ভেজাল মুক্ত, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার তাগিদ

প্রকাশ:| শনিবার, ৩ সেপ্টেম্বর , ২০১৬ সময় ১১:০৯ অপরাহ্ণ

মোহরা ছাফা মোতালেব কলেজে ভোক্তা অধিকার বিষয়ক প্রচারনা কর্মসুচিতে বক্তাগন

ভেজাল মুক্ত, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার তাগিদ
​প্রেস বিজ্ঞপ্তি::স্বাস্থ্য সকল সুখের মূল- কথাটি বহুল প্রচলিত, আর স্বাস্থ্য সুস্থ রাখার জন্য নিরাপদ খাবার অবশ্যই প্রয়োজন। আইন শৃংখলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী বলা হচ্ছে জঙ্গি কাজে নিয়োজিতদের খাবারে এক প্রকার মাদক মিশ্রন করে তাদেরকে এ সমস্ত কাজে বাধ্য করা হচ্ছে। দেশে খাদ্য, পণ্য যা-ই বাজারে ভোক্তাদের কাছে আসছে সবকিছুতেই নকল, ভেজালের ছড়াছড়ি। নিরাপদ খাদ্য, খাদ্যে ভেজাল, মাছ মাংশে ফরমালিন মিশ্রণ, নকল ভেজাল এবং ক্যামিকেল দিয়ে ফলমুল পাকানোসহ মানব বিধ্বংসী কর্মকান্ড চলমান থাকায় ভেজালের নিস্তার নেই। আর সমাজের একটি বড় অংশ খাদ্যে ভেজাল ও অনিয়মের বিরুদ্ধে নিরব। খাদ্যে ভেজালের কারনে অকালে ক্যান্সার, কিডনী বিকল, স্থুল স্বাস্থ্য, হ্দৃরোগ, মুত্রনালি ও পাকস্থলীর পীড়াসহ নানা রকমের মানব ঘাতক রোগে পুরো জাতি যেন রোগাক্রান্ত। আর জাঙ্ক ফুডের নামে নানা রকম ফাস্ট ফুডের কারনে মেধাহীন আগামী প্রজন্ম তৈরী হচ্ছে। প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার বদলৌতে বর্তমানে দেশের অধিকাংশ মানুষই এখন স্বাস্থ্যকর খাবার, নিরাপদ খাদ্য সম্পর্কে অনেক বেশী তথ্য সহজে পাচ্ছে। তবে খাদ্যে ভেজালকারী ও অসাধু ব্যবসায়ীরা যেভাবে সংগঠিত ও শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয়, সেভাবে ভোক্তারা সংগঠিত নয় বিধায় এ সমস্ত ব্যবসায়ীরা মানুষকে জিম্মি করে জনগনের পকেট কাটার সযোগ পাচ্ছে। আর ছাত্র ও যুব সমাজকে দেশ ও জাতিগঠনমুলক কাজের পাশাপাশি খাদ্য, পণ্যে নকল, ভেজাল, গ্রাহক হয়রানি, প্রতারনা, নিরাপদ খাদ্য, মাছ মাংশে ফরমালিন মিশ্রণ এবং ক্যামিকেল দিয়ে ফলমুল পাকানো বন্ধে সামাজিক আন্দোলনে সম্পৃক্ত করা গেলে জাতি এখান থেকে নিস্তার পাবে। তাই এখন সময় এসেছে জেগে উঠার এবং তৃণনমূল পর্যায়সহ সকল স্তরে অনিরাপদ খাদ্য, জাঙ্ক ফুড, নকল, খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে কঠিন প্রতিরোধ ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা। ০৩ সেপ্টেম্বর ’১৬ নগরীর মোহরা ছাফা মোতালেব কলেজ মিলনায়তনে কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ভোক্তা অধিকার বিষয়ে প্রচারণা কর্মসুচির উপলক্ষে মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন বক্তাগন উপরোক্ত মন্তব্য করেন। ছাফা মোতালেব কলেজের অধ্যক্ষ শফিউল করিম আলমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রচারনা কর্মসুচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন ছাফা মোতালেব কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হাজী আবু তাহের। মুখ্য আলোচক ছিলেন ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ক্যাব চট্টগ্রাম দক্ষিন জেলা সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল মান্নান, ক্যাব চট্টগ্রাম মহানগর যুগ্ন সম্পাদক জানে আলম। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন চান্দগাও থানার অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ আবু মোঃ শাহজাহান কবির। ক্যাব ডিপিও শম্পা কে নাহার ও জহুরুল ইসলাম সভায় মুল প্রতিপাদ্য বিষয় উপস্থাপন করেন।

সভায় বক্তাগন বলেন ক্যাব এর খাদ্য ও পণ্যে ভেজালের আগ্রাসী থাবা থেকে দেশ ও জাতিকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচানোর সামাজিক আন্দোলন। তাই একজন সচেতন নাগরিক হিসাবে দল মত ও বিশ্বাসের উর্ধ্বে উঠে নিরব ঘাতক খাদ্যে ভেজাল, নকল ও ওজনে কারচুপি, হয়রানি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে তৃনমুল পর্যায়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এগিয়ে না আসলে পুরো জাতি ক্ষতিগ্রস্থ হবে। বক্তারা আরো বলেন, খাদ্যে ভেজাল, ক্যামিকেল মিশ্রণ, ফরমালিন মিশ্রণ এখন জনগনের কাছে নিত্যনৈমত্তিক ঘটনা হয়ে গেছে। খাদ্যে ভেজাল ও নকলের বিরুদ্ধে একশ্রেনীর মানুষের নিরব থাকার সংস্কৃতির কারনে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ব্যবসার নামে জনগনের পকেট কাটার প্রবনতার হার বাড়ছে। আর সরকার ও প্রশাসনের একার পক্ষে অসৎ ব্যবসায়ী, সিন্ডিকেট এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। নাগরিক হিসাবে যদি সাধারন জনগন প্রশাসনকে সহযোগিতা করে তাহলে এই প্রাণঘাতি নকল, ভেজাল, ফরমালিন মিশ্রনের মতো জঘণ্য অপরাধ প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। আর তা না হলে এই প্রাণঘাতি রোগ সমাজের সকল রন্দ্রে রন্দ্রে বিস্তার লাভ করে পুরো সমাজকে কলুষিত করে তুলবে। মেধাবী, সুস্থ, সুন্দর ও কর্মক্ষম মানুষ পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে। পুরো জাতিই তখন অলস, রোগাক্রান্ত ও অক্ষম জাতিতে পরিনত হবে। তাই এখন সময় এসেছে নকল, ভেজাল ও ফরমালিন মিশ্রণ এবং খাদ্য দ্রব্যে বিভিন্ন ক্যামিকেল মিশ্রনকারীদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী সাামজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা।


আরোও সংবাদ