ভিসা জটিলতায় হংকংয়ে নারী কর্মী পাঠাতে বিলম্ব

প্রকাশ:| শনিবার, ৬ জুলাই , ২০১৩ সময় ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ

প্রক্রিয়াগত বিলম্বের কারণে হংকংয়ে চাহিদার বিপরীতে বাংলাদেশি নারী কর্মী কম যাচ্ছে।ভিসা জটিলতায় হংকংয়ে নারী কর্মী পাঠাতে বিলম্ব
ভিসা জটিলতাই এর মূল কারণ বলে জানা গেছে। হংকংয়ের অভিবাসন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সেখানকার বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চলে দুই লাখ ৯০ হাজার গৃহকর্মী কাজ করছেন।
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক শামসুন্নাহার জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত দু’বারে হংকং গেছেন ২২ বাংলাদেশি নারী গৃহকর্মী।
সমকালের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, হংকংয়ে নারী গৃহকর্মীর উন্মুক্ত চাহিদা রয়েছে। বিদেশে নারীকর্মী হিসেবে কাজ করতে ইচ্ছুকদের অনলাইনে নিবন্ধন করা হয়েছে।
সারাদেশে ৪০ হাজার নারী বিদেশে যেতে আগ্রহ প্রকাশ করে নিবন্ধিত হয়েছেন। তাদের মধ্য থেকে পর্যায়ক্রমে নারী কর্মীদের হংকংয়ে পাঠানো হবে বলে বিএমইটি মহাপরিচালক জানান।
হংকংয়ে গৃহকর্মীর চাহিদা পূরণে সেখানকার বেসরকারি খাতের নিয়োগকারী কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের গৃহকর্মী নিয়োগে আগ্রহী।
বিএমইটির মহাপরিচালক শামসুন্নাহার বলেন, নারী কর্মীদের দু’মাসের প্রশিক্ষণ দিয়ে হংকং পাঠানো হয়। প্রশিক্ষণের কাজে খানিকটা বিলম্ব হয়। ভিসা পেতে বিলম্বের কারণে চাহিদা থাকার পরও অধিক সংখ্যায় নারী কর্মী পাঠানো যাচ্ছে না। এরই মধ্যে অনেক কর্মী প্রশিক্ষণ শেষ করেছেন; কিন্তু ভিসা না আসায় তাদের পাঠাতে বিলম্ব হচ্ছে।
নারী কর্মীদের বিদেশে পাঠানোর আগে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে দু’মাসের বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বর্তমানে দেশে দুটি নারী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে বিদেশে যেতে ইচ্ছুক নারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
কেরানীগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ শেষ করা ৭৩ নারী গৃহকর্মীর মধ্য থেকে এরই মধ্যে ২২ জনকে হংকং পাঠানো হয়েছে।
রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে আরও ৪০ জনকে দু’মাসের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ ফওজিয়া শাহনাজ সমকালকে জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানে যে ৪০ জন প্রশিক্ষণ শেষ করেছেন, তাদের সবাই চাকরির অফার পেয়েছেন; কিন্তু তাদের ভিসা প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয়নি। তিনি বলেন, কর্মীদের ক্যান্টনিজ ভাষা, চীনা রান্নাসহ বিদেশে অবস্থানকালে করণীয় বিভিন্ন দিক সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
গৃহকর্মীদের অভিবাসন ব্যয়: বিএমইটির এক কর্মকর্তা সমকালকে জানান, হংকংয়ে নারী গৃহকর্মী পাঠানোর জন্য সেখানকার বেসরকারি খাতের ব্যবসায়ীদের একটি সংগঠনের সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি হয়েছে।
ওই সংগঠনকে প্রতি নারীকর্মী নিয়োগের জন্য ৯০০ ডলার চার্জ দিতে হচ্ছে। প্রত্যেক নারী গৃহকর্মীকে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে ৫০০ ডলার ঋণ দিয়ে এবং কর্মীদের বেতন থেকে আরও ৪০০ ডলার কেটে নিয়ে ৯০০ ডলার পরিশোধ করা হচ্ছে।
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ঋণের ৫০০ ডলারও কর্মীর বেতন থেকে কিস্তিতে পরিশোধ করতে হবে। এ ৯০০ ডলার কর্মীকে এ মুহূর্তে নগদ পরিশোধ করতে হচ্ছে না। কাজ পাওয়ার পর কিস্তিতে তা পরিশোধ করতে হবে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, এর বাইরে প্রত্যেক নারীকর্মীকে নগদ ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে। এ টাকায় কর্মীর প্রশিক্ষণ চার্জ, ট্যাক্স, ভিসা প্রক্রিয়াকরণ চার্জসহ বিভিন্ন খরচ মেটানো হচ্ছে। কর্মীদের হংকং যেতে সহায়তা করায় বেসরকারি রিত্রুক্রটিং এজেন্সিও কিছু অর্থ পাবে।
প্রথম দফায় প্রশিক্ষণ শেষ করা ৭৩ জনকে সহায়তা করছে এসএ ট্রেডিং নামে একটি রিত্রুক্রটিং এজেন্সি। অন্যদিকে দ্বিতীয় দফায় প্রশিক্ষণ শেষ করা কর্মীদের সহায়তা করেছে সাদিয়া ইন্টারন্যাশনাল।
কর্মীদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা: হংকংয়ের গৃহকর্মী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান টেকনিক এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিস সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তেরেসা লিউ সমকালকে বলেন, হংকংয়ে বর্তমান আইনে গৃহকর্মীদের সর্বনিম্ন বেতন ৫০৫ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি কর্মীরাও এ বেতন পাবেন। কর্মীদের যাওয়া ও দেশে ফিরে আসার বিমানভাড়াও গৃহকর্তা পরিশোধ করবেন। তাদের নির্ধারিত আট ঘণ্টা কাজের সময় এবং সাপ্তাহিক ছুটি রয়েছে।
তিনি আরও জানান, তাদের সংস্থা প্রতি মাসে ২০০ বাংলাদেশি নারী গৃহকর্মী হংকং পাঠাতে সক্ষম। কর্মীরা শিশু ও বৃদ্ধদের দেখাশোনাসহ বিভিন্ন ধরনের গৃহস্থালি কাজ করবেন।