‘ভারত কী সিদ্ধান্ত নেয় সেটাই দেখার বিষয়’

প্রকাশ:| শনিবার, ১৭ মে , ২০১৪ সময় ১১:১৬ অপরাহ্ণ

বিবিসি বাংলা সংলাপে বক্তারা বলেছেন ভারতে সরকার পরিবর্তনে বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতি নিয়ে সন্দেহ আছে। তবে তারা কি সিদ্ধান্ত নেয় সেটাই দেখার বিষয়। এছাড়া শুধু র‌্যাব নয় সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংস্কার দাবি করেন তারা। শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপের ৭৩তম পর্বে প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী, বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী, দৈনিক নিউ এজ’র প্রকাশক শহিদুল্লাহ খান বাদল এবং বাংলাদেশ উইমেন ল’ইয়ারস এসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক সালমা আলী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আকবর হোসেন। ভারতের নির্বাচনে বিজেপি ও নরেন্দ্র মোদির উত্থান প্রসঙ্গে এক দর্শকের প্রশ্নের জবাবে শমসের মবিন চৌধুরী বলেন, আসলে দু’দেশের মধ্যে যে আস্থার ঘাটতি রয়েছে সে বিষয়ে তারা কি সিদ্ধান্ত বা উদ্যোগ নেন সেটাই দেখার বিষয়। সম্প্রতি ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশীদের বিষয়ে মোদির করা একটি মন্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারতকে আগে প্রমাণ দিতে হবে আদৌ সেখানে অবৈধভাবে কোন অভিবাসী আছে কিনা? তিনি বলেন, নরেন্দ্র মোদি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতায় এসেছে তাই বিএনপি খুশী হয়েছে। ভারতে একটি সরকার স্ট্রং ম্যান্ডেট নিয়ে এসেছে যেটা বাংলাদেশে হয়নি। তাই সম্পর্ক কতটুকু টেকসই হবে সন্দেহ আছে। অতীতের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই কিন্তু সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে। র‌্যাব প্রসঙ্গে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আলোচনায় বলেন, শুধু র‌্যাবকে বিলুপ্ত করলেই হবে না, সেই সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীরও সংষ্কার প্রয়োজন। গওহর রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে কংগ্রেস সরকারের ভালো সম্পর্ক ছিলো কথাটা ঠিক না। বিজেপি বা কংগ্রেস যেই রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসুক আমরা আমাদের স্বার্থ নিয়ে এগোবো। তিনি বলেন, সীমান্ত নিয়ে চুক্তির সময় বিজেপি নেতারাও ছিলেন। আর ৩০ বছরে কখনই ভারত সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের অবৈধ অভিবাসী নিয়ে কথা হয়নি। তাই সরকার পরিবর্তনের ফলে ভারতের বিদেশী নীতিতে খুব একটা পরিবর্তন হবে বলে মনে হয় না। ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন প্রসঙ্গে গওহর রিজভী বলেন, দেশের নির্বাচন দেশের ব্যাপার। এটা নিয়ে বিদেশীদের মাথা ঘামানোর কিছু নেই। কংগ্রেস যেমন সমর্থন দিয়েছে বিজেপিও দেবে। র‌্যাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আপনারা ধৈর্য ধরেন। র‌্যাবকে নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠলেও র‌্যাব কিন্তু এক সময় অসাধারণ পারফর্ম করেছে। আসলে একে রাজনীতিকীকরণ করাটা ঠিক হবে না। আলোচনায় অংশ নিয়ে বাদল বলেন, কংগ্রেসের সঙ্গে আওয়ামী লীগের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিলো। তাই সমর্থন পেয়েছে। বিজেপি’র সাথে নেই। তাই সমর্থন নাও পেতে পারে। তিনি বলেন, পলিটিক্যাল ইন্সটিটিউশনগুলো এখন এতো স্ট্রং যে মনে হয় না বৈদেশিক নীতিতে কোন প্রভাব পড়বে। তবে বিজেপির সঙ্গে অন্য যে দলগুলো আছে তারা কিন্তু হিন্দুত্ববাদী দল, তারা এবিষয়ে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।