‘মক্কা-মদীনার পথে-প্রান্তরে’

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর , ২০১৫ সময় ১০:০৩ অপরাহ্ণ

পাঠক খুঁজে পাবেন পবিত্র ভূমির অনন্য-সাধারণ রূপময়তা ও আনুপুর্বিক পারিপার্শিকতা

প্রফেসর ড. মুহম্মদ শামসুল আলম::

মক্কা-মদীনার পথে-প্রান্তরেহজ্ব হলো সমষ্টিগত একটি ইবাদত, আল্লাহ প্রেমিক মুসলিম উম্মাহর বিশ্ব মিলন মোহনা। ইসলাম চায় তার অনুসারীরা যাতে এই বৃহৎ সম্মিলন থেকে সরাসরি উপকৃত হয়। যার মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর আনুগত্যের মাধ্যমে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন এবং ঐক্যবদ্ধ থাকার মৌলিক প্রেরণা সদাসর্বদা মনে জাগ্রত রাখা। হজ্ব মানুষকে বর্ণ-গোত্র আর জাতিগত বৈষম্যের উর্ধ্বে ওঠার শিক্ষা দেয়। শারীরিকভাবে সক্ষম ও আর্থিক সামর্থবান প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর জন্যে হজ্ব করা ফরজ। তাই এ শর্তে মুসলমান মাত্রই হজ্ব করতে পারেন। এখানে এমন কোন বিধান নেই যে গোত্র বংশভেদে মানুষ হজ্ব করতে পারবে।
প্রতি বছর সারা বিশ্ব থেকে লাখ লাখ মুসলমান হজ্ব পালনের জন্য সমবেত হন আল্লাহর পবিত্রভুমিতে। পুরো সৌদি আরব মুখর হয়ে উঠে আল্লাহর মেহমান হজ্বযাত্রীদের পদচারণায়। বাংলাদেশ থেকেও প্রতি বছর লাখো মুসলমান হজ্বে যান। হজ্ব থেকে ফিরে অনেকেই পবিত্র নগরী মক্কা-মদীনা ও আল্লাহর ঘর খানায়ে কা’বার তাওয়াফ বা আনুষাঙ্গিক বিষয় নিয়ে অনুভব কিম্বা প্রত্যক্ষানুভুতি নিকটজন থেকে শুরু করে বন্ধু-বান্ধব আত্মীয়-স্বজনদের কাছে বর্ণনা-বিবরণ দেন। যারা হজ্বে যাবেন বা হজ্বে যাওয়ার আশা রাখেন তারা এ সম্পর্কে জানতে বেশী আগ্রহী হয়ে উঠেন। হজ্বের মতো কঠিন শারীরিক ইবাদত এবং হজ্বের যাবতীয় র্আকান-আহকাম পালন করতে গিয়ে অধিকাংশ ব্যক্তি পারস্পরিক পরিবেশÑপরিস্থিতি সম্পর্কে নিজেই ভালোভাবে অবগত হতে পারেন না। এক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী ব্রত পালন করেছেন অধ্যাপক মির্জা মুহম্মদ শহীদুল্লাহ। হজ্ব পালনের পাশাপাশি তিনি ‘তৃতীয় নয়নে’ অবলোকন করেছেন পবিত্র মক্কা মদীনার যাবতীয় সৌন্দযর্, যৌলুস, রীতি-নীতি ও পরিবেশ-পরিস্থিতি। আর তা ধারাবাহিক ভাবে প্রাঞ্জল ভাষায় তুলে ধরেছেন। যা ইতোমধ্যে পর্ব আকারে ছাব্বিশ পর্বে “দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশ” চট্টগ্রামে প্রকাশিত হয়েছে। তার স্বতঃসিদ্ধ লেখনিতে পাঠক খুঁজে পাবেন পবিত্র ভূমির অনন্য-সাধারণ রূপময়তা ও আনুপুর্বিক পারিপার্শিকতা।
অধ্যাপক মির্জা মুহম্মদ শহীদুল্লাহর ‘মক্কা-মদীনার পথে-প্রান্তরে’ বইটি একই সাথে হজ্বের অনুসঙ্গ, ইসলামী নীতি ঐতিহ্য, ইসলামের দিক নির্দেশনা, এবং ভ্রমনবৃত্তান্তের প্রাসঙ্গিক বর্ণনা। বইটির গুরুত্ব এখানেই যে, এটি কেবল ধর্মীয় বয়ান নয়, পক্ষান্তরে আবার ভ্রমন কাহিনীও নয়। এটি একই সাথে বেশ কয়েকটি বিষয়ের সমন্বিত রূপ গ্রন্থনার অপূর্ব সন্বিবেশ সমৃদ্ধ একটি বই। এ কারণে বইটি পাঠকদের একই সাথে মক্কা-মদীনা তথা পবিত্র ভুমি সম্পর্কে অনেক অজানা তথ্য জানান দেবে। মহান আল্লাহর ঘর খানায়ে কা‘বা, বিশ্ব নবী (সঃ)র রওজা মোবারক ও তাঁর সাহাবীদের মাজার, তাবেইন, তবেতাবেইনদের জীবনের ঘটনা প্রবাহ, নির্দেশনা এবং ইসলামের ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোকে পরিচয় করিয়ে দেবে এক অনির্বচনীয়তায়।
বইটির সার্বিক মূল্যায়ন বিশ্লেষনে শুধু এটুকুই বলবো, অধ্যাপক মির্জা মুহম্মদ শহীদুল্লাহর লেখা পাঠককে একদিকে যেমন করবে আলোড়িত,তেমনি অন্যদিকে পাঠক পাবে ভাষা শৈলীতায় মুগ্ধতার মাঝে হজ্ব ও মক্কা-মদীনার আদি-অন্তে হৃদয়ের তৃষ্ণা মেটানোর এক ভিন্ন অনুপম নৈসর্গিকতা। এমন এক তথ্য বহুল প্রয়াসের ব্যতিক্রম ধর্মী গ্রন্থ “মক্কা-মদীনার পথে-প্রান্তরে” লিখে আগামীর হজ্ব যাত্রীদের পথ প্রদর্শনের জন্য লেখক চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা অধ্যাপক মির্জা মুহম্মদ শহীদুল্লাহর জন্যে রইলো অজ¯্র মোবারকবাদ। আল্লাহ আমাদের সহায় থাকুন।
লেখক- সভাপতি, বাংলা বিভাগ, উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা  ও সাবেক সভাপতি, বাংলা বিভাগ , চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।