ভুয়া ভিআইপি ফেসবুক আইডি

প্রকাশ:| বুধবার, ১১ ডিসেম্বর , ২০১৩ সময় ১১:২৫ অপরাহ্ণ

ফেসবুকদেশের ভিভিআইপি ও ভিআইপি ব্যক্তিদের নামে খোলা হচ্ছে ভুয়া ফেসবুক আইডি। এ তালিকায় আছেন প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতাসহ ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, এমপি, মন্ত্রী, সমাজকর্মী, সুশীল সমাজ, সংবাদপত্র, কবি, লেখক ও সাহিত্যিক। তাদের নামে পোস্ট করা হচ্ছে নানা ধরনের উস্কানি, বিতর্কিত ও বিভ্রান্তিমূলক স্ট্যাটাস, কমেন্টস। এমনকি অশ্লীল ছবি পর্যন্ত ছড়ানো হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টরা বিব্রত। পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেকেই আশ্রয় নিচ্ছেন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি অথবা নিকটবর্তী থানায়। আবার অনেকে ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতা চেয়েছেন পুলিশ ও র‌্যাবের। ভুয়া একাউন্ট খোলার অবারিত সুযোগ থাকায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই প্রতিকার মিলছে না। এ ধরনের সাইবার অপরাধ দমনের উপায় বের করতে হিমশিম খাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশে বর্তমানে প্রায় তিন কোটি ইন্টারনেট আর ৩ লাখের বেশি ফেসবুক ব্যবহারকারী রয়েছেন। সমপ্রতি ডাক ও টেলিযোগযোগ মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে এ নিয়ে আলোচনা হয়। কমিটির পক্ষ থেকে উদ্বেগ জানানো হয়। একই সঙ্গে ফেসবুকে আইডি খোলার ক্ষেত্রে ই-মেইল আইডি’র পাশাপাশি ‘অন্য’ পরিচয়পত্রের নম্বর ব্যবহার করার সুপারিশ করে। যদিও বিটিআরসি’র পক্ষ থেকে এ সুপারিশ বাস্তবায়ন করা অসম্ভব বলে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কোন ফেসবুক আইডি নেই উল্লেখ করে কিছু দিন আগে গণভবন থেকে একটি বক্তব্যও দেয়া হয়েছে। তারপরও তার নামে এখনও ফেসবুকে আইডি খোলা রয়েছে। প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদের নামেও রয়েছে একটি আইডি, বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়ার নামে একাধিক আইডি, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মন্ত্রীদের নামে একাধিক ফেসবুক আইডি পাওয়া গেছে। প্রেসিডেন্টের দেয়া একটি স্ট্যাটাসে বলা হয়েছে- খুব শিগগিরই রাজনীতিতে আসতে পারে নাটকীয় মোড়। গত ২৬শে নভেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়েছে। এখন সকল দলের উচিত সমঝোতার মধ্যে এসে নির্বাচনকে নিরপেক্ষ করা। সকল দলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার নামে ফেসবুকে একাধিক আইডি আছে। যেখান থেকে বিভিন্ন সময়ে ছবি ও স্ট্যাটাস দেয়া হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নামে ফেসবুকে একাধিক আইডি আছে। গত ২২শে অক্টোবর সংসদীয় কমিটিতে সাইবার অপরাধ দমন, বিশেষ করে ফেসবুক ব্যবহার করে সংঘটিত অপরাধ দমনের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সারাবিশ্বে ফেসবুকে নিজস্ব আইডি খোলার জন্য শুধুমাত্র ই-মেইল আইডি ব্যবহার করা হয়। কমিটির সভাপতি আব্দুস ছাত্তার বলেন, সাইবার অপরাধ দমনে কমিটি ওই পরামর্শ দিয়েছে। বিটিআরসি দেখবে এটা করা যায় কিনা। তারাই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। এবিষয়ে কমিটির সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন, দেখা যাচ্ছে, এক ব্যক্তির নামে অন্যে ভুয়া আইডি খুলছে। এর মাধ্যমে সাইবার অপরাধও বাড়ছে। এ জন্য কমিটি জাতীয় পরিচয়পত্র বা স্কুল-কলেজের পরিচয়পত্র কিংবা অন্য যে কোন পরিচয়পত্র দিয়ে ফেসবুক আইডি খোলার কথা বলেছে। ফেসবুক ব্যবহারকারীর পরিচয় নিশ্চিত করতে এই ব্যবস্থার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে এটা করা অসম্ভব বলে দাবি করেছেন বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস। তিনি বলেন, এটা করা এ মুহূর্তে সম্ভব নয়। বিশ্বের কোথাও এটা নাই। তারপরও তারা যেহেতু বলেছেন, আমরা খতিয়ে দেখবো। তিনি বলেন, ইন্টারন্যাশনাল টেলি কমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিউ) বাংলাদেশের সাইবার অপরাধ দমনে আলাদা করে সুপারিশ দেয়ার কাজ শুরু করেছে। তাদের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশে এসে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছেন।