ভারতের দখলে থাকা ৭৫ বিঘা জমি উদ্ধার

প্রকাশ:| শনিবার, ৫ জুলাই , ২০১৪ সময় ১০:৫৪ অপরাহ্ণ

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর বেনিপুর সীমান্তে ৭৫ বিঘা ভারতের অপদখলে থাকা জমি ৬৬ বছর পর উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ- বিজিবি। জমি উদ্ধারের পর শনিবার বেলা ১২টায় বিজিবির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানানো হয়।

উদ্ধার করা জমির পাশেই আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এসএম মনিরুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, আলোচিত ৭৫ বিঘা জমি বাংলাদেশের হলেও দীর্ঘ ৬৬ বছর ধরে সেটি ভারতের অপদখলে ছিল।

তিনি জানান, প্রশাসনের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য জানার পর বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফের সঙ্গে আলাপ আলোচনার পর জমিটি উদ্ধার করে দখলে নেয়া হলো।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল মনিরুজ্জামান জানান, উদ্ধার করা জমির মধ্যে ৬৫ বিঘা খাস খতিয়ানভুক্ত এবং ১০ বিঘা ব্যক্তি মালিকানাধীন। এসব জমি ১৯৪৯ সাল থেকে ভারতের অপদখলে ছিল।

৬ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ বেনীপুর বিওপির দক্ষিণ-পশ্চিমে আনুমানিক ৮০০ মিটার দূরে মেইন পিলার ৬১/৩-এস হতে ৬১/৯-এস পর্যন্ত বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সর্বমোট ৭৫ বিঘা জমি রয়েছে জানান তিনি।

দেশ ভাগের পূর্ব হতে এ জমিতে কিছু হিন্দু সম্প্রদায় ও সাঁওতাল সম্প্রদায় বসবাস করতো। ১৯৪৭ সালের দিকে ভারত-পাকিস্তান ভাগ হওয়ার পর ১৯৪৯ সালে হিন্দু সম্প্রদায় ও শাওতাল জাতি সুযোগ বুঝে ভারতে চলে যায় বলে জ।

১৯৪৯ সাল থেকেই উক্ত জমি অপদখলীয় ভূমি হিসেবে ভারত দাবি করে আসছে এবং এ পর্যন্ত ভারতের দখলে ছিল। বিস্তারিত পর্যালোচনা করে জানা যায় যে, ভারত যে জমি অপদখলীয় ভূমি হিসেবে দাবি করে আসছে প্রকৃতপক্ষে এ জমি অপদখলীয় ভূমি নয়। এছাড়াও এ জমিতে ভারত-পাকিস্তান যৌথ সার্ভেয়ার দল কর্তৃক পূর্বের স্থাপনকৃত পিলার বিদ্যমান রয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা জেলার ভূমি রেকর্ড অফিসে যাচাই করে দেখা যায় যে, ১৯৬২ সালের রেকর্ডে আনুমানিক ৬৫ বিঘা জমি জেলা প্রশাসকের ১নং খতিয়ানভুক্ত এবং আনুমানিক ১০ বিঘা জমি ব্যক্তি মালিকানাধীন হিসেবে রেকর্ডভুক্ত রয়েছে।

ভারতের দখলে থাকা ৭৫ বিঘা জমি উদ্ধারএ জমি ভারতের দখলে থাকায় এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে বা ব্যক্তিগতভাবে উদ্ধারের বাস্তবভিত্তিক কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। বিষয়টি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রিন্ট এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াতে উপস্থাপিত হয়েছে।

গত ২৩ মার্চ ২০১৩ তারিখে ৬ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন চুয়াডাঙ্গার দায়িত্বভার গ্রহণের পর বর্তমান পরিচালক এসএম মনিরুজ্জামান উপরোক্ত ৭৫ বিঘা অপদখলীয় ভূমি উদ্ধারের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেন। দীর্ঘ ৪ মাস ধরে বিএসএফ, স্থানীয় প্রশাসন এবং সর্বোপরি স্থানীয় জনগণের সঙ্গে আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে উক্ত জমি উদ্ধারের জন্য চেষ্টা চালান।

গত ০৬ মে ২০১৪ তারিখে এবং পরবর্তীতে গত ২৯ জুন ২০১৪ তারিখে পরিচালক এসএম মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে ও দিকনির্দেশনায় কুসুমপুর কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার মো. খোরশেদ আলম খান এবং বেনীপুর বিওপি কমান্ডার নায়েক সুবেদার মো. খায়রুল কালামের প্রচেষ্টায় ৬৬ বছরের অপদখলকৃত (অমিমাংসিত) জমি উদ্ধার করা হয়।

এ জমি বর্তমানে দুই লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা খরচ করে চাষাবাদের উপযোগী করা হয়েছে এবং বিজিবি’র তত্ত্বাবধানে জমির অর্ধেক অংশে ধনিচা ও বাকী অংশে আড়হর ডালের বীজ বপন করা হয়েছে। শিগগিরই উক্ত জমি ভূমিহীনদের মাঝে বণ্টনের জন্য চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন কর্তৃক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও জানা যায়।