মগনামায় শীতবস্ত্র বিতরণ

প্রকাশ:| সোমবার, ২৩ জানুয়ারি , ২০১৭ সময় ১১:৩৫ অপরাহ্ণ

রবিবার দিনগত রাত। পেকুয়া উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৩কিলোমিটার দূরে প্রত্যন্ত এক গ্রাম বাইন্যাঘোনার সরকারী আশ্রয়ণ প্রকল্প ‘চল্লিশ ঘর’। যেখানে সমাজের ছিন্নমূল, ভূমিহীন ও অসহায়দের বসবাস।
সময় রাত ১২টা। কনকনে শীত, চারিদিকে নিস্তব্ধ নিরবতা, মাঝে মাঝে ঝিঁ ঝিঁ পোকার ডাক, একজন মানুষ নিঃশব্দে প্রবেশ করছেন একের পর এক কুঠিরে। ঘুম থেকে জাগিয়ে পরম মমতায় কুঠিরের মানুষগুলির শরীরে জড়িয়ে দিচ্ছেন শীত নিবারনের বস্ত্র।
উপকূলীয় ইউনিয়ন মগনামার ওই চল্লিশ ঘরে বসবাস করা সহজ সরল এসব খেটে খাওয়া মানুষের কাছে সংসার আর কাজের বাইরে তেমন কোন চাওয়া পাওয়া নেই।
সারাদিন লবণ মাঠে হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম আর সংসারের কাজ সেরে নুরু ও তার স্ত্রীর শত খাটাখাটুনির পরও যখন শীতের দিনে একটি কম্বল জোটে না তখন নেহায়েতই সৃষ্টিকর্তার হাতে ভাগ্য সপে দিয়েই পরিবার নিয়ে গভীর ঘুম দেয়া ছাড়া উপায় থাকে না। এমনি পরিস্থিতিতে ওই চল্লিশ ঘরের একটি ভাঙ্গা কুটিরের বাসিন্দা নুরু মিয়ার বাড়িতে রবিবার দিবাগত রাত ১২টার সময় শীতবস্ত্র নিয়ে হাজির হন মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ ওয়াসিম। এসময় তার সাথে ছিলেন স্থানীয় এমইউপি নুরুল মোহাম্মদ মাদু ও গ্রামপুলিশ সদস্যরা।
প্রথমে যখন বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ঘরের দরজায় শব্দ করে বাড়ির মানুষদের ডাকা হয়। পুলিশ কিংবা অন্য কোন ভয়ে অনেকেই তখন মুখ খুলছিলেন না। স্থানীয়দের সাহায্য নিয়ে ডেকে উঠানোর পর চেয়ারম্যানের হাত থেকে একটি কম্বল পেয়ে হাসবেন না কাঁদবেন কিছুই বুঝে উঠত পারছিলেন না তারা। এক সময় আবেগ ধরে রাখতে না পেরে ডুকরে কেঁদে উঠেন সালমা বেগম। একে একে প্রায় ৫০জন দরিদ্র মানুষের শরীরে কম্বল জড়িয়ে দেন চেয়ারম্যান ওয়াসিম।
এসময় চেয়ারম্যান কয়েকজন হতদরিদ্র মানুষকে তাদের ঘর সংস্কার করে দেয়ার আশ্বাসও দেন। একই সঙ্গে নগদ অর্থ সহায়তা দেন কয়েকজন দরিদ্র নারীকে।

এ প্রসঙ্গে মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ ওয়াসিম বলেন, সারাদিন কর্মব্যস্ততা শেষে রাতে শোবার সময় প্রচন্ড ঠান্ডা অনুভূব হলো। সেই অনুভূতি থেকে অসহায় মানুষদের শীতে কষ্টের কথা মনে হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমি শীতবস্ত্র নিয়ে বের হই। আর রাতের বেলা বের হতে পারলে তো সত্যিকারের প্রাপ্য যারা তাদেরকে খুজে পাওয়া যায় সবচেয়ে বেশী।

অপ্রত্যাশিতভাবে একটি কম্বল হাতে পেয়ে ওই গ্রামের তাহের জানান আমাদের এলাকায় কোনদিনই এ ধরণের কম্বল বিতরণ করা হয়নি। আর বাড়িতে স্বয়ং চেয়ারম্যান সাহেব এসে কম্বল দিয়ে যাবেন। এটা আমরা কেউ কল্পনাও করতে পারিনি।