ভারতকে বিদায় করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ফাইনালে

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ৩১ মার্চ , ২০১৬ সময় ১১:১৯ অপরাহ্ণ

সেমিতেই স্বাগতিক ভারতকে বিদায় করে দিলেন ড্যারেন সামিরা। ১৯৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ২ বল হাতে থাকতে ১৯৬ রান করেন তারা। এতে ৭ উইকেটে জয় তুলে নিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ক্যারিবীয়রা। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড।

ওয়েস্ট ইন্ডিজলক্ষ্য তাড়া করতে ব্যাট হাতে প্রথমে ক্রিজে আসেন চার্লস ও গেইল। প্রথম ওভারে ৬ রান সংগ্রহ করেন তারা। কিন্তু দ্বিতীয় ওভারেই বুমরাহর শিকারে পরিণত হন ক্যারিবীয়দের প্রধান শক্তি। বুমরাহর প্রথম বলেই বোল্ড হন গেইল। ৬ বলে মাত্র ৫ রান করেছেন তিনি।

ওয়ানডাউনে মাঠে নামা স্যামুয়েলস দ্রুতই বিদায় নিলেন। ৭ বলে ৮ রান করে নেহরার বলে রাহানের হাতে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। ৩ ওভারে ২ উইকেট হারানো দলের হাল ধরেন ওপেনার চালর্স। তার সঙ্গে সমান তালে ব্যাট চালিয়েছেন লেন্ডি সিমন্স। তাদের জুটি থেকে আসে ৯৭ রান।

এই জুটিকে ভাঙতে ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করেন ধোনি। বল তুলে দেন কোহলির হাতে। আর প্রথম বলেই বাজিমত। ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে বিদায় নেন চার্লস। ৫২ রানেই শেষ হয়ে যায় তার ইনিংস। ৩৬ বলে ৭টি চার ও দুটি ছক্কায় এই স্কোর করেন তিনি।

এদিকে সিমন্সও হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। ব্যক্তিগত ৫০ রানে জীবন ফিরে পান তিনি। ১৫তম ওভারে পান্ডের শেষ বলে অশ্বিনের হাতে ক্যাচ তুলে দেন। কিন্তু নো বল হওয়ায় বেঁচে যান সিমন্স। সেই সঙ্গে পাওয়া ফ্রি হিটে ছক্কা হাঁকান। আরো একবার জীবন ফিরে পান তিনি। ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে বাউন্ডারিতে তালুবন্দী হন। কিন্তু বাউন্ডারি লাইন কোহলির স্পর্শ করলে সেটি ছক্কা হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত দলের জয় নিশ্চিত করেই মাঠ ছাড়েন সিমন্স। অপরাজিত থাকেন ৮৩ রানে। ৫১ বলে ৭টি চার ও ৫টি ছক্কায় এই স্কোর করেন তিনি। জিতে নেন ম্যাচ সেরার পুরস্কারও।

এদিকে চার্লসের পর মাঠে এসে মারমুখী ব্যাটিং করেন আন্দ্রে রাসেল। শেষ পর্যন্ত টিকে থেকে মাত্র ২০ বলে ৪৩ রান করেন তিনি। এই স্কোর করতে ৩টি চার ও ৪টি ছক্কা হাঁকান এই ব্যাটসম্যান।

এর আগে বৃহস্পতিবার মুম্বাইর ওয়েংখেড়ে স্টেডিয়ামে টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করেছে ভারত। কোহলির অসাধারণ ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে ১৯২ রান সংগ্রহ করেছে স্বাগতিকরা।

ভাগ্যের লড়াইয়ে জিতে প্রথমে বোলিং বেছে নিয়েছেন ক্যারিবীয় অধিনায়ক ড্যারেন সামি। ব্যাট হাতে প্রথমে ক্রিজে আসেন ভারতের রোহিত শর্মা ও আজিঙ্কায় রাহানে। দেখে শুনে ব্যাট চালান তারা। দলকে এনে দেন দারুণ সূচনা। পাওয়ার প্লেতে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৫৫ রান করে ভারত। এবারের বিশ্বকাপে পাওয়ার প্লেতে এটিই তাদের সর্বোচ্চ স্কোর। প্রথম ৬ ওভারে কোনো উইকেট না হারানোর রেকর্ডও এই প্রথম।

স্যামুয়েল বদ্রির বলে রোহিত এলবিডব্লিউ আউট হলে ৬২ রানে উদ্বোধনী জুটি ভেঙে যায়। মাঠ ছাড়ার আগে ৩১ বলে ৩টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৪৩ রান করেন রোহিত।

ওয়ানডাউনে ক্রিজে আসেন গত ম্যাচে অসাধারণ ব্যাট করা বিরাট কোহলি। তাকে দ্রুত মাঠ থেকে বিদায় করার সুযোগ পেয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অষ্টম ওভারে তৃতীয় বলটি করতে গিয়ে নো বল দেন ডোয়াইন ব্রাভো। ফ্রি হিট পায় ভারত। স্ট্রাইকে কোহলি। ব্রাভোর বল ব্যাটে লাগাতে পারেননি কোহলি। বাই রান নেয়ার চেষ্টা করেন তিনি। রামদিন দ্রুত বল স্টাম্পের দিকে ছোঁড়েন। সেটি ব্রাভো ধরতে পারলেও সামান্য দূর থেকে স্টাম্পে বল লাগাতে পারেননি। ফলে রান না নিতে পারলেও আউটের হাত থেকে বেঁচে যান কোহলি।

ব্রাভো ভুল করলেও কোহলি ভুল করেননি। রাহানেকে সঙ্গে নিয়ে রানের চাকা ঘুরিয়ে গেছেন। রাহানে ৩৫ বলে ৪০ রান করে আউট হয়েছেন। তবে ব্যাটিং তাণ্ডব চালিয়ে গেছেন কোহলি। হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন ৩৩ বলে। সেই সঙ্গে ১৬ বারের মতো অর্ধশত বা তার চেয়ে বেশি স্কোরের রেকর্ড গড়েন তিনি। এতে পিছনে ফেলেছেন গেইল ও ব্রেন্ডন ম্যাককালামকে। তারা উভয় ১৫ বার করে ৫০ ঊর্ধ্ব স্কোর করেছেন।

এদিকে ভারত দলীয় একটি রেকর্ড গড়ে ফেলে। আন্তর্জাতিক টি২০তে তৃতীয়বারের মতো কোনো দলের প্রথম তিন ব্যাটসম্যানই ৪০ এর বেশি স্কোর করেন। রোহিত ৪৩, রাহানে ৪০ রান করে বিদায় নিলেও ৮৯ রানে অপরাজিত থাকেন কোহলি। ৪৭ বলে ১১টি চার ও ১টি ছক্কায় এই স্কোর করেন তিনি। তার সঙ্গে ১৫ রান নিয়ে খেলা শেষ করেন ধোনি। এতে ২০ ওভারে মাত্র দুই উইকেটের বিনিময় ১৯২ রান সংগ্রহ করে দলটি।


আরোও সংবাদ