ভোগান্তীতে চোখে জল

প্রকাশ:| বুধবার, ১ জুলাই , ২০১৫ সময় ০৮:৩০ অপরাহ্ণ

কান্নারত শিক্ষার্থীসকাল ১০টা। রাজধানীর মিরপুরের মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণ। একদল শিক্ষার্থী হাসিমুখে নতুন পোশাক পড়ে প্রবেশ করছে কলেজে, আরেকদল ভর্তি জটিলতায় বাইরে ঠাঁই দাঁড়ানো। ফলে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের মুখে হাসি আর ভোগান্তীতে পড়াদের চোখে জল।

শিক্ষার্থীদের এমন হাসি-বেদনার মধ্য দিয়ে বুধবার থেকে সারাদেশে শুরু হয় ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণীর ক্লাস। শিক্ষাপঞ্জিকে অক্ষয় রাখতেই ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার আগেই তড়িগড়ি করে ক্লাস শুরু করতে হয় রাজধানীর কলেজগুলোকে।

তবে বিভিন্ন কলেজ ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগেই ঠিক মতো ক্লাস হয়নি। ক্লাসে কিছু কথাবার্তা বলেই ছুটি দিয়ে দেয়া হয়। বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই নিজেদের মধ্যে খোশগল্প করে আর ভর্তি হতে না পারা সহপাঠীদের খোঁজ নিয়ে কলেজ জীবনের প্রথম দিনটি কাটিয়েছে।

এদিকে বেশিরভাগ কলেজেই চলছে ভর্তি কার্যক্রম। তবে নতুন অর্থবছরের প্রথাম দিন হওয়ায় আজ ব্যাংক বন্ধ ছিল। ফলে অনেক কলেজেই ভর্তি প্রক্রিয়াও বন্ধ ছিল। আগামীকাল ২ জুলাই বিলম্ব ফি ছাড়া ভর্তি হওয়ার শেষ দিন। আর ৬ জুলাই প্রকাশ করা হবে দ্বিতীয় মেধাতালিকা।

ভর্তি কার্যক্রম শেষ করে ভিকারুননিসা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ অনেক কলেজই বুধবার থেকে ক্লাস শুরু করেনি। ঈদের ছুটির পর থেকেই ক্লাস শুরু করবেন বলে বাংলামেইলকে জানিয়েছেন ভিকারুননিসা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সুফিয়া খাতুন।

তিনি বলেন, ‘সরকারের এ ধরনের নির্দেশনা থাকলেও ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় ক্লাস শুরুর বিষয়টিকে মেনে নেয়া হয়নি। প্রথম দিনের ক্লাস থেকে কোনো শিক্ষার্থীকেই বঞ্চিত করতে চাই না।’

এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘আমাদের শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী বুধবার থেকে ক্লাস শুরু হয়েছে। যারা ভর্তি হয়েছেন তারাই ক্লাস করছেন। ভর্তি হওয়ার পর অন্যরাও ক্লাস শুরু করবেন।’

একাদশ শ্রেণীর নতুন ক্লাস শুরুর প্রসঙ্গে মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘সকাল ১০টায় ক্লাস শুরু হয়। ৮০ শতাংশ উপস্থিতিতে দুইটি ক্লাস শেষে নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ছুটি দিয়ে দেয়া হয়েছে।’

ভর্তি কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ৩০০ করে মোট ৬০০টি আসন রয়েছে আমাদের কলেজে। এর মধ্যে প্রথম মেধাতালিকায় ২৫০ জনকে মনোনীত করা হয়েছে। যাদের মধ্যে ভর্তি হয়েছে ১০০ জন। এদেরকে নিয়েই ক্লাস শুরু হয়েছে। তবে বিগত বছর প্রথম ক্লাসের দিন কাণায় কাণায় পূর্ণ ছিল, এবার তার ব্যত্যয় ঘটেছে।’

অনলাইন ভর্তি পদ্ধতিকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা অবশ্যই ভালো পদ্ধতি। তবে হঠাৎ করে করাই কিছু ভোগান্তী হয়েছে। অবশ্য ৬ মাস আগে থেকে এ কার্যক্রম নিয়ে কাজ শুরু করলে সুফল পাওয়া যেতো।’

ঢাকা সিটি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক শাহজাজান খান বাংলামেইলকে বলেন, ‘প্রথম মেধাতালিকা অনুযায়ী এখনো আমাদের এখানে ১৯৮টি আসন ফাঁকা রয়েছে। আমাদের এখানে ২ হাজার ৯৫০টি আসন রয়েছে। এর মধ্যে ব্যবসায় শিক্ষায় ১৬০০, বিজ্ঞানে ১২০০ ও মানবিকে ১৫০টি আসন রয়েছে। যেখানে ১৩৩৭টি আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। ভর্তি কার্যক্রম চলমান থাকলেও ব্যাংক বন্ধ থাকায় আজকে (বুধবার) কাউকে ভর্তি করা যায়নি।’

ক্লাস শুরুর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী বুধবার থেকে সিটি কলেজে ক্লাস শুরু হয়েছে। সকালে মেয়েদের ও দুপুরে ছেলেদের শিফটে ৫টি করে ক্লাস হয়েছে। প্রথম ক্লাসে অর্ধেকের মতো উপস্থিতি ছিল।’

অনলাইন পদ্ধতির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অনলাইন পদ্ধতিকে আামি স্বাগত জানাই। তবে এটিকে আরো আধুনিক করতে হবে। গতবার ভর্তির অনেক চাপ ছিল, এবার তার উল্টো দৃশ্য। তবে আশা করছি, নির্ধারিত সময়ে আসন পূর্ণ হয়ে যাবে।’

ঢাকা কলেজে বুধবার থেকে ক্লাস শুরু হয়নি। তবে ছাত্রদের উপস্থিতিতে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কলেজটিতে বাংলা ও ইংরেজি ভার্সন মিলিয়ে ১ হাজার ১৫০টি আসন রয়েছে। ইতোমধ্যেই অধিকাংশ আসনে ভর্তি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপাধ্যক্ষ মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন মোল্লা। তিনি বাংলামেইলকে বলেন, ‘বুধবার ক্লাস হয়নি, তবে ছোট করে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ৫০ শতাংশ ছাত্র উপস্থিত ছিল। পরে বড় করে আবারো নবীনবরণ হবে।’

মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে বুধবার থেকে একাদশ শ্রেণীর ক্লাস শুরু হয়েছে। তবে মাত্র ৩টি করে ক্লাস হয়েছে। কলেজটির অধ্যক্ষ শাহান আর বেগম বলেন, ‘আমাদের এখানে প্রায় দেড় হাজারের মতো আসন রয়েছে। যার মধ্যে প্রায় ৮০০ শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছ।’

উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ড. উম্মে সেলিনা বেগম বলেন, ‘পরিচিতি পর্বের মধ্যেই আমরা ক্লাস শুরু করেছি। ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়া হয়েছে নতুন শিক্ষার্থীদের।’

এদিকে অনলাইন জটিলতার কারণে এখনো পর্যন্ত ভর্তি কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি ধানমণ্ডির নূর হোসেন কলেজ, মিরপুর বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মিরপুরের শহীদ আবুল তালেব কলেজ, মিরপুরের হারুন মোল্লাসহ আরো অনেক কলেজ।