ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের উপর জুতা ও পানির বোতল নিক্ষেপের চেষ্টা

প্রকাশ:| শুক্রবার, ১৭ জানুয়ারি , ২০১৪ সময় ০৮:২৭ অপরাহ্ণ

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরের পর এবার পটিয়া উপজেলায় জিরি মাদরাসার বার্ষিক ইসলামী সম্মেলনে লাঞ্ছিত হলেন আনোয়ারার সংসদ সদস্য ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ।

শুক্রবার আছরের নামাজের পর উপস্থিত হয়ে প্রতিমন্ত্রী আওয়ামী লীগের পক্ষে বক্তব্য দেয়ার সময় উপস্থিত মুসল্লিদের রোষে পড়েন তিনি। পরে পুলিশি প্রহরায় সম্মেলনস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হন তিনি। তবে পুলিশ কর্মকর্তারা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানান, বেলা আড়াইটার দিকে পটিয়াস্থ জমিয়াতুল ইসলামীয়া জিরি মাদরাসার দুই দিনব্যাপী বার্ষিক সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের শুরু হলে ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বেলা ৩টার দিকে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছেন। এসময় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন মাদরাসার প্রিন্সিপ্যাল মাওলানা আব্দুল হালিম বুখারী। তিনি দ্রুত বক্তব্য শেষ করে মন্ত্রীকে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দেন।

মন্ত্রী বক্তব্যের শুরুতেই বলেন, ‘বর্তমান সরকার ইসলাম বিরোধী নয়, এ সরকার ইসলামের পক্ষে কাজ করছে। জননেত্রী শেখ হাসিনা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন।’ তার এমন বক্তব্যেও সঙ্গে সঙ্গেই উপস্থিত মুসল্লিরা হইচই শুরু করে এবং হট্টগোল বেঁধে যায়। লোকজন উত্তেজিত হয়ে মন্ত্রীর দিকে তেড়ে যায়। মাদরাসা কর্তৃপক্ষ বার বার চেষ্টা করেও মুসল্লিদের থামাতে ব্যর্থ হয়। ক্ষুব্ধ মুসল্লিরা মন্ত্রীকে লক্ষ্য করে জুতা ও পানির বোতল নিক্ষেপের চেষ্টা করলে মন্ত্রী বক্তব্য না দিয়েই মঞ্চ ছেড়ে পুলিশি প্রহরায় সম্মেলনস্থল ত্যাগ করেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জিরি মাদরাসার ভাইস প্রিন্সিপ্যাল মাওলানা খোয়াইব বলেন, ‘তেমন কোনো সমস্যা হয়নি, মন্ত্রী বক্তব্য দেয়ার সময় মুসল্লিরা একটু ক্ষোভ প্রকাশ করে হইচই করেছিল। পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে গেছে।’

তবে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মফিজ উদ্দিন এ ঘটনা পুরোই অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘কই? এ ধরনের কোনো ঘটনার খবর তো আমি জানি না।’

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) নাজমুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি না হয়ে বিশেষ জেলা সুপারের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। বিশেষ সুপারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এই ধরনের কোনো কর্মসূচির কথা আপাতত আমার পুরোপুরি জানা নেই। আপনি পটিয়া সার্কেলে এএসপি শামীমের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।’

পটিয়া সার্কেলের এএসপিকে অনেক বারবার মোবাইল ফোনে চেষ্টা করে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।