ভারতে উড়ালপুল কাণ্ডে মৃত বেড়ে ২৪

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ৩১ মার্চ , ২০১৬ সময় ১১:৩৩ অপরাহ্ণ

ভারতে উড়ালপুল কাণ্ডএকটা করে লোহার বিম সরছে রাস্তা থেকে। আর মৃত্যুর বীভৎস ছবি হাহাকার ছড়িয়ে দিচ্ছে গোটা এলাকায়। রাস্তার অ্যাসফল্টের সঙ্গে মিশে গিয়েছে একটা গোটা ট্যাক্সি। তার মধ্যে চিঁড়ে-চ্যাপ্টা হয়ে পিষে যাওয়া, মাংসপিণ্ডে পরিণত হওয়া দেহ। একটা নয়। অন্তত চারটে ট্যাক্সি পিষে গিয়েছে ভেঙে পড়া উড়ালপুলের তলায়। চাপা পড়েছে একটি যাত্রী ভর্তি মিনিবাস, একটি স্কুল বাস, একটি ট্রাক। শুধু যানবাহন নয়, বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ গণেশ টকিজ মোড়ে যে পথচারীরা ছিলেন, তাঁরাও চাপা পড়েছেন। অনেকেই চিরতরে। আর উঠবেন না কখনও!
নির্মীয়মান বিবেকানন্দ উড়ালপুল গণেশ টকিজ মোড়ে বৃহস্পতিবার ভেঙে পড়ার পরই ব্যাপক পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান আশপাশের সব ক’টি থানার পুলিশ অফিসার। পৌঁছন লালবাজারের উচ্চপদস্থ কর্তারাও। কিন্তু, পুলিশ গিয়ে সে ভাবে উদ্ধারকাজ শুরু করতে পারেনি। স্থানীয় বাসিন্দারা কিছু মানুষকে উদ্ধারের চেষ্টা শুরু করেন। তার মধ্যেই ডেকে পাঠানো হয় বিপর্যয় মোকাবিলা দলকে। কিন্তু বিপর্যয় এতই প্রবল যে সেই বাহিনীও দিশা খুঁজে পায়নি। যাঁদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল, তাঁদের মেডিক্যাল কলেজে পাঠিয়ে দেওয়া হয় দ্রুত। মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমেই বাড়তে থাকে। উড়ালপুলের ভেঙে পড়া চাঙড় এবং স্টিলের কাঠামোর নীচে অনেকই অর্ধেক চাপা পড়ে ছিলেন। কারও মাথা বেরিয়েছিল বাইরে, কারও পা। কিন্তু, তাঁদের উদ্ধার করা যায়নি তাঁদের। প্রচণ্ড ভারী বিমের তলায় যে ভাবে তাঁরা চাপা পড়ে ছিলেন, তাতে বিম না সরিয়ে তাঁদের উদ্ধার করা কোনও ভাবেই সম্ভব ছিল না। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, আর্তনাদ করতে করতে চোখের সামনেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে দেখেছেন অনেককে। অসহায় ভাবে শুধু দেখতে হয়েছে। চেষ্টা করেও বার করে আনা যায়নি।
বেলা ৩টে নাগাদ পৌঁছয় জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দল বা এনডিআরএফ। পৌঁছয় সেনা এবং আধাসেনাও। তার পরই গতি পায় উদ্ধারকাজ। যে সব গাড়ির অংশ বিশেষ চাপা পড়েছিল ভেঙে আসা বিমের নীচে। ব্রেক ডাউন ভ্যান দিয়ে সেগুলি টেনে বার করা হয়। সেগুলির মধ্যেও বেশ কয়েকটি থেকে উদ্ধার হয় মৃতদেহ। অন্য দিকে একই সঙ্গে বড় ক্রেন এনে শুরু হয় রবীন্দ্র সরণি আর বিবেকানন্দ রোডের ঠিক ক্রসিংয়ে ভেঙে পড়া বিশাল বিশাল স্টিল বিম। লোহার ওই সব কাঠামো এত বড় ছিল যে তা ক্রেন দিয়ে তোলাও সম্ভব ছিল না। গ্যাস কাটার দিয়ে প্রত্যেকটি বিমকে কেটে টুকরো টুকরো করতে শুরু করে এনডিআরএফ। তার পর ক্রেন দিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় সেগুলিকে। একটি করে বিম সরেছে, আর লাফিয়ে বেড়ে গিয়েছে মৃতের সংখ্যা। রাস্তার উপর হলুদ চাদরের মতো বিছিয়ে থাকা পিষে যাওয়া ট্যাক্সি থেকে মৃতদেহ বার করতেও যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে উদ্ধারকারীদের। গ্যাস কাটার দিয়ে ট্যাক্সি কেটে বার করতে হয়েছে পিষে যাওয়া যাত্রীদের।
সিআরপিএফ-এর তরফে জানানো হয়, উদ্ধারকাজ শেষ করতে সারা রাত লাগবে। কিন্তু রাত সওয়া ৯টা নাগাদ মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, উদ্ধারকাজ শেষ। তিনি জানান, আর তিনটে দেহ ধ্বংসস্তূপের নীচে রয়েছে। এনডিআরএফ সময় নিয়ে সেগুলি উদ্ধার করবে। ধ্বংসস্তূপের অর্ধেকটাই যখন সরানো বাকি, তখন মুখ্যমন্ত্রী আগে থেকেই কী করে বলে দিলেন, উদ্ধার কাজ শেষ! কী ভাবেই বা তিনি জানলেন, আর মাত্র তিনটে দেহ ধ্বংসস্তূপের নীচে রয়েছে! মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণা এ দিন বিস্ময় তৈরি করেছে বি‌ভিন্ন মহলে। যে মিনিবাসটি ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়েছে, সেটি বার করে আনার কোনও খবর মেলেনি। মিনিবাসের যাত্রীদের কী হল, তা নিয়েই ধোঁয়াশা রয়ে গিয়েছে। রাত ৯টা পর্যন্ত ২৪ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। আরও ৭০ থেকে ৭৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে জখম অবস্থায়। তাঁদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।
মুখ্যসচিব বাসুদেব বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হচ্ছে। তাতে থাকবেন, স্বরাষ্ট্রসচিব, পূর্তসচিব, কলকাতার পুলিস কমিশনার এবং ডিজি সিআইডি। মুখ্যসচিব জানিয়েছেন, খড়্গপুর আইআইটি-র সঙ্গে কথা বলে ওই প্রতিষ্ঠানের কোনও এক জন প্রযুক্তিবিদকে এই কমিটিতে অন্তর্ভূক্ত করার কথা ভাবা হচ্ছে। পুলিশ এই উড়ালপুল ধসে পড়ার ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে একটি মামলা রুজু করেছে।
আমরি অগ্নিকাণ্ডের পর আরও এক ভয়ঙ্কর বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটল শহর কলকাতায়। উত্তর কলকাতার গণেশ টকিজের কাছে ভেঙে পড়ল নির্মীয়মাণ বিবেকানন্দ উড়ালপুলের একটা বড় অংশ। দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে। তার পর থেকে প্রতি মুহূর্তের পরিস্থিতি আমরা তুলে ধরেছি:
• উদ্ধারকার্য শুরু হতে আড়াই ঘণ্টা কেন সময় লাগল? সেই প্রশ্ন উঠতে শুরু হয়েছে সব মহলেই।
• বিকেল ৫টা ৩২ মিনিট। উদ্ধার কাজ এখনও চলছে। ধ্বংসস্তূপে এখনও আটকে রয়েছেন অনেকে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, মৃত অন্তত ২১ জন। যদিও কলকাতা পুলিশ সূত্রে মৃতের সংখ্যা ১৬ বলে জানানো হয়েছে।
• বিকেল ৪টে ৫০ মিনিট। ঘটনাস্থলে পৌঁছলেন রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী।
• ধ্বংসস্তূপ থেকে ৭৮ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা গিয়েছে। তাঁদের প্রত্যেকেরই অবস্থা আশঙ্কাজনক। এখনও আটকে রয়েছেন বহু মানুষ।
• বেলা ৪টে ১৫ মিনিট। ঘটনাস্থলে পৌঁছলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
আরও পড়ুন: দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছেন যাঁরা
• নিহতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা, আহতদের ২ লক্ষ এবং অল্প আহতদের ১ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের কথা ঘোষণা করেছেন চিফ সেক্রেটারি। সরকারি এবং বেসরকারি সমস্ত হাসপাতালেই আহতদের চিকিৎসা ফ্রি-তে করা হবে।
• মৃত্যু হল আরও ৪ জনের। তাঁরা মারওয়ারি রিলিফ সোসাইটে ভর্তি ছিলেন।
দেখুন উড়ালপুল ভেঙে পড়ার সেই মুহূর্তের ভিডিও:

• বেলা সাড়ে ৩টে। দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছল কেন্দ্রীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। কেন্দ্রীয় মন্ত্রক থেকে সব রকম সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে কম্যান্ড হাসপাতালের সার্জিকাল টিম।
• মৃতদেহ মধ্যে একজন জোড়াবাগান ট্রাফিক গার্ডের সার্জেন্ট সন্দীপ হালদার। তিনি ওই সময়ে কর্মরত ছিলেন।
• বেলা ৩টে ২২ মিনিট। মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি আহত ১৭ জনের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৭ জনের।
• বেলা ৩টে ১৪ মিনিট। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের ডিজি জানান, ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের খুঁজে পেতে ঘটনাস্থলে বিশেষ ক্যামেরা পাঠানো হয়েছে। উদ্ধারকার্যে নামলেন আরও ৪০০ সেনা। পৌঁছেছে ৩টি মেডিক্যাল টিম।
• নবান্নে একটি আপৎকালীন কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। যে কোনও রকম সাহায্যের জন্য ১০৭০ নম্বরে ফোন করতে পারবেন। জানানো হয়েছে আরও ৩টি হেল্প লাইন নম্বর। সেগুলি হল ০৩৩-২২১৪ ৩৫২৬/ ২২৫৩ ৫১৮৫/ ২২১৪ ৫৬৬৮ । কলকাতা পুলিশের হেল্প লাইন নম্বর ০৩৩ ২২১৪ ৩০২৪/ ৯৪৩২৬২৪৩৬৫ । ফ্যাক্স করতে পারেন ০৩৩-২২১৪ ১৩৭৮ নম্বরে।
• মাত্র দু’টি ক্রেন নিয়ে উদ্ধারকার্য চলছে। দরকার আরও ক্রেন। আড়াই ঘণ্টা হয়ে গেলেও এখনও তার ব্যবস্থা করা যায়নি।
• বেলা ৩টে। ঘটনাস্থলে পৌঁছলেন কলকাতা পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার।

• মৃতের সংখ্যা নিয়ে নানা তথ্য উঠে আসছে। কেউ বলছে ১০, কেউ বলছে ১৫ জন। তবে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা।
• উদ্ধারকাজে সেনার সাহায্য চাইল রাজ্য সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে ঘটনাস্থলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
• ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে পড়লেন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় এবং দমকলমন্ত্রী জাভেদ খান।

• বেলা ২টো ৪৪ মিনিট। ঘটনাস্থলে পৌঁছলেন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়। কিছু আগে পৌঁছেছেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায় এবং মুখ্য সচিব বাসুদেব বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
• ভেঙে পড়া অংশে ঢালাইয়ের কাজ চলছিল বলে জানা গিয়েছে।
• ধ্বংসস্তূপে আটকে রয়েছে বেশ কয়েকটি যাত্রীবোঝাই বাসও।
• এলাকায় মানুষের ব্যাপক ক্ষোভ-উত্তেজনা। পুলিশের তাড়ায় মানুষের পদপিষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
• ধ্বংসস্তূপের নীচে কোনও ভাবে আগুন ধরে গিয়েছে। তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছেন দমকল কর্মীরা।
• দুপুর ২টো ১০ মিনিট। উদ্ধারকার্যে হাত লাগালেন সেনা-জওয়ানেরাও।
• দুপুর ২টো। এখনও ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে রয়েছেন বহু মানুষ।
আরও পড়ুন: চারিদিকে শুধু হাহাকার আর কান্নার শব্দ
• আশেপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে মৃতদেহ। মেডিক্যাল কলজে ভর্তি করা হয়েছে ১৭ জন আহতকে। ৪০ জনকে মারওয়ারি রিলিফ সোসাইটিতে ভর্তি করা হয়েছে।
• ঘটনাস্থলে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খার সৃষ্টি হয়েছে। লোক সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ। ক্রেন নিয়ে এলেও উদ্ধারকার্য শুরু করতে দেরি হয়।
• সংবাদ সংস্থা এএনআই সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
• চিৎপুর রোড, বিবেকানন্দ রোড-সহ একাধিক রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
• মেদিনীপুরের সভা বাতিল করে ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী।
• পোস্তা বাজার থাকায় এই এলাকাটি অত্যন্ত ঘিঞ্জি। তার উপরে ব্যস্ত সময়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে। যার ফলে প্রচুর মানুষের মৃত্যুর সম্ভাবনা রয়েছে।
• উদ্ধারকার্যে হাত লাগিয়েছে স্থানীয়েরাও।
• এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, সাড়ে ১২টা নাগাদ বোমা ফাটার মতো আওয়াজ শুনতে পাই। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দেখি চোখের সামনে আস্ত একটা উড়ালপুল ভেঙে পড়ছে।
• কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে।
• ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে ট্রমা কেয়ার ইউনিট।
• ঘটনাস্থলে রয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা দল। রয়েছেন লালবাজারের অফিসারেরাও। আশেপাশের সমস্ত থানার অফিসারেরাও ঘটনাস্থলে গিয়েছেন।
• আটকে থাকা লোকেদের উদ্ধার করতে ড্রিল মেশিন দিয়ে কাটা হচ্ছে পাথরের স্ল্যাব।
• গণেশ টকিজের কাছে ভেঙে পড়ল নির্মীয়মাণ উড়ালপুল। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে। বিবেকানন্দ উড়ালপুলের একাংশ ভেঙে পড়ে একটি গাড়ির উপরে। পুলিশ জানিয়েছে, ভেঙে পড়া অংশের নীচে অনেকেই আটকে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। উদ্ধারকার্য চলছে। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে কেউ মারা গিয়েছে কি না তা এখনও জানা যায়নি।


আরোও সংবাদ