ভূজপুরে বনপ্রহরী নিহতের ঘটনায় আটক ১০

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ৬ সেপ্টেম্বর , ২০১৮ সময় ০১:২৩ অপরাহ্ণ

——————————————-
ভূজপুর থানা পুলিশ ও দাঁতমারা তদন্তের কেন্দ্রের পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘরের মালিক ইমদু মিয়ার মেয়ে, ছেলের বউ সহ মোট ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে মৃত রমজান আলীর পুত্র মো: ইয়াছিন(২১), নুরুল ইসলামের পুত্র দেলোয়ার হোসেন(২৮),দেলোয়ার হোসেনের পুত্র হাসান নিজাম,জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী বিবি রহিমা(৩০),হারেছের স্ত্রী বিবি মরিয়ম(৪০) মৃত নুরুল হকের কন্যা প্রিয়াঙ্কা আক্তার(১৪) আব্দুল হকের স্ত্রী রোকেয়া বেগম(৫০),আব্দুল হকের কন্যা নার্গিস আক্তার(২১),আব্দুল হকের কন্যা ঝর্ণা আক্তার(১৭) ও আহসানের কন্যা মনোয়ার আক্তার(১৩)। উক্ত এলাকায় পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান। এব্যাপারে, ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বায়েছ আলম বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে, মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে তিনি জানান। উল্লেখ্য আজ ৫ সেপ্টেম্বর ফটিকছড়ির হাসনাবাদে বনকর্মী কর্তৃক একটি অবৈধ ঘর ভাঙ্গাতে গিয়ে হামলায় আব্দুস সালাম নামের(৫২) হাসনাবাদ বন বীটের এক বন প্রহরী নিহত হয়েছে। তিনি টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর থানার জনৈক কুতুব উদ্দিনের ছেলে বলে জানাগেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে তিন বনকর্মী। এঘটনার ব্যাপারে বনবিভাগের হাসনাবাদ রেঞ্জ অফিসার খসরুল আমিন বলেন, ৫ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তার নেতৃত্বে একদল বনকর্মী হাসনাবাদ এলাকার হাতিমারা গ্রামে জনৈক ইমদু মিয়ার বন বিভাগের জমির উপর অবৈধভাবে নির্মিত পাকা ঘর ভাঙতে গেলে স্থানীয়রা বাধা দেয়। কিন্ত বাধা উপেক্ষা করে ঘর ভাঙতে গেলে তাদের উপর স্থানীয়রা লাঠি সোটা নিয়ে হামলা করে। হামলায় আব্দুস সালাম(৫২) নিহত হয় এবং তার সাথে থাকা অপর বনপ্রহরী ছাদেক মিয়া(৪৫), আবুল কালাম(৫০), মো.মামুন(৪৫) গুরুতর আহত হয়। উক্ত তিনজনকে চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান। এদিকে উক্ত ঘটনার ব্যাপারে ঘরের মালিক ইমদু মিয়ার ছেলে মো.নজরুল ইসলাম বলেন, উক্ত স্থানে তার দাদার আমল থেকে মাটির দেওয়াল যুক্ত ঘর বানিয়ে বসবাস করে আসছেন। সম্প্রতি তাদের ঘরের মাটির বারান্দাটি ফেলে দিয়ে সেমি পাকা একটি বারান্দা নির্মাণ করেন। কিন্ত হাসনাবাদ বনবীট কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম তাদের নিকট মোটা অংকের টাকা দাবি করে। অবশেষে উক্ত নজরুল ইসলাম গত ৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে উক্ত বিট অফিসে গিয়ে আতিকুল ইসলামের নিকট দশ হাজার টাকা দিলে তিনি তা ছুড়ে ফেলে দেন বলে নজরুল ইসলাম জানান। অগত্যা তিনি আরো টাকা দিবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে উক্ত দশ হাজার টাকা গছিয়ে আসেন। (ঘটনারদিন) সকালে আরো টাকার জন্য আতিকুল ইসলাম নজরুলকে ফোন করলে সে আর টাকা দিতে পারবেনা বলে জানিয়ে দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বন বিভাগের লোকজন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তার বাড়িতে গিয়ে তার বারান্দার নির্মিত দেওয়াল ভেঙ্গে দেয়। এসময় নজরুলের মা ফাতেমা বেগম(৮০) বাধা দিতে গেলে বন বিভাগের লোকজন তাকে লাথি মেরে ও পিঠিয়ে গুরুতর আহত করে বলে নজরুল ইসলাম জানান। অতপর বন বিভাগের লোকজন সেখান থেকে চলে যাবার পথে তাদের বাড়ি থেকে বেশ কিছু দুরে মনোয়ার খীল নামক স্থানে মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় বনকর্মী আব্দুস সালাম নিহত হয় এবং ছাদেক মিয়া আহত হয় বলে তিনি জানান। তিনি বিষয়টি তদন্ত করে দেখার দাবি জানান চট্টগ্রাম উত্তর জেলা (উত্তর)বিভাগীয় বনকর্মকর্তা বখতিয়ার নূর ছিদ্দিকী বলেন, সরকারী নির্দেশ অনুসারে বন বিভাগের জায়গায় গৃহ নির্মানকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় কয়েকজন মিলে বন প্রহরী আব্দুস ছালামকে পিটিয়ে হত্যা করেন। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ১০ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনার সাথে জড়িত এবং প্রশ্রয় দাতাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবেনা।