ভোট জালিয়াতির ঘোষণা আ.লীগ সাংসদের!

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ২ জানুয়ারি , ২০১৪ সময় ১০:২০ অপরাহ্ণ

মাঠ যেন ফাঁকা না হয়ে যায়। একশ’ ছেলে থাকবে প্রতিটি কেন্দ্রে। ওরা বুথে যাবে, আবার এসে পেছনে দাঁড়াবে। ওরা বাড়ি যাবে না। একশ’ ছেলে সবসময় লাইনে থাকবে। এভাবে বুথে যাবে, আবার আসবে। লোক ও সাংবাদিকরা আসবে দেখবে যে মাঠ ভরা।

যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনিরুল ইসলামকে জয়ী করতে এভাবে ঘুরে ফিরে ওই একশ জনকেই ব্যালটে সিল মারার নির্দেশ দিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শেখ আফিল উদ্দিন এমপি। তাও আবার সদর্পে মাইকিং করে ঘোষণা দিচ্ছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী।

গত ৩০ ডিসেম্বর ঝিকরগাছা উপজেলার পারবাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পোলিং এজেন্টদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে শেখ আফিল এমপি ওই বক্তব্য দেন। সেখানে তার বক্তব্য রেকর্ড করা হয়। সভায় মনিরুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।

শেখ আফিল এমপি যশোর-১ আসনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পাশের সংসদীয় আসনে এ ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কথা বলেন। তার ভোট জালিয়াতির পরিকল্পনা ঘোষণা করে দেয়া বক্তব্যে অডিও টেপ ও সিডি হস্তান্তর করে জেলা রিটার্নিং অফিসারের কাছে অভিযোগ করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম।

যশোর জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মোস্তাফিজুর রহমান অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বাংলামেইলকে জানান, ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটির কাছে অভিযোগটি পাঠানো হয়েছে।

যশোর-২ আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন মনিরুল ইসলাম মনির। মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী রফিকুল ইসলাম এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন কলস প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে। এছাড়া জাপা (মঞ্জু) থেকে বিএম সেলিম রেজা বাইসাইকেল প্রতীকে নির্বাচন করছেন।

বিদ্রোহী প্রার্থী ও জাপার নেতা প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীর অবস্থা নড়বড়ে। তাই তার আত্মীয় শার্শার এমপি শেখ আফিল উদ্দিন ভোটকেন্দ্র দখল ও ভোট জালিয়াতির প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি শার্শা সংলগ্ন ছয়টি ইউনিয়নের ভোটকেন্দ্র দখল ও নিজস্ব লোক দিয়ে শতভাগ ভোট কাস্টিংয়ের পরিকল্পনা করেছেন।

ঘটনাটি গত ৩০ ডিসেম্বরের। পারবাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পোলিং এজেন্টদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি উপস্থিত হন। সেখানেই ভোট জালিয়াতির পরিকল্পনা এজেন্টের কাছে তুলে ধরেন। সভায় প্রার্থী মনিরুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।

ওই সভায় আফিল এমপি বলেছিলেন, ‘প্রতিটি কেন্দ্রে তার উপজেলা থেকে ১০০ নির্ভীক কর্মী উপস্থিত থাকবে। তারা ভোট দিয়ে আবার লাইনে এসে দাঁড়াবে এবং বার বার ভোট দেবে। এভাবে সারাদিন তারা ভোট দিয়ে যাবে। প্রশাসনের কোনো ভয় নেই, সেটা তিনি (আফিল উদ্দিন) দেখবেন।’

এদিকে এমপির এ ধরনের পরিকল্পনার খবরটি ফাঁস হয়ে যাওয়ায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। তার এ বক্তব্যের অডিও সর্বত্র পাওয়া যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, যশোর-২ আসনে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৮৪৮ জন।