মঈনউদ্দিন খান বাদলের বিরুদ্ধে বোয়ালখালীতে শ্মশানের জমি দখলের অভিযোগ

প্রকাশ:| বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি , ২০১৪ সময় ০৮:০২ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম-৮ সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও জাসদের কার্যকরি সভাপতি মঈনউদ্দিন খান বাদলের বিরুদ্ধে বোয়ালখালীতে একটি শ্মশানের জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগে বলা হয়, পুলিশ-প্রশাসনের সহযোগিতায় উপজেলার কড়লডেঙ্গা বৌদ্ধদের আর্য্যভাবনা কুটির মহাশ্মশান কমপ্লেক্সের জমি এমপি বাদল দখলে নিয়ে সাইনবোর্ড টানিয়ে দিয়েছেন।

বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ‘আর্য্যভাবনা কুটির’ এর প্রধান সমন্বয়ক রঞ্জিত কুমার বড়ুয়া এ অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, ‘মহাজোটের স্থানীয় সংসদ সদস্য মঈনউদ্দিন খান বাদল বৌদ্ধ মন্দিরের শ্মশানের জায়গায় ডাকবাংলো ও পুলিশের ট্রেনিং সেন্টার নির্মাণের জন্য ২ একর জায়গা চান। জমি না পেয়ে প্রশাসনকে ব্যবহার করে গত ১২ ফেব্রুয়ারি একটি উচ্ছেদের নোটিশ দেয়া হয়। এতে আর্য্যভাবনা কুটির মহাশ্মশান কমপ্লেক্সকে অবৈধ দখল বলে উল্লেখ করে ৭ দিনের মধ্যে ছেড়ে দিতে নির্দেশ দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)।’

তিনি বলেন, ‘১৮ শতকের পুরোনো এই মহাশ্মশান কমপ্লেক্সের জমি দখলে নেয়ার জন্য জেলা প্রশাসনকে দিয়ে আর্য্যভাবনা কুটির’ পরিচালনা কমিটিকে নোটিশ দেয়া হয়েছে। ভাবনা কুটির মহাশ্মশান কমপ্লেক্সের জমি ছেড়ে দেয়ার জন্য মঈনউদ্দিন খান বাদল ও তার বাহিনী বোয়ালখালী থানার ওসিকে দিয়ে নানা রূপে চাপ সৃষ্টি করছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে এই সময় উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতির চেয়ারম্যান অজিৎ রঞ্জন বড়ুয়া, অ্যাডভোকেট জয়শান্ত বিকাশ বড়ুয়া, অমল চৌধুরী, গৃহবর্ধণ বড়ুয়া, তনিশেন বড়ুয়া, অ্যাডভোকেট সুজন কুমার বড়ুয়া ও প্রভাষ চন্দ্র বড়ুয়া প্রমুখ।

বৌদ্ধ সমিতির চেয়ারম্যান অজিৎ রঞ্জন বড়ুয়া জবাবে বলেন, ‘সংসদ মঈনউদ্দিন খান বাদল নিজে সরাসরি কয়েকবার আর্য্য ভাবনা কুটির মহাশ্মশান কমপ্লেক্সকে গিয়ে ডাকবাংলো করার জন্য জমি চেয়েছেন। বৌদ্ধদের এই পবিত্রস্থানে ডাকবাংলো করার জন্য জমি না পেয়ে জের করে প্রশাসনকে দিয়ে আর্য্য ভাবনা কুটির মহাশ্মশান কমপ্লেক্স উচ্ছেদের জন্য নোটিশ দিয়েছে। এটা পুরোপুরি বেআইনি। আমরা এটার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই।’

এসময় সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করে তিনি বলেন, ‘মহাজোট সরকারের অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে কালিমাযুক্ত করতেই স্থানীয় সংসদ সদস্য ভূমি দস্যুতায় মেতে উঠেছেন। শত শত বছরের পুরোনো ভাবনা কুটির, বৌদ্ধ মন্দিরের শ্মশানের সম্পত্তি বেআইনিভাবে দখল করে ডাকবাংলো ও পুলিশের ট্রেনিং সেন্টার নির্মাণ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এতে সম্প্রীতি বিনষ্ট হবে, বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর মৃতদেহ সৎকারে দুর্ভোগ বাড়বে।’


আরোও সংবাদ