্রেম’ কবিতা। ‘তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি শত রুপে শতবার/জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার/চিরকাল ধরে মুগ্ধ হৃদয় গাঁথিয়াছে গীতহার/কত রুপ ধরে পড়েছে গলায়, নিয়েছে সে উপহার/জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার। ’

নৃত্য, দ্বৈত নৃত্য, গান, একক আবৃত্তি, দ্বৈত আবৃত্তি, দলীয় আবৃত্তি, একক সঙ্গীত, দলীয় সঙ্গীত, যন্ত্র সঙ্গীতসহ নানা বর্ণিল অনুষঙ্গে পালিত হচ্ছে উৎসব। অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী ফাহমিদা রহমান, শান্তনু বিশ্বাস, শ্রেয়সী রায়, রঞ্জন চৌধুরী, রাজীব ভট্টাচার্য্য, প্রিয়া ভৌমিক, রাজীব মজুমদার, ফাল্গুনী মজুমদার। দলীয় সঙ্গিত পরিবশেন করেন সংগীত ভবন, অভ্যুদয় সঙ্গীত অঙ্গন, সঙ্গীত তীর্থ।

অনুষ্ঠানে দ্বৈত আবৃত্তি করেন প্রণব চৌধুরী ও পলি ঘোষ। এছাড়া দলীয় আবৃত্তি পরিবেশন করেন বোধনের সদস্যরা। নাচ, গান, আবৃত্তির পাশাপাশি অনুষ্ঠানে ছিল বাঙালির অন্যতম ঐতিহ্য ঢোলবাদন, তবলার লহরা। ফাল্গুনের এ রঙিন দিনে ঢোলবাদনের নাচে মাতিয়ে রাখেন সুনীল ও তার দল।

এবার বসন্তের আনুষ্ঠানিকতায় রূপ ছড়িয়েছে রঙ আর রঙের খেলা। সেই রঙ দৃষ্টিনন্দন রূপ পেয়েছে নাচে। অনুষ্ঠানে দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে ঘুঙুর নৃত্যকলা, ওডিসি অ্যান্ড ট্যাগর ড্যান্স মুভমেন্ট সেন্টার, সুরাঙ্গন বিদ্যাপীঠ, প্রাপণ অ্যাকাডেমি। দ্বৈত নৃত্য পরিবেশন করেন অনন্য বড়ুয়া। বসন্তকে বরণ করতে বের হয় শোভাযাত্রা।

প্রমা আবৃত্তি সংগঠনের আয়োজনে সকাল আটটায় চট্টগ্রাম চারুকলা ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে বসেছে বসন্ত উৎসব। উৎসবে রয়েছে সংগীত, আদিবাসী নৃত্য, ঢোলবাদন, যন্ত্র সংগীত চিত্রাংকন প্রতিযোগিতাসহ নানা আয়োজন। জনপ্রিয় শিল্পী সামিনা চৌধুরী, সন্দীপন, শীলা মোমেন, শ্রেয়সী রায়, মালাবিকা দাশের একক সংগীত পরিবেশন।