ভোগান্তির শিকার হচ্ছে ভূমি নিয়ে

প্রকাশ:| শুক্রবার, ১ এপ্রিল , ২০১৬ সময় ১০:৫৫ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন বলেছেন, ‘দেশে মানুষ যত হয়রানি বা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে তার অধিকাংশই ভূমি নিয়ে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভূমি জটিলতা নিরসনে ডিজিটালাইজড পদ্ধতি চালু করেছে। তাই এখন থেকে ভূমি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে মানুষের ভোগান্তি কমাতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সেবার মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে।’
ভূমি নিয়ে
শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে জেলা প্রশাসন আয়োজিত ‘ভূমি সেবা সপ্তাহ-২০১৬’ উদযাপন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ভূমির নামজারী আবেদন পাওয়ার পর প্রথমে দলিলসহ সংশ্লিষ্ট ডকুমেন্ট যাচাই করে তা সঠিক থাকলে বিষয়টির ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়কে নোটিশ দিয়ে জানাতে হবে এবং আবেদনকারী বা তার প্রতিনিধি তহশিলদারের কাছে নয়, সরাসরি সহকারি কমিশনারের (ভূমি) কাছে গিয়ে মূল ডকুমেন্টগুলো উপস্থাপন করবে। এরপর প্রয়োজনে সহকারী কমিশনারের নির্দেশে ভূমি সহকারী বা তহশিলদার নিজে গিয়ে নামজারীর জন্য আবেদনকৃত ভূমি সরেজমিনে পরিদর্শন করে আসবে। সকল প্রকার দলিলপত্র সঠিক থাকলে নগরীতে ৬০ দিন ও মফস্বল এলাকায় ৪৫ দিনের মধ্যে নামজারীর কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। তামিলের বিষয়ে সহকারী কমিশনারকে মূখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে। ভূমি সংক্রান্ত বিষয়ে মানুষকে ভোগান্তিতে না ফেলে স্বচ্ছতা ও দক্ষতার সাথে কাজ করে যেতে হবে।

জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ভূমি তহশিল অফিসে দালালদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি, ভূমি সহকারী ও অন্যান্য কর্মচারীরা সঠিক সময়ে অফিসে না পৌঁছা এবং ভূমি করের নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ নিত্যদিনের। এখন থেকে এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে কোন ছাড় নেই এবং যে কোন উপায়ে ভূমি ও তহশিল অফিস দালাল মুক্ত করতে হবে। কেননা আমরা কেউ জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে নই। মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে ভাল-মন্দ প্রত্যেক কাজের জবাব দিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, খাস জমি বন্দোবস্ত দেয়ার আগে দেখতে হবে এটি নিষ্কন্টক কিনা। যদি খাস জমি অবৈধ দখলে থাকে তা উচ্ছেদের ব্যবস্থা করে সরকারের দখলে নিয়ে আসতে হবে। এরপরে বন্দোবস্তের জন্য ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। তিনি ভূমি রেকর্ড হালনাগাদ ও সংরক্ষণসহ চলতি মাস থেকে ইউনিয়ন ভূমি অফিস এবং সার্কেল ভূমি অফিসে গণশুনানির উপর গুরুত্বারোপ করেন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. দৌলতুজ্জামান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় ভূমি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আব্দুল জলিল, সরকারি উকিল (জিপি) নজমুল আহসান খান ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. সাহাব উদ্দিন। ভূমি সেবা সপ্তাহের আলোচনা সভায় সহকারী কমিশনার (ভূমি), নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, কানুনগো, ভূমি সহকারী, রেকর্ড কিপার ও ভূমি সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের সহকারীগণ উপস্থিত ছিলেন।