মটোরোলা মটো ই,এতো কম মূল্যে এর থেকে ভালো ফোন বর্তমান বাজারে নেই

প্রকাশ:| শুক্রবার, ১৬ মে , ২০১৪ সময় ০৬:৪০ অপরাহ্ণ

মটোরোলা মটো ইবেশ কিছুদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিলো নতুন একটি বাজেট স্মার্টফোন আনতে যাচ্ছে মটোরোলা। এ নিয়ে বেশ সরব ছিলো অনলাইন ! নানা সময়ে ফাঁস হওয়া এই ফোনের উন্নত সব কনফিগারেশন দেখে অনেকেই হয়তো ভেবেছিলেন মটোরোলা মটো ই মডেলের এই স্মার্টফোনের দাম প্রায় ১৩ থেকে ১৫ হাজার টাকার মধ্যে হবে। কেননা ইতোঃপূর্বে বাজারে আসা মটো জি এর মূল্য প্রায় ২০,০০০ টাকা ! তবে তাদের সবাইকে অবাক করে দিয়ে মিললো মটো ই এর মূল্য সংক্রান্ত তথ্য ! জানা গেলো বেশ ভালো কনফিগারেশনের এই ফোনের মূল্য পড়বে মাত্র ৯১০০ টাকা !

ভারতীয় ই-কমার্স সাইট ফ্লিপকার্টের তথ্য অনুযায়ী মাত্র ৬,৯৯৯ রুপিতে (বাংলাদেশী প্রায় ৯১০০ টাকা ) পাওয়া যাবে স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসরের এই ফোন। অ্যান্ড্রয়েড ৪.৪ কিটক্যাট অপারেটিং সিস্টেমে চালিত এই ফোনের কনফিগারেশনের তুলনায় দাম প্রায় অবিশ্বাস্য ! এতো কম মূল্যে এর থেকে ভালো ফোন বর্তমান বাজারে নেই ।

কর্নিংয়ের গরিলা গ্লাস৩ সমৃদ্ধ এই ফোনে রয়েছে ৯৬০x৫৪০ পিক্সেলের ৪.৩ ইঞ্চি স্ক্রীন। আছে ১.২ গিগাহার্টজ গতির ডুয়েলকোর কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ২০০ প্রসেসর ও ১ গিগাবাইটের র‍্যাম। ৪ গিগাবাইটের ইন্টারনাল মেমোরীর পাশাপাশি আছে ৩২ গিগাবাইট পর্যন্ত এক্সটারনাল কার্ড ব্যবহারের সুবিধা। তবে ৫ মেগাপিক্সেলের রিয়ার ক্যামেরা থাকলেও এই ফোনে কোন ফ্রন্ট ক্যামেরা নেই। ডুয়েল সীম ব্যবহারের সুবিধাসম্পন্ন এই ফোনে রয়েছে ১,৯৮০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের নন-রিমুভ্যাবল ব্যাটারী। সকল দিক থেকে স্বল্পবাজেটের স্মার্টফোন ক্রেতাদের জন্য অসাধারণ এক ফোন হতে পারে মটোরোলা মটো ই !

একনজরে মটোরোলা মটো ই স্মার্টফোনটির উল্লেখযোগ্য ফিচারসমূহঃ

অ্যান্ড্রয়েড ৪.৪ কিটক্যাট
৯৬০x৫৪০ পিক্সেলের ৪.৩ ইঞ্চি স্ক্রীন
১.২ গিগাহার্টজ গতির কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ২০০ প্রসেসর
১ গিগাবাইট র‍্যাম
৪ গিগাবাইট ইন্টারনাল মেমোরী
৩২ গিগাবাইট পর্যন্ত এক্সটারনাল কার্ড ব্যবহারের সুবিধা
৫ মেগাপিক্সেলের রিয়ার ক্যামেরা
ডুয়েল সীম
১,৯৮০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের ব্যাটারী

প্রিয় পাঠক, চলুন তাহলে এবারে বিস্তারিত রিভিউয়ের দিকে যাওয়া যাক –

অপারেটিং সিস্টেমঃ মটোরোলা মটো ই স্মার্টফোনটির অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে অ্যান্ড্রয়েডের সর্বশেষ সংস্করণ অ্যান্ড্রয়েড ৪.৪ কিটক্যাট ব্যবহার করা হয়েছে। এই ফোনে অ্যান্ড্রয়েড ৪.৪ কিটক্যাটের স্টক ভার্সনটিই ব্যবহার করা হয়েছে। এটি কোন ধরণের কাস্টোমাইজেশন করা হয়নি। উল্লেখ্য, বাজারে বেশ সাড়া জাগানো মটো জি স্মার্টফোনটিতেও অ্যান্ড্রয়েড ৪.৪ কিটক্যাট ব্যবহৃত হয়েছিলো।

ডিজাইনঃ মটো ই স্মার্টফোনটি বেশ নজরকাড়া ডিজাইনের। এটি দেখতে হুবহু প্রায় মটো জি এর মতো। এর পেছনের অংশ বেশ দারুণভাবে ফিনিশিং করা। ১২৪.৮ মিলিমিটার উচ্চতার এই স্মার্টফোনটির ডিজাইন বেশ মনোমুগ্ধকর। তবে এটি খুব একটা স্লিম নয়। তবে ১২.৩ মিলিমিটার পুরুত্বের এই ফোনটির ওজন মাত্র ১৪২ গ্রাম ! আর এর অসাধারণ ফিনিশিং ফোনটি হাতে নিলেই অনন্য এক অনুভূতির সৃষ্টি করবে।

এই ফোনের পিছনের অংশে রয়েছে ক্যামেরার লেন্স। আর এই ফোনের ডান পার্শ্বে রয়েছে পাওয়ার কী ও ভলিউম কী। উল্লেখ্য, এই ফোনে মটোরোলা অ্যালার্ট ও অ্যাসিস্টের মতো বেশ কিছু অ্যাপস প্রি-ইনস্টল করা আছে । মটোরোলা অ্যালার্ট অ্যাপটি ইমার্জেন্সী অবস্থায় আপনার বন্ধু কিংবা পরিবারকে আপনার অবস্থান জানিয়ে দিতে পারবে।

ডিসপ্লেঃ এই ফোনে রয়েছে ৪.৩ ইঞ্চির ক্যাপাসিটিভ টাচস্ক্রীন যার রেজ্যুলেশন ৯৬০x৫৪০ পিক্সেলের। আর এই ফোনের ডিসপ্লের পিক্সেল ডেনসিটি হলো ২৫৬ পিপিআই। এর ডিসপ্লেতে কর্নিংয়ের গরিলা গ্লাস৩ ব্যবহার করা হয়েছে।

চিপসেটঃ বাজারে থাকা কমমূল্যের অধিকাংশ ফোনেই সাধারণত স্বল্পমূল্যের মিডিয়াটেক চিপসেট ব্যবহার করা হলেও মটোরোলা কর্তৃপক্ষ তাদের নতুন এই ফোনে চিপসেট হিসেবে কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ২০০ ব্যবহার করেছে। ফলে ব্যবহারকারীরা এতে অন্যান্য কমদামী ফোনের তুলনায় বেশ ভালো পারফরম্যান্স পাবেন।

সিপিউঃ এই ফোনে সিপিউ হিসেবে রয়েছে ১.২ গিগাহার্টজ গতির ডুয়েলকোর কর্টেক্স এ-৭।
মটোরোলা মটো ই1
জিপিউঃ স্বল্পমূল্যের স্মার্টফোনসমূহে সাধারণত মালি-৪০০ জিপিউ ব্যবহার করা হয়। তবে এদিক থেকেও এগিয়ে রয়েছে মটোরোলা মটো ই । কেননা এতে উন্নতমানের অ্যাড্রেনো ৩০২ জিপিউ ব্যবহৃত হয়েছে। ফলে যারা গেম খেলতে ভালোবাসেন কিংবা স্মার্টফোনেই উপভোগ করতে চান নানা এইচডি ভিডিও তাদের জন্য আদর্শ পছন্দ হতে পারে মটোরোলার নতুন এই স্মার্টফোন।

র‍্যামঃ মটোরোলা মটো ই স্মার্টফোনটিতে রয়েছে ১ গিগাবাইটের র‍্যাম। ফলে আপনি এতে বেশ দ্রুততার সাথেই মাল্টিটাস্কিং করতে পারবেন। এই ফোনটির মাল্টিটাস্কিং স্পীড স্যামসাংয়ের গ্যালাক্সী এস-৪ এর থেকেও বেশি – এমনটাই দাবী মটোরোলা কর্তৃপক্ষের ।

মেমোরীঃ এই ফোনের ইন্টারনাল মেমোরী হলো ৪ গিগাবাইটের। যার মধ্যে মাত্র ২.২১ গিগাবাইট ব্যবহার করা যাবে। তবে ব্যবহারকারী চাইলে এতে মেমোরী কার্ড ব্যবহার করে এর মেমোরী বাড়িয়ে নিতে পারবেন। কেননা এই ফোনটি ৩২ গিগাবাইট পর্যন্ত এক্সটারনাল মেমোরী কার্ড সমর্থন করে।

ক্যামেরাঃ মটোরোলা মটো ই স্মার্টফোনটিতে রয়েছে ৫ মেগাপিক্সেলের রিয়ার ক্যামেরা । তবে এর ক্যামেরায় জিও ট্যাগিং, টাচফোকাস প্রভৃতি সুবিধা থাকলেও নেই ফ্ল্যাশ সুবিধা। এছাড়া এর আরেকটি সীমাবদ্ধতা হলো এই ফোনে কোন ফ্রন্ট ক্যামেরা নেই। ফলে যারা ভিডিও কল করতে চান কিংবা চান হালের জনপ্রিয় সেলফি তুলতে – তারা খানিকটা হতাশ হতে পারেন।

মাল্টিমিডিয়াঃ এই ফোনে যেকোন ফরম্যাটের অডিও ও ভিডিও সাপোর্ট করবে। উল্লেখ্য, এতে রয়েছে ৩.৫ মিলিমিটারের অডিও জ্যাক। এছাড়া রয়েছে এফএম রেডিও সুবিধা। ফলে আপনি চাইলে এতে এফএম রেডিও চালাতে পারবেন। উল্লেখ্য, এই ফোনের ক্যামেরায় রয়েছে ভিডিও রেকর্ডিং সুবিধা, যার সাহায্যে ৮৫৪x৪৮০ পিক্সেল রেজ্যুলেশনের ভিডিও রেকর্ড করা যায়।

কানেক্টিভিটিঃ এই ফোনটিতে থ্রিজি, ওয়াইফাই, ব্লুটুথ ৪.০ প্রভৃতি প্রয়োজনীয় সকল কানেক্টিভিটি সুবিধা রয়েছে। এছাড়া এতে রয়েছে ইউএসবি ২.০ পোর্ট। তবে মটোরোলা মটো ই স্মার্টফোনটিতে ফোরজি বা এলটিই প্রযুক্তির সমর্থন নেই।

সেন্সরঃ এই ফোনে অ্যাক্সিলেরোমিটার, প্রক্সিমিটি প্রভৃতি সেন্সর রয়েছে।

সীমঃ মটোরোলার নতুন এই বাজেট ফোন রয়েছে ২টি সীম ব্যবহারের সুবিধা। এর উভয় সীম স্লটই জিএসএম প্রযুক্তি সমর্থন করে।

ব্যাটারীঃ মটোরোলা মটো ই স্মার্টফোনটিতে ১,৯৮০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের নন-রিমুভ্যাবল ব্যাটারী ব্যবহার করা হয়েছে। এই ফোনের ব্যাটারী ব্যাকআপ বেশ ভালো। মটোরোলা কর্তৃপক্ষের দাবী অনুযায়ী একবার চার্জ দিলে আপনি প্রায় সারাদিনই এই ফোনটি ব্যবহার করতে পারবেন।

মূল্যঃ ভারতের বাজারে মাত্র ৬,৯৯৯ রুপিতে পাওয়া যাচ্ছে মটোরোলা মটো ই, যা কিনা বাংলাদেশী প্রায় ৯১০০ টাকার সমান। তবে বাংলাদেশের বাজারে কবে আসবে এই ফোন সে সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কোন ধরণের তথ্য পাওয়া যায়নি।

কেন কিনবেন মটোরোলা মটো ইঃ

আকর্ষনীয় ডিজাইন
কমমূল্য
উন্নত কনফিগারেশন

মটোরোলা মটো ই স্মার্টফোনটির কিছু সীমাবদ্ধতাঃ
এই ফোনটি বাজেট স্মার্টফোন হওয়াতে এর কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে মুল্য বিবেচনায় এসব হয়তো খুব একটা বড় বিষয় নয়। আসুন দেখে নিই মটোরোলা মটো ই এর কিছু সীমাবদ্ধতা-

রিয়ার ক্যামেরায় ফ্ল্যাশের অনুপস্থিতি
ফ্রন্ট ক্যামেরা নেই
নন-রিমুভ্যাবল ব্যাটারী

চূড়ান্ত সিদ্ধান্তঃ বাজেট ফোন হিসেবে কনফিগারেশনের দিক থেকে মটোরোলা মটো ই কে বেশ ভালো মানের ফোনই বলতে হবে। বিশেষ করে এর আকর্ষনীয় ও মনোমুগ্ধকর ডিজাইন, এতে ব্যবহৃত স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসর, অ্যাড্রেনো ৩০২ জিপিউ প্রভৃতি বৈশিষ্ট্যের কারণে খুব দ্রুতই জনপ্রিয়তা লাভ করবে এই ফোনটি। প্রযুক্তিজগতে কোন কিছুই হয়তো ১০০% পুর্ণাঙ্গ নয়। আর সেকারণেই হয়তো মটোরোলার নতুন এই ফোনটিতে কিছু সীমাবদ্ধতা বিদ্যমান। তবে এককথায় বলতে গেলে বলা যায়, কনফিগারেশন ও মূল্য বিবেচনায় চমৎকার এক ফোন মটোরোলা মটো ই।

যারা ১০,০০০ টাকা বাজেটের মধ্যে স্মার্টফোন কিনতে চান তারা অনায়াসেই মটোরোলা মটো ই স্মার্টফোনটি পছন্দ করতে পারেন। দেশের বাজারে এই দামে আপনি হয়তো নকিয়া এক্স, স্যামসাং গ্যালাক্সী ট্রেন্ড প্রভৃতি স্মার্টফোন পাবেন। তবে কনফিগারেশনের দিক থেকে এই রেঞ্জের অন্যান্য ফোন থেকে যে বেশ এগিয়ে মটোরোলা মটো ই – এমন কথা নির্দ্বিধায়ই বলা যায়।

প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য, গত বছরের শেষ দিকে বাজারে আসা মটোরোলা মটো জি স্মার্টফোনটি এর উন্নত কনফিগারেশন ও অপেক্ষাকৃত স্বল্পমূল্যের কারণে স্মার্টফোনের বাজারে বেশ ভালো আলোড়ন তুলেছিলো। প্রায় একই কনফিগারেশনের সমসাময়িক অন্যান্য ফোনের তুলনায় অপেক্ষাকৃত কমমূল্যে বাজারে এসেছিলো মটোরোলা মটো জি । ফলে খুব দ্রুতই তা জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলো। মটোরোলা মটো ই স্মার্টফোনটি জনপ্রিয়তার সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে পারবে নাকি তা ইতোঃপূর্বে বাজারে আসা মটোরোলার যেকোন ফোনের জনপ্রিয়তাকে ছাড়িয়ে যাবে – সেটা হয়তো সময়ই বলে দিবে। তবে স্বল্পবাজেটের স্মার্টফোন ক্রেতারা তাদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষেই রাখবেন মটোরোলা মটো ই কে – এমনটাই মনে করছেন বাজার-বিশ্লেষকরা।