ভিজে যাওয়ার গল্প

প্রকাশ:| শনিবার, ১৬ এপ্রিল , ২০১৬ সময় ১১:১৩ অপরাহ্ণ

হাসান কামরুল:: অনামিকা, সেই মেয়েটি,যার বিয়ে হয়েছিলো পাহাড়ি মালপোকার সাথে, তিনদিনের উপবাসী হয়ে এসেছিলা কাল সন্ধ্যায়। আমি ভিজে২তাকে চন্দন জলে স্নান করিয়ে ঘরে তুলে নিয়েছিলাম। আকাশ জুড়ে তখন প্রবল অমাবস্যা, ঘরের টিমটিমে মোমের আলোয় তাকে রহস্যময়ী লাগছিল। আমার তখন প্রবল আড্ডার ঝোক। কাজের বুয়াকে বলে গেলাম ওকে কিছু খাবার দিতে। এই-ই শেষ নয়-শোন; বলি মেয়েটা বসে ছিল আমার ফিরে আসা অব্দি। ঘরে ঢুকেই দেখি আমার শোবার ঘরের মেঝেতে মাথা ঝুকে বসে আছে।কাজের বুয়াটা চলে গেছে ততক্ষণে, আমি জানি তুমি কি ভাবছো, ঘরে বাইরে বাউন্ডেলের মত ঘুরে বেড়ানো আমার ঘরে একলা একটি ভরা যৌবনের মেয়েকে বসে থাকতে দেখে আমার ভিতরে কামনা জেগে উঠেছে,এই তো? না,সেরকম কিছু হয়নি। বরং আমার ভেতরে তখন ভয় জেগে উঠেছিল, জানোই তো,পাহাড় যতটা জল ধারন করে, আমার ভেতরে তার চেয়ে ঢের বেশি জলের আবাস। প্রতি রাতেই হৃদয় ফুঁড়ে বেড়িয়ে আসে প্রবল জলোচ্ছাস, আমার শুকনো ঘরে জলের তোড়ে তখন ভেসে যায় ইচ্ছে,প্রলোভন, ভয় হচ্ছিল অনিয়ন্ত্রিত জলভারে সে না তলিয়ে যায়! এখনো শেষ হয়নি,আরো আছে! কাল রাতে ওর চোখের হড়কা বানে আমিই ভেসে গিয়েছিলাম। সকালে নিজেকে আবিষ্কার করেছি ভুলতে না পারার মত বাগানে। এখানেও আমি একা, এখানে বসেই লিখছি, পুনর্বার জলে ভেসে যাওয়ার গল্প। গায়ের কাপড় শুকিয়েছে, ভেতরের আমি এখনো ভেজা। মেম্বার পাড়া,বান্দরবান।। ১৬/০৪/২০১৬।।