ভারত ইকনোমিক জোন, বে-টার্মিনাল নির্মাণে সহায়তা করবে

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ২৯ আগস্ট , ২০১৭ সময় ০৯:০০ অপরাহ্ণ

চট্রগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি এবং ভারতীয় দূতাবাসের যৌথ আয়োজনে “ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ বাইল্যাটার‌্যাল ট্রেড এন্ড কমার্শিয়াল রিলেশন্সঃ স্পেশাল ফোকাস অন ওয়াটারওয়েজ কানেক্টিভিটি এন্ড কোস্টাল শিপিং” শীর্ষক সেমিনার ২৯ আগস্ট সকালে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারস্থ বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত হয়। চট্রগ্রামচেম্বার প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল আলম’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতের ডেপুটি হাই কমিশনার ড. আদর্শ সোয়াইকা। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হাই কমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারী (কমার্শিয়াল) শিশির কোঠারী।

সেমিনারে এফবিসিসিআই’র সদ্যবিদায়ী সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহ্মাদ, চেম্বারের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ নুরুন নেওয়াজ সেলিম, সহ-সভাপতি সৈয়দ জামাল আহমেদ, সদ্যবিদায়ী পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ’র সদস্য (ফাইন্যান্স) মোঃ কামরুল আমিন, জাপানের অনারারী কনস্যুল জেনারেল মোঃ নুরুল ইসলাম, ওওসিএল’র জিএম ক্যাপ্টেন গিয়াসউদ্দিন চৌধুরী, হুন্দাই ওশ্যান ইন্টারন্যাশনাল’র আতাউল করিম চৌধুরী, ব্যবসায়ী নেতা তাহের সোবহান, রিভার লাইনের এমডি মাহবুব আহমেদ, প্রান্তিক শিপিং’র এমডি ইঞ্জি. গোলাম সরওয়ার ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর সৈয়দ আহসানুল আলম পারভেজ বক্তব্য রাখেন। সেমিনারে চেম্বার পরিচালকবৃন্দ এ. কে. এম. আক্তার হোসেন, কামাল মোস্তফা চৌধুরী, জহিরুল ইসলাম চৌধুরী (আলমগীর), মোহাম্মদ হাবিবুল হক, মোঃ অহীদ সিরাজ চৌধুরী (স্বপন), মোঃ আবদুল মান্নান সোহেল ও বিকেএমইএ’র শওকত ওসমানসহ সংশ্লিষ্ট সেক্টরের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ডেপুটি হাই কমিশনার ড. আদর্শ সোয়াইকা বলেন-বাংলাদেশ শিল্প উৎপাদনের ক্ষেত্রে ৩০% উন্নতি লাভ করেছে। দু’দেশের মধ্যে গত দুই বছরে সম্পাদিত ৬০টি চুক্তির মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড, বিনিয়োগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা অনন্য মাত্রা অর্জন করেছে। তিনি বিমসটেক’র আওতায় শিপিং এবং বিবিআইএন’র অধীনে সড়ক যোগাযোগ চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক অবস্থার যুগান্তকারী পরিবর্তন হবে বলে মনে করেন। ভারত বাংলাদেশে মংলা, ভেড়ামারা ও মিরসরাইয়ে তিনটি ইকনোমিক জোন স্থাপনপূর্বক শিল্প কারখানা গড়ে তুলবে এবং বে-টার্মিনাল নির্মাণে সহযোগিতা করবে। ডেপুটি হাই কমিশনার পানগাঁও এবং কোলকাতা বন্দরের মধ্যে কার্যক্রম বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্বারোপ করেন ।

চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম ভারতে রপ্তানির ক্ষেত্রে ১২% কাউন্টারভেইলিং ডিউটি অন্যতম মূল প্রতিবন্ধকতা মন্তব্য করে ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের ৫,৪৫২.৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আমদানির বিপরীতে মাত্র ৬৮৯.৬২ মিলিয়ন ডলারের রপ্তানির বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে বলে তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি বলেন-কোস্টাল শিপিং চুক্তির ফলে দু’দেশের বাণিজ্যে এক নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। অতীতে সিঙ্গাপুর বা মালয়েশিয়ার মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য পরিচালনা করতে হতো কিন্তু বর্তমানে এ চুক্তির ফলে চট্টগ্রাম, মংলা, পানগাঁও এবং আশুগঞ্জ থেকে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় বন্দরসমূহের সাথে সরাসরি কার্গো ও কন্টেইনার পরিবহন সম্ভব হচ্ছে এবং সময় ও ব্যয় সাশ্রয় হচ্ছে। তিনি চট্টগ্রাম বন্দরে ছোট ক্রেইন এবং পানগাঁওয়ে পর্যাপ্ত ইকুইপমেন্ট সংগ্রহের জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান।

এফবিসিসিআই’র প্রাক্তন সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহ্মাদ বলেন-চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের অর্থনীতির ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা পালন করছে এবং পানগাঁও বন্দর বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্কোন্নয়নে অবদান রাখছে। এছাড়া রেল, নৌ, আইটি ও অবকাঠামো খাতে আমরা ভারতের সহযোগিতা গ্রহণ করতে পারি। বাংলাদেশে কর্মরত ভারতীয়দের বেতন বাবদ প্রতি বছর ৬ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হচ্ছে উল্লেখ করে এক্ষেত্রে তিনি ভারতের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার আহবান জানান। চেম্বার সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ নুরুন নেওয়াজ সেলিম বলেন-ব্যবসা-বাণিজ্য উন্নয়নে ভারতের সাথে আমরা এক সাথে কাজ করবো। ভারতের সাথে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক আরো জোরদারে চিটাগাং চেম্বার সর্বদা সহযোগিতা প্রদান করবে। সহ-সভাপতি সৈয়দ জামাল আহমেদ ঈদ-উল আযহা-তে চট্টগ্রাম বন্দরে যাতে জাহাজ ও কন্টেইনারজট সৃষ্টি না হয় তার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের আহবান জানান। তিনি ভারত সরকার অদূর ভবিষ্যতে তিস্তা পানি চুক্তি সম্পাদন করবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

চট্টগ্রামস্থ ভারতের বিদায়ী সহকারী হাই কমিশনার সোমনাথ হালদারকে চেম্বারের পক্ষ থেকে বিদায়ী সম্ভাষণ জানানো হয়। এ সময় তিনি ভারতীয় ভিসার আবেদনের ক্ষেত্রে যথাযথ কাগজপত্র ও প্রকৃত তথ্য দাখিলের অনুরোধ জানান। তিনি চট্টগ্রামে অবস্থানকালে সার্বিক সহযোগিতার জন্য চেম্বার কর্তৃপক্ষের প্রতি ধন্যবাদজ্ঞাপন করেন।

সেমিনারে উপস্থিত শিপিং সেক্টর নেতৃবৃন্দ উল্লেখিত কোস্টাল শিপিং আরো কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট নদীসমূহ কমপক্ষে ৪ মিটার পর্যন্ত ড্রেজিং করা, বন্দরের ট্যারিফ যৌক্তিকহারে নির্ধারণ এবং কমপক্ষে ১২০ মিটার বা তদুর্ধ্ব জাহাজের মাধ্যমে পণ্য পরিবহনের সুপারিশ করেন। মূল প্রবন্ধে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য পরিসংখ্যান, রোড, রেল, স্থল বন্দর ও নদী ড্রেজিং এ ভারত সরকারের অনুদানে পরিচালিত প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করা হয়।