ভোক্তা আস্থাসূচকে বাংলাদেশের রেকর্ড

প্রকাশ:| শনিবার, ১৮ অক্টোবর , ২০১৪ সময় ০৯:০৭ অপরাহ্ণ

mastercard20141018195448অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলেও এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসগরীয় অঞ্চলের ভোক্তারা এখন তাদের দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা তুলনামূলক ভালো থাকায় প্রবল আশাবাদী। সে জন্য বাংলাদেশি ভোক্তাদের আস্থাসূচক সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পাওয়ার রেকর্ড গড়েছে।

মাস্টারকার্ডের প্রকাশিত কনজ্যুমার কনফিডেন্স ইনডেক্স বা ভোক্তা আস্থাসূচক জরিপে এমন চিত্রই উঠে এসেছে।

জরিপে উঠে আসে, এদেশে ভোক্তার আস্থাসূচক চলতি ২০১৪ সালে ৬৬ দশমিক ৪ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। আগের বছর ২০১৩ সালে এই সূচক ছিল ৪০ দশমিক ৫ পয়েন্ট।

মাস্টারকার্ডের এই জরিপে অংশগ্রহণকারীদের প্রশ্ন করা হয়েছিল, নিজ নিজ দেশের পাঁচটি অর্থনৈতিক উপাদানের ক্ষেত্রে পরবর্তী ছয় মাসের পূর্বাভাস বা গতিপ্রকৃতি কেমন হবে। উপাদানগুলো হচ্ছে অর্থনীতি, কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা, নিয়মিত আয়ের সম্ভাবনা, পুঁজিবাজার ও জনগণের জীবনমান। জরিপে ভোক্তা আস্থাসূচকটিকে যেভাবে মূল্যায়ণ করা হয়, তাতে জিরো বা শূন্য সবচেয়ে নৈরাশ্যজনক, ১০০ পয়েন্টকে সর্বোচ্চ আশাবাদ এবং ৫০ পয়েন্টকে নিউট্রাল বা নিরপেক্ষ বলে ধরা হয়।

তবে এই সূচক বা এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে যেসব তথ্য উঠে এসেছে সেটা মাস্টারকার্ডের নিজস্ব আর্থিক পারফরম্যান্স বা কার্যক্রমের চিত্র নয়।

জরিপে প্রাপ্ত উল্লেখযোগ্য ফলাফল :
সম্মিলিতভাবে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বাজারগুলো নিয়ে বেশ আশাবাদ রয়েছে। এই অঞ্চলের কনজ্যুমার কনফিডেন্স ইনডেক্স বা ভোক্তা আস্থাসূচক বেড়ে গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। চলতি ২০১৪ সালের প্রথমার্ধে এই অঞ্চলের সূচক ৬ দশমিক ৯ পয়েন্ট বেড়ে ৬৮ দশমিক ৩ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে, যা ২০১৩ সালের দ্বিতীয়ার্ধে ছিল ৬১ দশমিক ৫ পয়েন্ট।

এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ১৬টি বাজারের মধ্যে ১২টিতে এ জরিপ করা হয়। এতে দেখা যায়, প্রতিটি বাজারেই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বা মনোভাব (সেন্টিমেন্ট) যেমন বিরাজ করছে তেমনি কনজ্যুমার কনফিডেন্স বা ভোক্তাদের আস্থায়ও সামান্য কিংবা উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটেছে। এর মধ্যে জরিপে চারটি বাজার নিউট্রাল বা নিরপেক্ষ সীমা তথা ৫০ পয়েন্ট অতিক্রম করে নিউট্রাল বা নিরপেক্ষ অবস্থানে আছে। তবে ১৬টি বাজারের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়াই কেবল ৫০ পয়েন্টের নিউট্রাল বা নিরপেক্ষ সীমার নিচে রয়ে গেছে।

দেশওয়ারি প্রাপ্ত ফলাফল:
তাইওয়ানে ভোক্তা আস্থাসূচক বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এশীয় দেশ তাইওয়ানে ভোক্তা আস্থা সূচক ২৪ দশমিক ৬ পয়েন্ট বেড়েছে। দেশটিতে ২০১৪ সালের প্রথমার্ধে এই সূচক ৫৭ দশমিক ৬ পয়েন্টে উঠেছে। গত ২০১৩ সালের দ্বিতীয়ার্ধে এটি ছিল ৩৩ পয়েন্টে।

অন্যান্য উল্লেখযোগ্য বাজারসমূহ : মাস্টারকার্ডের ভোক্তা আস্থাসূচকে আরো কয়েকটি দেশে দুই অংকের প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

এর মধ্যে থাইল্যান্ডে ১৪ দশমিক ৬ পয়েন্ট বেড়ে এ বছরের প্রথমার্ধে ৮৬ দশমিক ৬ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে, যা ২০১৩ সালের দ্বিতীয়ার্ধে ছিল ৭২ পয়েন্ট।

সিঙ্গাপুরে ১৩ দশমিক ২ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৪ সালের প্রথমার্ধে ৬০ দশমিক ৬ পয়েন্টে উঠেছে, যা ২০১৩ সালের দ্বিতীয়ার্ধে ছিল ৪৭ দশমিক ৪ পয়েন্ট।

ইন্দোনেশিয়ায় ২০১৪ সালের প্রথমার্ধে সূচকটি ১১ দশমিক ৩ পয়েন্ট বেড়ে ৯৪ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে, যেটি ২০১৩ সালের দ্বিতীয়ার্ধে ছিল ৮২ দশমিক ৮ পয়েন্ট।

নিউজিল্যান্ডে এই সূচক ১০ দশমিক ৮ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে চলতি বছরের প্রথমার্ধে ৬৫ দশমিক ৮ পয়েন্ট হয়েছে। ২০১৩ সালের দ্বিতীয়ার্ধে এটি ছিল ৫৫ পয়েন্ট।

মায়ানমার, ইন্দোনেশিয়া ও ভারত: এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ভোক্তা আস্থাসূচক অর্জন করেছে মায়ানমার। দেশটির সূচক দাঁড়িয়েছে ৯৪ দশমিক ১ পয়েন্টে। ৯৪ পয়েন্ট নিয়ে ইন্দোনেশিয়া দ্বিতীয় ও ৮৯ দশমিক ১ পয়েন্ট পেয়ে ভারত তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ায় সবচেয়ে বেশি অবনতি : মাস্টারকার্ডের ২০১৪ সালে ভোক্তা আস্থাসূচকে সবচেয়ে বেশি অবনতি ঘটেছে অস্ট্রেলিয়ার। এ বছরের প্রথমার্ধে দেশটিতে ভোক্তা আস্থাসূচক কমে ৩৭ দশমিক ২ পয়েন্টে নেমে এসেছে, যা ২০১৩ সালের দ্বিতীয়ার্ধে ছিল ৪৯ দশমিক ২ পয়েন্ট।

ইউরোপ, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মাস্টারকার্ড অ্যাডভাজরসের কোয়ালিটি অ্যান্ড রিসোর্স ম্যানেজমেন্টের হেড অব ডেলিভারি পিয়েরে বারেট এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বাজারসমূহ ১০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে এবারে ভোক্তা আস্থাসূচকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠে এসেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ ও তাইওয়ানের মতো বাজারগুলোতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হওয়ার সুবাদে ভোক্তাদের সেন্টিমেন্ট বা আস্থায় সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি ঘটেছে।’

মাস্টারকার্ড চলতি ২০১৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এই জরিপ পরিচালনা করে। এতে মোট ১২ হাজার ৫৭৪ জন উত্তরদাতা মতামত দেন। এসব উত্তরদাতাদের বয়স সর্বনিম্ন ১৮ থেকে সর্বোচ্চ ৬৪ বছর। এটি হলো ৪৩ তম কনজ্যুমার কনফিডেন্স ইনডেক্স বা ভোক্তাসূচক জরিপ। ১৯৯৩ সাল থেকে এই জরিপ পরিচালিত হচ্ছে।