ভারী বর্ষণে বন্যার আশংকা

প্রকাশ:| রবিবার, ১৭ জুলাই , ২০১৬ সময় ১০:৩১ অপরাহ্ণ

[three_fifth]কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া :
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ৫ টি ইউনিয়নে নালা নর্দমা দখলে যাওয়ার কারণে ভারী বর্ষনে বন্যার আশংখা রয়েছে। খাল, ছরা, জলাশয়, পুকুর দিঘী ভরাট করে নানা প্রকার স্থাপনা ভারী বর্ষণে বন্যার আশংকাতৈরি করার ফলে বর্ষায় বৃষ্টির পানি প্রবাহে বাধা প্রাপ্ত হচ্ছে। এমতাবস্থায় উখিয়ার পালংখালী, রতœাপালং, হলদিয়াপালং ও সাগর বিধৌত জনপদ জালিয়াপালং ইউনিয়নে বন্যার আশংকা দেখা দিয়েছে। ফলে চলতি মৌসুমে রেজু খালের ভাঙ্গন মারাত্মক আকার ধারণ করে জনবসতি হুমকির মুখে পড়েছে। জলাবদ্ধতায় আমন চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ার আশংকা করছেন কৃষকরা। পালংখালীর সদর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পাহাড়ী ঢল ও বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের একমাত্র অবলম্বন পালংখালী খাল দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে মার্কেট সহ বিভিন্ন প্রকার স্থাপনা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এম. গফুর উদ্দিন চৌধুরী এ প্রতিবেদককে জানান, নদীমাতৃক ইউনিয়ন হিসাবে সামান্য বৃষ্টিতেই পালংখালীর অধিকাংশ নিচু এলাকা প¬াবিত হয়ে পড়ে। ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলের পানিতে এ ইউনিয়নের দুই-তৃতীয়াংশ ফসলী জমি, চিংড়ি ঘের, প¬াবিত হয়ে স্থানীয় চাষী ও মৎস্য চাষীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে সর্বশান্ত হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, গত বর্ষা মৌসুমে বোনের বিয়ের দাওয়াতের কার্ড বিতরণ করতে গিয়ে ১৪ বছরের এক মাদরাসা ছাত্র পানিতে ভেসে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে পড়ে। অত্র ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান, নাফ নদী সংলগ্ন বেড়িবাঁধটি অকার্যকর হয়ে পড়ার কারণে জোয়ারের পানিতে প্রায় শতাধিক চিংড়ি ঘের প্রতি বর্ষা মৌসুমে প¬াবিত হয়ে রপ্তানিযোগ্য চিংড়ি উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। স্থানীয় জনসাধারণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাঈন উদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে খালের উপর থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য চিহ্নিত স্থানগুলোতে লাল পতাকা উত্তোলন করে দিলেও কার্যত সফল হয়নি। এদিকে রতœাপালং ও হলদিয়াপালং ইউনিয়নের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া রেজু খালের ভাঙ্গন প্রতিরোধে সাবেক রুমখা বড়–য়া পাড়া গ্রামের কৃষকলীগ নেতা বাবু দীনেশ বড়–য়া উদ্যোগী হয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড সহ সংশি¬ষ্ট মন্ত্রণালয়ে বেশ কয়েকটি লিখিত অভিযোগ করে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাঈন উদ্দিন জানান, উক্ত আবেদনের প্রেক্ষিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুই জন প্রতিনিধি সম্প্রতি রেজু খালের ভাঙ্গন পরিদর্শন করেছে। তারা বর্ষার আগেই ভাঙ্গন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বস্থ করেছেন। এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান নির্বাহী সাবিবুর রহমান জানান, রেজু খালের ভাঙ্গন থেকে বড়–য়া পাড়া গ্রামের শতাধিক পরিবারকে রক্ষা করার জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। যা বাস্তবায়ন করতে সময়ের প্রয়োজন হচ্ছে। তবে গ্রামবাসীর দাবি ছিল, চলতি বর্ষা মৌসুমে বড়–য়াপাড়ার শতাধিক বসতবাড়ি রক্ষার জন্য রেজু খালের তিনটি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে তিনটি স্পার্ক নির্মাণ করে দেওয়া হউক। জালিয়াপালং ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান এস.এম ছৈয়দ আলম জানান, বর্ষায় সাগরে জোয়ারের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ার কারণে রেজু খাল সংলগ্ন তার ইউনিয়নের ৪/৫টি গ্রামের হাজারো পরিবার প্রতি বর্ষা মৌসুমে পানিবন্ধী হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, বিপদ ঘনিয়ে আসলে প্রশাসন দৌড়ঝাঁপ শুরু করে। পরবর্তীতে আর দেখা মিলে না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাঈন উদ্দিন জানান, বর্ষায় বন্যার আশংকা করে আগাম প্রস্তুতি গ্রহণে প্রশাসন তৎপর রয়েছে। তিনি বলেন, যে কোন দূর্যোগ মোকাবেলায় প্রশাসন সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সক্ষম।