ভাষা সৈনিক বদিউল আলম চৌধুরীর স্মরণ সভা

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ১১ অক্টোবর , ২০১৬ সময় ১১:১৩ অপরাহ্ণ

ভাষা, শিক্ষা ও সমাজসেবায় বদিউল আলম চৌধুরী যে অবদান রেখে গেছেন তা ইতিহাসে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে
%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b7%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a7%88%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%ac%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%89%e0%a6%b2-%e0%a6%86%e0%a6%b2%e0%a6%ae-%e0%a6%9a%e0%a7%8c%e0%a6%a7%e0%a7%81 ভাষা, শিক্ষা ও সমাজ সেবায় ভাষা সৈনিক বদিউল আলম চৌধুরী যে অবদান রেখে গেছেন তা ইতিহাসে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তমুদ্দুন মজলিশের মাধ্যমে নেতৃত্বের সম্মুখভাগে থেকে তিনি ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে ইতিহাসে একজন ক্ষণজন্মা কৃতিপুরুষ হিসেবে অমর হয়ে আছেন। সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর অবদানের কারণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তার নাম স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ আছে। ভাষা সৈনিক বদিউল আলম চৌধুরীর ৯ম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে “ভাষা সৈনিক বদিউল আলম চৌধুরী মৃত্যুবার্ষিকী উদ্যাপন পরিষদ” এর উদ্যোগে গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ৬ টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল খালেক মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত স্মরণ সভায় বক্তারা উপরোক্ত অভিমত ব্যক্ত করেন। মৃত্যু বার্ষিকী উদ্যাপন পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক কাজী শাহাদাত হোসাইন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্মরণ সভায় আলোচনায় অংশ নিয়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোসলেম উদ্দিন আহমেদ বলেন, বদিউল আলম চৌধুরী দল মত নির্বিশেষে সমাজের সকল শ্রেনী পেশার মানুষের শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন। নীতি আদর্শের ব্যাপারে তিনি আমৃত্যু অবিচল ছিলেন। ক্ষমতার মোহে তিনি কখনো রাজনীতি করেননি। ব্যক্তি জীবনে তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক। ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ এবং নীতি আদর্শে অটল ছিলেন বলেই সকল দল-মতের মানুষ আজ এক মঞ্চে এসে তাকে স্মরণ করছি। আলোচনায় অংশ নিয়ে সাবেক প্রতিমন্ত্রী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব জাফরুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, ভাষা সৈনিক বদিউল আলম চৌধুরী ছিলেন সত্যের এক দুর্লভ দৃষ্টান্ত। সকল মানবিক গুণের অধিকারী একজন ব্যক্তি ছিলেন তিনি। সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে অসমান্য অবদান রেখেছেন। দেশের কল্যাণে, সমাজের কল্যাণে, শিক্ষার বিস্তার ও প্রসারে তিনি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সাবেক সদস্য এড. কবির চৌধুরী বলেছেন, ভাষা সংগ্রামী বদিউল আলম চৌধুরী সাইকেলে চড়ে চট্টগ্রাম শহরের আনাচে কানাছে ভাষার দাবি আদায়ের লিফলেট বিলি করতেন। তাঁর মত সৎ গুণাবলী সম্পন্ন উদার মনের মানুষ আজ সমাজে বিরল। গবেষক, কলামিস্ট ও প্রাবন্ধিক সাখাওয়াত হোসেন মজনু বলেন, ভাষা আন্দোলনে বদিউল আলম চৌধুরীর অবদান ইতিহাসে দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। হুলিয়া মাথায় নিয়ে তিনি ভাষার দাবি আদায়ের অবিচল সংগ্রাম চালিয়েছেন। তিনি নীতি আদর্শবান একজন সৎ ব্যক্তি ছিলেন। তিনি বদিউল আলম চৌধুরীর জীবনী গ্রন্থ প্রকাশ করার উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। অন্যান্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি যথাক্রমে এড. মাহবুব উদ্দিন, এড. দেলোয়ার হোসেন, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ হায়দার আলী চৌধুরী, দৈনিক আমার দেশ চট্টগ্রামের ব্যুরো চীফ জাহেদুল করিম কচি, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. কফিল উদ্দিন, বিপনী বিতান দোকান মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি এস.এম. সাইফুদ্দীন আহমেদ চৌধুরী, টেরী বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি বেলায়েত হোসেন, কাট্টলী নুরুল হক চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর মোহাম্মদ, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ সাথী উদয় কুসুম বড়–য়া, কাট্টলী বিপনী বিতান ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওসমান গণি, ভাষা সৈনিক বদিউল আলম চৌধুরী মৃত্যু বার্ষিকী উদ্যাপন পরিষদ এর সদস্য সচিব মুহাম্মদ নিযাম উদ্দিন, ছাত্রনেতা মুহাম্মদ রবিউল হোসেন রবি প্রমুখ। স্মরণ সভায় অন্যান্য আলোচকরা ভাষা সৈনিক বদিউল আলম চৌধুরীর অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ তাঁর নামে চট্টগ্রাম মহানগরীতে একটি সড়কের নামকরণ করার দাবি জানান। তারা বলেন, বদিউল আলম চৌধুরীর ভাষা আন্দোলনে ভূমিকা, সমাজ কর্ম ও শিক্ষা বিস্তারের তাঁর অবদান নতুন প্রজন্মের জন্য অনুকুরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।