ভাষা প্রশ্নে প্রথম পুস্তিকা একুশের অনন্য দলিল

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| রবিবার, ১০ ফেব্রুয়ারি , ২০১৯ সময় ১১:৪২ অপরাহ্ণ

ইবনে ইলিয়াস

তমদ্দুন মজলিসের সেই পুস্তিকার নাম শুনেনি এমন শিক্ষিত বাঙালি খোঁজে পাওয়া যাবে না। মূলত এই পুস্তিকাটিই ভাষা আন্দোলনকে স্ফুলিঙ্গের মতো ছড়িয়ে দিয়েছিল। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন ধাপে ধাপে গড়ে উঠেছিল ১৯৪৭ সাল থেকে। তখন ১৮ পৃষ্ঠার একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে তমদ্দুন মজলিস। প্রচ্ছদসহ ২০ পৃষ্ঠার। বেরিয়েছিল ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর অর্থাৎ পাকিস্তানের জন্মের এক মাস পর। কিন্তু, এরই মধ্যে ভাষার প্রশ্নে ঘনায়মান বিরোধের পূর্বাভাস। পুস্তিকাটির শিরোনাম, পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু? পুস্তিকাটিতে পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা সমস্যা সমাধানের বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা দেওয়া হয়। তমদ্দুন মজলিসের ভাষা সৈনিকগণ মূলত এই পুস্তিকাটির মাধ্যমে শিক্ষিত সমাজের ভিতটা ভাষার প্রশ্নে আপসহীনতার বীজ বপন করে দেন। পুস্তিকাটিতে পাকিস্তানের, বিশেষত পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা সমস্যা সমাধানের বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা দেওয়া হয়। তিনটি মাত্র রচনা। ‘আমাদের প্রস্তাব’ শিরোনামের প্রথম রচনায় অধ্যাপক এম আবুল কাসেম পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের দুটি রাষ্ট্রভাষা প্রস্তাব করেন। একটি উর্দু ও অপরটি বাংলা। দ্বিতীয় রচনাটি ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক কাজী মোতাহের হোসেনের। শিরোনাম ছিল ‘রাষ্ট্রভাষা ও পূর্ব পাকিস্তানের ভাষা-সমস্যা’। দীর্ঘ রচনাটি পরে সওগাত পত্রিকায় ১৯৪৭ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বর সংখ্যাতেও প্রকাশিত হয়েছিল। এতে তিনি লেখেন- ‘কোনো দেশের লোকে যে ভাষায় কথা বলে, সেইটাই সে দেশের স্বাভাবিক ভাষা। প্রজা সাধারণের ভাষাই রাষ্ট্রভাষা। অতএব পূর্ব পাকিস্তানের রাজভাষা বা রাষ্ট্রভাষা বাংলাই হওয়া স্বাভাবিক এবং সমীচীন।’ তৃতীয় রচনাটির রচয়িতা ছিলেন সাহিত্যিক ও ইত্তেহাদ পত্রিকার সম্পাদক আবুল মনসুর আহমদ। শিরোনাম ছিল ‘বাংলা ভাষাই হইবে আমাদের রাষ্ট্রভাষা’। তিনি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে সাতটি যুক্তি তুলে ধরেন। পুস্তিকাটি প্রকাশ করে তমদ্দুন মজলিস নামে ঢাকায় সদ্য জন্ম নেওয়া (১ সেপ্টেম্বর ১৯৪৭) একটি ইসলামি সাংস্কৃতিক সংগঠন। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলনের প্রাথমিক পর্বে এর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল।


আরোও সংবাদ