ভিনদেশের সবজি ব্রুকলি চাষে সাফল্য

প্রকাশ:| বুধবার, ১১ ডিসেম্বর , ২০১৩ সময় ১১:৪৩ অপরাহ্ণ

ব্রুকলিপটিয়া কৃষক জাফর আহমদ চাষকৃত ভিনদেশের সবজি।চট্টগ্রামের পটিয়ার খরনা গ্রামের জাফর আহমদ একজন সৌখিন কৃষক। তিনি ১০ বছর থেকে বুনে চলেছেন বিদেশি জাতের বিভিন্ন সবজি। তন্মধ্যে ব্রুকলি, চায়না বিট, থাই আদা, থাইপাতা, কারিপাতা, লিক, পুদিনা, লেটুসপাতার চাষ করছেন। তবে উপজেলা কৃষি অফিসের কাছে নেই এসব তথ্য। ওই এলাকায় উপজেলা কৃষি অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ব্রুকলিকে রোগাক্রান্ত ফুলকপি হিসেবেই চেনে। সে হিসেবে রোগ সারাতে এ কৃষককে দিচ্ছিলেন ব্যবস্থাপত্র। কৃষক মুচকি হেঁসে কৃষি কর্মকর্তাকে বললেন, ওষুধ দিলে কি হবে, কৃষি কর্মকর্তার উত্তর_ ‘সবুজ ফুল সাদা হয়ে উঠবে’। চালাক কৃষক ‘ঠিক আছে তাই হবে’ বলে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে বিদায় করলেন। অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে কৃষক জাফর আহমদ প্রতিবেদককে এসব কথাই বললেন। জাফর আহমদ ওই গ্রামের খলিল সওদাগর বাড়ির মৃত আলী হোসেনের ৬ সন্তানের মধ্যে পঞ্চম। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত এ ব্যক্তি ৪ ছেলে এক কন্যা সন্তানের জনক।
খরনা এলাকায় সরেজমিন গিয়ে দেখা মেলে, বিকালে সূর্যাস্তের আগে নিজের ক্ষেত থেকে ব্রুকলি তুলছেন। সন্ধ্যার পরই নগরীর এক চায়নিজ হোটেলে এসব ব্রুকলি সরবরাহ করার কথা। এসময় কথা হলে, কৃষক জাফর কয়েকটি ব্রুকলি উঁচিয়ে বললেন, ১০ বছর আগে ২০০২ সালে ৪-৫শ’ ব্রুকলি চাষ করেন। তখন চট্টগ্রামের ইপিজেড এলাকা চায়নিজ ব্যবসায়ীদের কাছে এসব ব্রুকলি বিক্রয় করতেন। এখনো ইপিজেড এলাকার শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে মোবাইলে চায়নিজ সবজির ফরমায়েশ দেন। বর্তমানে ৩০ শতক জায়গায় ৫ হাজার ব্রুকলি চাষ করেছেন। প্রথম পর্যায়ে ১৫০০, দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৮০০ এবং শেষ পর্যায়ে ১৫০০ ব্রুকলি বিক্রয় করেছেন। চাষের পর ব্রুকলি কাটার পর মূল থেকে একাধিক মুখ গজায়। এতে ছোট আকৃতির একাধিক ব্রুকলি উৎপন্ন হয়। মানে এক চাষে দুবার লাভ। তিনি জানান, বর্তমানে তার বাজার ভালো। শহরের নামকরা চায়নিজ হোটেলে তিনি উৎপাদিত সবজি সরবরাহ করেন। বর্তমানে তার ক্ষেতে চায়না বিট, থাই আদা, থাই পাতা, কারিপাতা, নিলা পাতা, লিক, পুদিনা রয়েছে। তিনি জানান, বর্তমানে কেজিপ্রতি ব্রুকলি ৮০ টাকা, থাই পাতা ১০০ টাকা, চায়না বিট ৮০ টাকা, লিক ৭০ টাকা, নিলা পাতা ১৫০ টাকা পাইকারি দামে খুচরা ব্যবসায়ীরা কিনে নেন। তবে সামান্য বেশি দামে চায়নিজ রেস্তোরাঁয় সরবরাহ করে থাকেন। তিনি বলেন, এলাকার এসব সবজির পরিচিতি না থাকায় তার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। চট্টগ্রামের খুব কম কৃষকই সব সবজির চাষ করে থাকেন। তাই বাজারে তার সবজির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এসময় তিনি একটি থাইপাতা ছিঁড়ে বলেন, থাইপাতা দিয়ে ‘লাল চা’ (স্থানীয় ভাষায় রঙ চা) খেলে শ্লেষ্মা (সর্দি কফজনিত প্রদাহ) সেরে যাবে।
স্থানীয় খরনা বাজারের ব্যবসায়ী আবদুল আজিজ মিয়া বলেন, জাফর একজন সৌখিন কৃষক। সে সারাবছর কি বোনেন, এলাকার অনেকেই জানেন না। জানতেও চান না। কারণ তার উৎপাদিত সবজি তিনি স্থানীয় বাজারে বিক্রয় করেন না। তবে অনেক সময় শহরের বড় বড় নামিদামি হোটেলের লোকজন এসে তার কাছ থেকে সবজি নিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শৈবাল কান্তি নন্দী বলেন, সবজির ধরন প্রকৃতি না চিনলে মন্তব্য করা ঠিক নয়। সংশ্লিষ্ট উপসহকারী হয়তো সবুজ ফুলকপি (ব্রুকলি) চেনেন না। তাই এ ধরনের সমস্যা হয়েছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষিত করা হবে।
য় মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন, পটিয়া, চট্টগ্রাম।