ভেজাল খাদ্য খেয়ে ১০ হাজার কোটি টাকার ওষুধ কিনেছে মানুষ

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| রবিবার, ২৯ এপ্রিল , ২০১৮ সময় ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) পরিচালক শওকত ওসমানের দাবি, বাংলাদেশে গত কয়েক বছর খাদ্যে ভেজাল পাওয়া যায়নি। খাদ্যে ভেজাল থাকার কথা বলতে বলতে তা মানুষের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তার এই বক্তব্যের বিরোধিতা করেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সদস্য (অতিরিক্ত সচিব) রোকন উদ দৌলা। শওকত ওসমানের বক্তব্য যুক্তি দিয়ে খণ্ডন করে তিনি বলেন, ভেজাল খাদ্য খেয়ে বছরে মানুষ ১০ হাজার কোটি টাকার ওষুধ কিনেছে।

এভাবে পক্ষে-বিপক্ষে তর্কযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে শেষ হলো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) রসায়ন অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ‘বন্ডিং’র উদ্যোগে ‘নিরাপদ খাদ্য ও জনস্বাস্থ্য’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনার।

শনিবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে নগরের আগ্রাবাদের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত  এ সেমিনারে  তিনটি নিবন্ধ উপস্থাপন করা হয়।

‘নিরাপদ খাদ্য ও জনস্বাস্থ্য’ শীর্ষক নিবন্ধের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে বিএসটিআই পরিচালক শওকত ওসমান বলেন, ‘বাংলাদেশে ২০১৬ সালের পরে খাদ্যে তেমন ভেজাল আর পাওয়া যায়নি।

একই নিবন্ধের ওপর আলোচনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য ড. ইকবাল রউফ মামুন বলেন, দেশে ৭০ ভাগ মানুষ ডায়েরিয়ায় আক্রান্ত হয় খাদ্যে বিভিন্ন প্রকার ব্যাকটেরিয়ার জীবাণু থেকে। রাস্তায় তরমুজ, আনারসসহ অনেক খাদ্যপণ্য বিক্রি হয়। যেগুলো সকালে কেটে তারা বিকেল পর্যন্ত বিক্রি করে। এই যে সকালে কাটা ফ্রুটগুলো বিকেলে খাচ্ছে, সেখান থেকে কিন্তু নানা রোগব্যাধি হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, রাস্তায় আখের রস গ্লাস আকারে বিক্রি করা হয়। আমরা কি ভেবে দেখেছি, রস ঠাণ্ডা হওয়ার জন্য যে বরফ ব্যবহার করা হয় সেগুলো কতটুকু নিরাপদ? এমনকি আইসক্রিম, চকলেট ও কেকে যে রংটা ব্যবহার করা হয় তাও স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়ে।

সেমিনারে এক প্রশ্নকর্তার প্রশ্ন ছিল, গ্রামে গাছ থেকে পাকা আম পারার পর দুই দিনও ভালো থাকে না, পচে যায়। পুকুর থেকে মাছ তুলে মাটিতে রাখার পর কয়েক ঘণ্টা পর মাছি বসে। কিন্তু বাজারে আম, আপেল ও মাছ পচে না কেন?