ভেলায় ভেসে এলো আরও ১৩২ রোহিঙ্গা

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ৯ নভেম্বর , ২০১৭ সময় ১০:০৬ অপরাহ্ণ

কায়সার হামিদ মানিক,উখিয়া।
মিয়ানমার থেকে ফের ভেলায় ভেসে বাংলাদেশে এলো আরও ১৩২ রোহিঙ্গা। গত দুইদিনে ভেলায় ভেসে ১৮৬ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকেছে। ভেলায় ভেসে রোহিঙ্গাদের দুইটি দল নাফ নদ পাড়ি দিয়ে এপারের সীমান্তে প্রবেশ করেছে।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬ টার দিকে রাখাইনের ধাওনখালী চর থেকে তারা রওনা দেন। প্রায় চার ঘণ্টা নাফ নদে ভেলায় ভেসে সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাটে ৭০ জন রোহিঙ্গার একটি দল পৌছায়। এরপর আধা ঘণ্টার ব্যবধানে অপর এক ভেলায় করে ৬০ জন রোহিঙ্গার দল শাহপরীর দ্বীপ জালিয়া পাড়ায় পৌছায়।
এতে ৬১ জন শিশু, ৪০ নারী ও ৩১ জন পুরুষ রয়েছে। এছাড়া সকাল ৯ টার দিকে রোহিঙ্গা দুই যুবক প্লাস্টিক জারিকেন নিয়ে সাঁতরিয়ে শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাটে আসে। এসব রোহিঙ্গাদের স্থানীয় বিজিবি উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে রেখেছে।
অন্যদিকে একইদিন ভোর রাতে নৌকায় শাহপরীর দ্বীপ জালিয়া পাড়া সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টাকালে শাহপরীর দ্বীপ বিওপি বিজিবি টহলদলের অভিযানে ১৬২ রোহিঙ্গাসহ দুইটি নৌকা জব্দ করে। এতে ৮৩ শিশু, ৪১ নারী ও ৩৮ পুরুষ রয়েছে। সব মিলিয়ে ২৯৪ জন রোহিঙ্গা নারী, শিশু ও পুরুষ বিজিবির হেফাজতে রয়েছে।
এদিকে শাহপরীর দ্বীপ বিওপি বিজিবির কোম্পানি কমান্ডার আব্দুল জলিল জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে হেফাজতে থাকা রোহিঙ্গাদের পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
ভেলায় চড়ে আসা রাসিডং সাইনদং এলাকার রোহিঙ্গা হোসন শরীফ জানান, রাখাইনের বুসিডং ও সিন্দিপ্রাং এলাকা থেকে তারা এসেছেন। রাখাইনে সেনার চাপের মুখে ঘরে বন্দি জীবনে অতিষ্ট হয়ে পালিয়ে আসতে এক মাস আগেই ঘর ছেড়ে রাখাইনের ধাওনখালী চরে এসে অবস্থান নেয়। কিন্তু সেখান থেকে বাংলাদেশ ঢুকতে নৌকা বা কোনো বাহন না পেয়ে তারা হতাশ হয়ে যায়। এর আগেও ৬১ জন যুবক জারিকেন বুকে নিয়ে নাফ নদী সাঁতরিয়ে বাংলাদেশে ঢোকে। তারা রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের এপারে পৌঁছাতে প্লাস্টিক জারিকেনে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে ভেলা তৈরি করে। নাফ নদ পাড়ি দিতে সেই ভেলায় ওঠেন রোহিঙ্গারা।
আরেক রোহিঙ্গা রাসিডং সাইনদং এলাকার জুহারা খাতুন বলেন, সেখানে সেনা ও মগদের কারণে কিছুই করতে পারছিনা। এরা ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়। অর্থের অভাবে এতদিন আসতে পারিনি। কোনো উপায় না পেয়ে ভেলায় চেপে চলে এলাম।
বুচিদং সিনদং এলাকার রোহিঙ্গা হাসান বলেন, মিয়ানমার সেনারা ঘরবাড়ি থেকে বের হতে দিচ্ছেনা। ক্ষেতের ধান কাটতে বাধা দিচ্ছে। এছাড়া বাজারে যাওয়া ও স্বাভাবিক চলাচলেও বাধা দিচ্ছে। এনভিসি কার্ড নিতে বাধ্য করা হবে। সেই কার্ডধারী ৪০ হাজারের অধিক কিয়েট আয় করলেও তা তাদের দিয়ে দিতে হবে। তাই অসহায় ও নিরুপায় হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে ধাওনখালী চরে গত ২০ দিন ধরে এসে অপেক্ষা করছেন। সেখানে তাবু করে এতদিন নৌকার জন্য অপেক্ষায় ছিলাম। এখনো ধাওনখালী চরে ১৫ হাজারের মত রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে অপেক্ষা করছেন বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘খাদ্যের মজুদ যা ছিল তা শেষ হয়ে গেছে, চিকিৎসার অভাবে শিশুরা নানা রোগে ভুগছেন। চোখের সামনে অসুস্থ শিশু ও মা বোন মাটিতে গড়াচ্ছিল। কিন্তু গত দুই সপ্তাহ ধরে কোনো নৌকা পাচ্ছিলাম না। মাঝেমধ্যে দু’একটা নৌকা ধাওনখালী সীমান্তে গেলেও অতিরিক্ত ভাড়া দিতে না পারায় নৌকায় ওঠা হয়নি।’