‘নন্দিত স্বদেশ নন্দিত বৈশাখ’ প্রতিপাদ্যে মঙ্গল শোভাযাত্রা

mirza imtiaz প্রকাশ:| রবিবার, ১৪ এপ্রিল , ২০১৯ সময় ০২:৪৭ অপরাহ্ণ

বর্ষবরণের মূল আযোজনের কেন্দ্র বিন্দু মঙ্গল শোভাযাত্র। নজর কেড়েছে চারুকলার মঙ্গল শোভাযাত্রা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইন্সটিটিউটের শিক্ষক-শিক্ষার্থীগণ পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে এই আনন্দ শোভাযাত্রা বের করার উদ্যোগ প্রতি বছর অব্যাহত রাখে। রোববার (১৪ এপ্রিল) সকাল ১০টায় নগরের সার্সন রোডে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে শুরু হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা। কাজীর দেউড়ী, প্রেসক্লাব, সার্সন রোড প্রদক্ষিণ করে এ শোভাযাত্রা।

নববর্ষকে স্বাগত জানিয়ে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রায় যোগ দিয়েছিলো সর্বস্তরের মানুষ। ‘নন্দিত স্বদেশ নন্দিত বৈশাখ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে  শোভাযাত্রায় ফুটে ওঠে কর্ণফুলী নদীকে বাঁচানোর আকুতি।

মঙ্গল শোভাযাত্রা প্রতি বছর বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে আয়োজিত একটি তুলনামূলকভাবে নতুন বর্ষবরণ উৎসব। বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে বাংলাদেশের ঢাকা শহরে এটি প্রবর্তিত হয়। একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ উৎসব হিসাবে সারাদেশে এটি ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে প্রতিবছরই পহেলা বৈশাখে এই মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। এই শোভাযাত্রায় চারুকলা ইন্সটিটিউটের শিক্ষক শিক্ষার্থী ছাড়াও বিভিন্ন স্তরের ও বিভিন্ন বয়সের মানুষ অংশগ্রহণ করে। শোভাযাত্রায় বিভিন্ন ধরনের প্রতীকী শিল্পকর্ম বহন করা হয়। এছাড়াও বাংলা সংস্কৃতির পরিচয়বাহী নানা প্রতীকী উপকরণ, বিভিন্ন রঙ-এর মুখোশ ও বিভিন্ন প্রাণীর প্রতিকৃতি নিয়ে হাজার হাজার মানুষ জমায়েত হয়। তবে একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশক থেকে প্রায় প্রতি জেলাসদরে এবং বেশ কিছু উপজেলা সদরে পহেলা বৈশাখে ‘‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’’ আয়োজিত হওয়ায় ‘‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’’ বাংলাদেশের নবতর সর্বজনীন সংস্কৃতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

এবারের শোভাযাত্রায় তুলে ধরা হয়েছে বিপন্ন কর্ণফুলীকে। প্রতীকী নারীর মুখাবয়বে এক কানে ছিল দুল, অন্যটি খালি। চোখে ঝরছে জল। এছাড়া বড় আকারের মাছ, নৌকা-সাম্পান, হরেক রঙের মুখোশ। শোভাযাত্রার আরো ছিলো – বিশালকায় চারুকর্ম পুতুল, হাতি, কুমীর, লক্ষ্মীপেঁচা, ঘোড়াসহ বিচিত্র মুখোশ এবং সাজসজ্জ্বা, বাদ্যযন্ত্র ও নৃত্য সকারে নানান প্রতিকৃতি নিয়ে চারুকলার সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ সর্বস্তরের মানুষ মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছেন।। পহেলা বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রা শুরু থেকেই জনপ্রিয়তা পেয়ে আসছে। পহেলা বৈশাখের দিন নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন শুরু হয় ২০০৬ সাল (১৪১৩ সন) থেকে। উদ্যোক্তা ছিল চট্টগ্রাম চারুকলা কলেজের সাবেক শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘চট্টগ্রাম চারুশিল্পী সম্মিলন’।

বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আবেদনক্রমে ২০১৬ খ্রিস্টাব্দের ৩০শে নভেম্বর বাংলাদেশের ‘‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’’ জাতিসংঘ সংস্থা ইউনেস্কোর মানবতার অধরা বা অস্পর্শনীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান লাভ করে।


আরোও সংবাদ