ভোট বর্জন করে কেন্দ্র দখলের জবাব

প্রকাশ:| সোমবার, ৩১ মার্চ , ২০১৪ সময় ০৬:১৪ অপরাহ্ণ

কেন্দ্র দখল করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের ভোট প্রদানসহ নানা অনিয়মের মধ্য দিয়ে আজ সোমবার পঞ্চম দফায় উপজেলা নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। নির্বাচন-পূর্ববর্তী সহিংসতায় আজ ভোররাতে লক্ষ্মীপুর সদরের উত্তর দুর্গাপুর গ্রামে যুবলীগের এক নেতা গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। আওয়ামী লীগের নেতা ও পৌর মেয়র আবু তাহেরের ছেলের পক্ষে এখানে ভোট জালিয়াতির মচ্ছব চলে।

এই দফায় ৩৪টি জেলার ৭৩টি উপজেলার নির্বাচনে অন্তত ১০টি জেলায় নানা অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ভোট গ্রহণে অনিয়ম ও কারচুপির প্রতিবাদে জামালপুর, টাঙ্গাইল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, পটুয়াখালী, ময়মনসিংহ, চুয়াডাঙ্গা, বরগুনা, কিশোরগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জে বিএনপি-সমর্থিত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীসহ ৫৮ জন প্রার্থী নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। বরগুনা, রাঙামাটি ও লক্ষ্মীপুরে ১০টি ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।

আমাদের প্রতিবেদক, প্রতিনিধি ও আঞ্চলিক কার্যালয়ের পাঠানো খবর:

তাহেরের এলাকায় যুবলীগের নেতা নিহত, ব্যাপক ভোট জালিয়াতি
লক্ষ্মীপুর সদরের দীঘলি ইউনিয়নের উত্তর দুর্গাপুর গ্রামে কবির হোসেন (৩০) নামের যুবলীগের একজন নেতা ভোররাত সাড়ে তিনটার দিকে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। তিনি দীঘলি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ছিলেন।
জেলার সদর উপজেলায় জালিয়াতির মধ্য দিয়ে ভোট নেওয়া চলে। বেলা দুইটার মধ্যেই প্রায় সব কেন্দ্রে ভোট নেওয়া শেষ হয়। আওয়ামী-সমর্থিত প্রার্থী পৌর মেয়র আবু তাহেরের ছেলে এ কে এম সালাউদ্দিন টিপুর সমর্থকেরা কেন্দ্র দখল করে ভোট জালিয়াতি করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রায় প্রতিটি কেন্দ্রেই দখলের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের কোনো এজেন্টকে কোথাও দেখা যায়নি। তবে কয়েকটি কেন্দ্রে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীর কর্মীরা সহিংসতার মাধ্যমে ভোট জালিয়াতি প্রতিরোধের চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তত্পরতায় তাঁরা ব্যর্থ হন। প্রশাসনকেও তাহেরপুত্র টিপুর পক্ষে নির্লজ্জ পক্ষপাতিত্ব ও সহযোগিতা করতে দেখা গেছে।

নয় জেলায় ৫৮ প্রার্থীর ভোট বর্জন
ক্ষমতাসীন দল-সমর্থিত প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের ভোটকেন্দ্র দখল করে নানা অনিয়মের প্রতিবাদে জামালপুরের মাদারগঞ্জে বিএনপি-সমর্থিত একজন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, টাঙ্গাইলের ঘাটাইল ও সদরে বিএনপি, জাতীয় পার্টি (জাপা), স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ ১১ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় বিএনপি ও জাপা-সমর্থিত প্রার্থীসহ চারজন, পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সাতজন, ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে বিএনপি-সমর্থিত একজন, চুয়াডাঙ্গা সদর ও আলমডাঙ্গায় ১১ জন, বরগুনার পাথরঘাটা, আমতলী ও বামনা উপজেলায় ২০, কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে একজন এবং নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে দুজন প্রার্থী নির্বাচন বর্জন করেছেন।

তিন জেলায় ১০টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত
আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থীর লোকজন ব্যালট ছিনতাই করে বাক্স ভর্তি করার অভিযোগে বরগুনার আমতলী উপজেলার ছয়টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। কেন্দ্রগুলো হচ্ছে গুলিশাখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উত্তর-পূর্ব কলাগাছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কলাগাছিয়া জনতা কে এইচ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আঙ্গুলকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খেকুয়ানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ঘটখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
জাল ভোট দেওয়া ও ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের ঘটনায় রাঙামাটি সদর উপজেলার সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়।

সংঘর্ষের কারণে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার তিনটি কেন্দ্র, দত্তপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম করইতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দীঘলি ইউনিয়নের পশ্চিম জামিরতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও হাজিরপাড়া ইউনিয়নের উত্তর চন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।
সূত্র-প্রথম আলো