ভারতের সঙ্গে চুক্তি প্রকাশের দাবি বিএনপির

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ৯ জুন , ২০১৫ সময় ০৭:৪১ অপরাহ্ণ

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সই হওয়া চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকগুলো প্রকাশের দাবি জানিয়েছে বিএনপি।

একই সঙ্গে এই সফরে তিস্তা চুক্তি না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে এটাকে ‘সরকারের ব্যর্থতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে দলটি।

মঙ্গলবার দুপুরে এক সংবাদ ব্রিফিং করে দলের প্রতিক্রিয়া তুলে ধরেন মুখপাত্রের দায়িত্বে থাকা আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন।

দুদেশের মধ্যে সেই হওয়া চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, “পত্র-পত্রিকায় পড়েছি-অনেকগুলো চুক্তি, প্রটোকল ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। এসব চুক্তি ও সমঝোতায় কী আছে, বিএনপি এখন পর্যন্ত জানে না। সাধারণ মানুষও জানে না। সুতরাং আমরা ও সাধারণ মানুষ জানলে এসব বিষয়ে কথা বলা যেত।

“আমরা আহ্বান করছি, সরকার দ্রুত এসব চুক্তি জনসমক্ষে প্রকাশ করবে। তখন আমরা এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানাব।”

আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, “ভারতের জনগণের ভোটে নির্বাচিত নরেন্দ্রে মোদীর সফরকে আমরা নিঃসন্দেহে স্বাগত জানিয়েছি। তার ওই সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আমরা আশাবাদ ব্যক্ত করছি।”

এই সফরের সফলতা সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে এই বিএনপি নেতা বলেন, “আপনি এক কথায় যে জবাব জানতে চেয়েছেন, তা এক কথার বিষয় নয়। এক কথায় বললে বিভ্রান্তি হবে। দুই দেশের মধ্যে যেসব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সম্পাদিত হয়েছে, তা যদি দেখা যায়, জনসমক্ষে প্রকাশিত হয়। এটা দেখার পরেই আপনার প্রশ্নের জবাব দেওয়া যাবে।”

তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তির বিষয়ে বিএনপির মুখপাত্র বলেন, “তিস্তার চুক্তি হবে, হওয়ার কথা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং গতবার চুক্তির ফ্রেমওয়ার্ক প্রায় তৈরি করে ফেলেছিলেন। এটার অগ্রগতিটা অনেক দূর হয়েছিল। ভারতের স্থানীয় রাজনৈতিক কৌশলের কারণে ওই সময়ে তিস্তা চুক্তি হয়নি।

“এবার তিস্তা চুক্তি না হওয়ার কারণে জাতি হিসেবে আমরা আশাহত হয়েছি। এটা সরকারের ব্যর্থতা।”

ট্রানজিটসহ দুদেশের মধ্যে ‘কানেক্টিভিটি’র বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে রিপন বলেন, “ট্রানজিট হয়েছে। এখন দেখেন, গ্লোবাল ভিলেজে যোগাযোগ থাকতে হবে। একটা রাষ্ট্রের সঙ্গে অন্য রাষ্ট্রের সহযোগিতা থাকবে। আমার যা নেই, আরেকজনের যা আছে, তার বিনিময় হবে। সবই ঠিক আছে।”

ঢাকায় দুদিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে রোববার রাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশে ফিরে গেছেন। এই সফরে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, উপকূলীয় জাহাজ চলাচল ও দুই রুটে বাস চলাচলের বিষয়ে চারটি চুক্তিসহ বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে মোট ১৯টি চুক্তি, প্রটোকল ও সমঝোতা স্মারক সই হয়।

তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তির বিষয়ে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করে তাতে আস্থা রাখতে বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

সফরের সময় মোদীর সঙ্গে দেখা করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। তিনি প্রায় ১৫ মিনিট তার সঙ্গে একান্ত আলোচনা করেন।

সাক্ষাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মা হীরাবাইয়ের জন্য তাঁতের বোনা জামদানি শাড়ি ও চাদর উপহার দেন খালেদা জিয়া। এছাড়া মোদীকে উপহার দিয়েছেন পাঞ্জাবি ও কটি।

নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ ব্রিফিংয়ে অন্যান্যের মধ্যে দলের কেন্দ্রীয় নেতা নাজিম উদ্দিন আলম, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিবুর রহমান হাবিব, আবদুস সালাম আজাদ, সেলিম রেজা হাবিব, অধ্যক্ষ সোহরাবউদ্দিন, আসাদুল করীম শাহিন, এবিএম মোশাররফ হোসেন, শামসুল আলম তোফা উপস্থিত ছিলেন।