ভীষণ ব্যস্ত কামাররা দম ফেলার ফুসরত নেই

প্রকাশ:| শুক্রবার, ২ সেপ্টেম্বর , ২০১৬ সময় ১১:২২ অপরাহ্ণ

কক্সবাজারের চকরিয়ায় কামারের দোকানগুলোতে কোরবানির ঈদে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় চরম ব্যস্ততা চলছে। কসাই এবং কোরবানীতে অংশ নেয়া ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে দিনরাত অবিরত শ্রমে দা, চুরি, চাকু, কুড়াল, বটিতে শান দিতে ও নতুন করে তৈরিতে দম ফেলার ফুসরত পাচ্ছেন না কামাররা।
স্বল্প সময়ে চাহিদা মেঠানোর আনন্দে সংসারে সচ্ছলতা ফেরানোর আশায় প্রাচীন ধারকরা এখনো এ পেশার মাধ্যমে সুখ- স্বপ্নের ছক আঁকছেন হাতে গোনা কিছু কামার। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, চকরিয়ার পৌর শহরের চিরিংগা, বদরখালী, হারবাং, খুটাখালি, ডুলাহাজারা ও বেতুয়া বাজার কামারদের যেন দম ফেলার ফুসরত নেই। কয়লার দগদগে আগুনে লোহাকে পুড়িয়ে পিটিয়ে তৈরি করছেন তারা দা, ছুরি, চাকু, কুড়াল, কাঠারি, বটিসহ ধারালো কর্তন সামগ্রী। কেউবা অর্ডারকৃত আর কেউবা নিজে লোহা দিছেন তৈরি করে খুচরা ও পাইকারী দরে বিক্রি করছেন। তবে এসব তৈরিতে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি কামারগুলোতে। পুরোনে নিয়মে চলছেই আগুনে পুড়ে লোহা হতে ধারালো কর্তন সামগ্রী তৈরি কাজ।
কামররা জানান, এ পেশায় অধিক শ্রম। আর শ্রম অনুযায়ী তারা এর যথাযথ মূল্য পাননা। কারণ লোহার বাজার দর বেশি। পাশাপাশি খাদ্যদ্রব্যের মূল্যের সাথে ভারসাম্য রেখে যদি কামাররা তাদের লোহার ধারালো কর্তন সামগ্রী তৈরি করত, তাহলে এই পেশাজীবীরাও মূল্যায়ন পেত বলে তারা মনে করেন। কামররা মৌসুমী হিসাবে কাস্তে, হাঁসায়ু পাসুন, বাশিলা, কুড়াল,ও তৈরি করে থাকেন। আর এসব কিনে নিয়ে পাইকাররা বিভিন্ন হাট বাজারে বিক্রি করছেন। আর আসন্ন ঈদের কারনে চাহিদা বাড়ায় দিনরাতে ২০ থেকে ৩০টি কাজ গড়ে প্রতিদিন একেক জন কামার খরচ বাদে ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা আয় করছেন। তারা আরোও জানান, কেটি বড় দা ৫ কেজির লোহা দিয়ে তৈরি করে মজুরিসহ ৭শ টাকা, কুড়াল ১ কেজির ২০০ থেকে ২২০ টাকা, বড় ছোরা ওজন মতে ৩ থেকে সাড়ে ৬শ টাকা, পশু কুড়াল ৩ থেকে ৪শ টাকা দরে বিক্রি করছেন। তবে লোহা গ্রাহকের হলে সেক্ষেত্রে শুধু তৈরি ও শান বাবত এসব সামগ্রীর প্রতি পিস ৫০ থেকে ১৫০ টাকা করে নেয়া হয়। কামারদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, ঈদে যে বেচাকেনা হয় তা আর অন্য সময় হয় না। তাই তারা জীর্ণশীর্ণ শরীর নিয়েও একটু সুখের আশায় কাজ করে যাচ্ছেন অবিরত। ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে বিক্রি ততো বেশি হবে বলে জানান তারা। সারা বছর তৈরিকৃত এসব পণ্য যত বিক্রি হয় না, তার চেয়ে বেশি বিক্রি হয় ঈদ মৌসুমে। বাজারের কয়েকজন কামার বলেন ঈদে অনেকেই পশু কোরবানী জন্য নতুন ছুরি, চাপাতি, বেড, চাকু কিনতে আসেন। আমরা লোহার এসব জিনিসের চাহিদার কথা মাথায় রেখে আগে থেকেই বেশ কিছু জিনিস বানিয়ে রাখি।
অনেকে আবার কোরবানীর জন্য এসব ধারালো অস্ত্রের পাশাপাশি বাড়ি ও কৃষি কাজে ব্যবহ্নত কুড়াল, কাস্তে, কাঁচি, শাবল, টেঙ্গি কিনে নিয়ে যান। আগে অন্য হাটবাজারে প্রতিদিন বিভিন্ন লৌহজাত জিনিস বানিয়ে গড়ে ৫০০-৭০০ টাকা রোজগার হতো। ঈদ উপলক্ষে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এখন প্রতিদিন গড়ে ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা মতো আয় হয়।