ভাবিকে ফাঁসাতে গিয়ে ফেঁসে গেলেন আওয়ামী লীগ নেতা

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ৬ ফেব্রুয়ারি , ২০১৮ সময় ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ

ইয়াবা দিয়ে ভাবিকে ফাঁসাতে গিয়ে ফেঁসে গেলেন স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা। আসল ঘটনা উদ্‌ঘাটন করে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে ওই নেতাকে। ভাইয়ের বিরুদ্ধে ভাবি যৌতুক নিরোধ আইনে মামলা করায় প্রতিশোধ নিতেই তিনি এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর শহরে।

গ্রেপ্তার হওয়া ওই আওয়ামী লীগ নেতা হলেন এহসান উল্লাহ (৩৭)। তিনি লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। এ ঘটনায় তাঁর দোকানের কর্মচারী ওসমান গণিকেও (২৭) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ জানিয়েছে, এহসান উল্লাহর ভাবির নাম শেফায়েতুন্নেছা (৩০)। তিনি মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি ইউনিয়নের অলি আহমদের মেয়ে। আড়াই বছর আগে তাঁর বিয়ে হয় এহসান উল্লাহর ভাই আহমদ উল্লাহর সঙ্গে। তাঁদের সংসারে একটি সন্তানও রয়েছে। কয়েক মাস ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য চলছে। এ নিয়ে আহমদ উল্লাহর বিরুদ্ধে যৌতুক আইনে মামলা করেন শেফায়েতুন্নেছা। এরই জের ধরে শেয়ায়েতুন্নেছাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেন আহমদ উল্লাহ ও তাঁর ভাই এহসান উল্লাহ।

গতকাল রোববার সন্ধ্যায় এহসান উল্লাহ পুলিশকে মুঠোফোনে তথ্য দেন যে চকরিয়া পৌর শহরের থানা রাস্তার মাথা এলাকায় শেফায়েতুন্নেছা নামের এক নারী ভ্যানিটি ব্যাগে ইয়াবা নিয়ে ঘোরাফেরা করছেন। পুলিশ গিয়ে ওই নারীকে আটক করে এবং তাঁর ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে এক হাজার ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করে। পরে শেফায়েতুন্নেছাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও অনেক খোঁজখবর নিয়ে ঘটনার আসল রহস্য উদ্‌ঘাটন করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

শেফায়েতুন্নেছা দাবি করেন, এহসান উল্লাহর দোকানের কর্মচারী ওসমান গণি কৌশলে তাঁর ভ্যানিটি ব্যাগে ইয়াবাগুলো ঢুকিয়ে দেন। ইয়াবা কী জিনিস, সে সম্পর্কে তাঁর কোনো ধারণা ছিল না। পুলিশকে বিষয়টি খোলাসা করলে ওসমান গণিকে পুলিশ আটক করে। পরে ওসমান গণি স্বীকার করেন, এহসান উল্লাহর কথায় ইয়াবাগুলো শেফায়েতুন্নেছার ব্যাগে ঢুকিয়েছিলেন তিনি। পরে পুলিশ এহসান উল্লাহকে গ্রেপ্তার করে।

ফাইতং ইউনিয়নের সভাপতি হেলাল উদ্দিন আজ সোমবার প্করেছেন, এহসান উল্লাহ ফাইতং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তবে এহসান উল্লাহ গ্রেপ্তার সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন।

চকরিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুকান্ত চৌধুরী বলেন, ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় শেফায়েতুন্নেছাকে সাক্ষী করে তাঁর স্বামী আহমদ উল্লাহ, এহসান উল্লাহ ও দোকান কর্মচারী ওসমান গণিকে আসামি করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। মামলার বাদী হয়েছেন উপপরিদর্শক (এসআই) এনামুল হক।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, এহসান উল্লাহ ও তাঁর দোকান কর্মচারীকে আজ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। আহমদ উল্লাহকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ খুঁজছে।