ভর্তি পরীক্ষা; রাবিতেও ডিজিটাল জালিয়াতি

প্রকাশ:| শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারি , ২০১৪ সময় ০৮:৫২ অপরাহ্ণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পর এবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভর্তি পরীক্ষায় ডিজিটাল জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করায় ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়া তিন শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে।

শুক্রবার সকাল ৯টায় রাবির সম্মান প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় ‘ই’ ইউনিটের বিজোড় ও সোয়া ১০টায় একই ইউনিটের জোড় রোল নম্বরের পরীক্ষার সময় তাদের আটক করা হয়।

আটক শিক্ষার্থীরা হলেন- বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আসাদুর রহমান বাপ্পি ও তরিকুল ইসলাম এবং অপরজন ইশতিয়াক আহমেদ। ইশতিয়াককে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বিজ্ঞান ভবন থেকে আটক করা হয়।

এছাড়া পরীক্ষা চলাকালীন শিক্ষকের সঙ্গে অসদাচরণ করার দায়ে বায়োজিদ নামে খুলনার এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক তারিকুল হাসান জানান, আটক পরীক্ষার্থীরা উচ্চমানের ডিভাইস হাতে বাঁধিয়ে ইয়ারফোনের মাধ্যমে বাইরের একটি দক্ষ দলের সঙ্গে যোগাযোগ করে উত্তরপত্র পূরণ করছিল।

দায়িত্বরত শিক্ষকরা জানান, সকালে ‘ই’ ইউনিটের বিজোড় রোল নম্বরের পরীক্ষা চলাকালে সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ভবনের ১২০ নম্বর কক্ষে পরীক্ষার্থী তরিকুল ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ আটক করা হয়। একই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২১০ নম্বর কক্ষ থেকে একই অভিযোগে বাপ্পীকে আটক করা হয়। এদিকে, সোয়া ১০টার দিকে তৃতীয় বিজ্ঞান ভবন থেকে ইশতিয়াক আহমেদকে আটক করা হয়।

আটক বাপ্পী সাংবাদিকদের জানান, বগুড়া আযিযুল হক কলেজের আরিফ নামের এক বড় ভাই তাকে এ পরামর্শ দেয়। পরীক্ষা চলাকালে তাদের একজন প্রশ্নসহ বাইরে বের হয়ে আসে। এরপর ওই প্রশ্ন দেখে ওই বড়ভাই মোবাইল ডিভাইসের মাধ্যমে তার কাছে উত্তর পাঠাচ্ছিল। বাপ্পী কেবল ক্রমিক নম্বর অনুযায়ী উত্তর দিয়ে যাচ্ছিল।

এ ব্যাপারে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (দায়িত্বপ্রাপ্ত ওসি) শামসুর নুর জানান, আটকৃতদের থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত বৃহস্পতিবার থেকে রাবির ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এ বছর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি আসনের জন্য ৪৭ জন শিক্ষার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

প্রসঙ্গত, গেল বছরের নভেম্বরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ডিজিটাল জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে। ১ নভেম্বর ‘ঘ’ ইউনিটের পরীক্ষায় আনোয়ারা গার্লস কলেজ ও উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র থেকে পরীক্ষার হলে বসে ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে উত্তর আদান-প্রদান করার সময় হাতে নাতে দুজন গ্রেপ্তার হন। সাতদিন পর ৮ নভেম্বর ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে ২৯ পরীক্ষার্থীর কাছে থাকা ব্লু-টুথ ডিভাইসে উত্তর সরবরাহ করা হয়। ১৫ নভেম্বর ‘গ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় উন্নত প্রযুক্তির ক্যালকুলেটরে উত্তর জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়ায় এক পরীক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশ।