মঙ্গল শোভাযাত্রা …

প্রকাশ:| শুক্রবার, ১৪ এপ্রিল , ২০১৭ সময় ০৯:২৯ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মঙ্গল শোভাযাত্রা। শুক্রবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ১০টায় নগরীর বাদশা মিঞা সড়কে অবস্থিত ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয় এই মঙ্গল শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রাটি কাজির দেউড়ি-জামালখান-চেরাগী পাহাড় মোড় হয়ে ডিসি হিলে গিয়ে শেষ হয়।

নারীদের পরনে লাল পাড় আর সাদা জমিনের সুতির শাড়ি। তার প্রায় পুরোটাজুড়েই আঁকা ঢোল, তবলা, পাখা-কতকিছু। মাথায় খোঁপায় গুঁজে রাখা ফুলের মালা। পুরুষদের পরনে লাল-সাদা পাঞ্জাবি। মাথা পেঁচানো গামছাতে। সেই দলে আছেন শিক্ষক থেকে শিক্ষার্থী সবাই। হাতে হাতে চিরন্তন বাঙলার মাছ, মাথাল, ময়ূর, পেঁচা, হাতি, পাখি। পহেলা বৈশাখকে স্বাগত জানিয়ে ঢোল-তবলার তালে তালে শোভাযাত্রায় হাঁটছেন সামনের গন্তব্যের পথে।

এতে ইনস্টিটিউটের বর্তমান শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাও যোগ দেন। ফলে মঙ্গল শোভাযাত্রা হয়ে ওঠে নতুন পুরাতনের মিলনমেলাও।

দুইদিন আগে (মঙ্গলবার) পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে ইনস্টিটিউটের প্রবেশমুখের দেয়ালে আঁকা বাংলার বিভিন্ন ঐতিহ্যের চিত্র মবিল দিয়ে নষ্ট করে দিয়েছিল দুর্বৃত্তরা। প্রতিবাদের অংশ হিসেবে ঘটনার পরের দুইদিন শিক্ষার্থীরা পাশের দেয়ালে পটচিত্র অঙ্কন করেন। বৃহস্পতিবারের শোভাযাত্রায় অবশ্য প্রত্যক্ষভাবে এই ঘটনার প্রতিবাদ না থাকলেও পরোক্ষভাবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের শারীরিক ভাষায় ছিল ক্ষোভ-প্রতিবাদ।

ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক প্রণব মিত্র চৌধুরীর বক্তব্যে তা ধরা পড়ে।

তিনি বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে দেশের শান্তি কামনায় মঙ্গল শোভাযাত্রা করেছি। এতে কোনো প্রতিবাদ ছিল না। তবে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের এবারের পহেলা বৈশাখের প্রতিপাদ্য ‘জঙ্গি নির্মূল চেতনায় শাণিত বৈশাখ’ এর আলোকে মঙ্গল শোভাযাত্রা করেছি। এই প্রতিপাদ্যেই সবকিছু চলে আসে।

কথা হয় ইনস্টিটিউটের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গেও। তারা বলেন, ‘আমাদের মনের মাঝে আছে ক্ষোভ। প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে আমরা মবিল ছিটিয়ে দেওয়া দেয়ালচিত্রগুলো অক্ষত রেখে দিয়েছি।দূর হোক যতো অশুভের ছায়া-মঙ্গল শোভাযাত্রার মাধ্যমে এটাই চাওয়া আমাদের।’