ভবিষ্যতের স্মার্টফোন

প্রকাশ:| সোমবার, ১৯ মে , ২০১৪ সময় ০৯:০৮ অপরাহ্ণ

ভবিষ্যতের স্মার্টফোন1ভবিষ্যতের স্মার্টফোনএকটা সময় ছিল মোবাইল ফোনের, তারপর আসলো স্মার্টফোনের যুগ। দিন দিন আরও আধুনিক হচ্ছে স্মার্টফোন। একটা ডিভাইসের পোর্টেবিলিটি এখন সবচেয়ে বেশী আকাঙ্খিত। আমরা যারা আজকাল স্মার্টফোন কিনতে যাই, প্রথম দেখি এর কনফিগারেশন কতটুকু শক্তিশালী, তারপর দেখি স্ক্রিন সাইজ। অনেকে বড় স্ক্রিন পছন্দ করেন না অনেকে ছোট স্ক্রিনের স্মার্টফোন ব্যবহার করতে পারেন না। তারপর দেখি ফিচার। সবকিছু মিলিয়ে একটা মূল্য নির্ধারিত থাকে স্মার্টফোনের। অ্যাফোর্ড করতে পারলে আমরা কিনে নেই, না পারলে অপেক্ষাকৃত কম মূল্যের ডিভাইস কিনে নেই। কিন্তু স্মার্টফোন একটা চাই ই চাই।

ভবিষ্যতের স্মার্টফোন2কল্পনা করেছেন কেমন হতে পারে ভবিষ্যতের স্মার্টফোন? হয়তো করেছেন। ভবিষ্যত নিয়ে অনেক আশাবাদী আপনি। আমি আজ ভবিষ্যতের স্মার্টফোন ফিচার নিয়ে কিছু কথা লিখবো। পড়ে দেখুন আপনার সাথে মিলে যায় কিনা।

স্মার্টফোনের হার্ডওয়্যার হবে পরিবর্তনযোগ্য

ওই যে, একটু আগে বলছিলাম সবাই বেশি দাম দিয়ে শক্তিশালী স্মার্টফোন কিনতে পারে না। সাধ্যের মধ্যে মোটামুটি ভাল একটি স্মার্টফোন নিয়েই অনেক কে খুশি থাকতে হয়। কেমন হতো যদি আপনি স্মার্টফোনের হার্ডওয়্যার পরিবর্তন করতে পারতেন? ধরুন আপনার স্মার্টফোনের র‍্যাম ১ গিগাবাইট। প্রায় একবছর ব্যবহারের পর আপনার মনে হলো বাজারে এখন আরও শক্তিশালী স্মার্টফোন পাওয়া যায় আপনারও একটা প্রয়োজন। আপনি আরেকটা স্মার্টফোন কিনলেন, আগেরটা হয়তো বেঁচে দিলেন। কিন্তু যদি আপনার ১ গিগাবাইট র‍্যামটি পরিবর্তন করে ২ গিগাবাইট র‍্যাম স্থাপন করা যেত কেমন হতো? ডেস্কটপ পিসিতে আমরা যে কাজটা সচরাচর করে থাকি। শুধুমাত্র হার্ডওয়্যার বদলে নিয়ে ডিভাইসের পারফরম্যান্স উন্নত করা সম্ভব হবে। এজন্য জায়ান্ট গুগলের একটি প্রজেক্ট আন্ডারডেভেলপমেন্ট। “Project ARA” নামের এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য ব্যবহারকারীকে একটি ওপেন হার্ডওয়্যার প্লাটফর্ম উপহার দেয়া।
ভবিষ্যতের স্মার্টফোন3
একটি ডিভাইসে করা যাবে সবকিছু

এখনই প্রায় সবকিছু স্মার্টফোনে করা যায়। ভবিষ্যতে এর মাত্রা আরও বাড়বে। মানুষ চাইবে যোগাযোগের জন্য একটি মাস্টার ডিভাইস ব্যবহার করতে। সেটা হবে স্মার্টফোন। কথা বলা, মুভি দেখা, গান শোনা থেকে শুরু করে, অফিসিয়াল কাজ, ইমেজ ও ভিডিও এডিটিং, লাইভ স্ট্রিমিং ইত্যাদি সবকিছুর ব্যবহার আরও বৃদ্ধি পাবে। এজন্য স্মার্টফোন আরও শক্তিশালী হবে এবং তৈরি হবে প্রয়োজনীয় কাজের অ্যাপ্লিকেশন। যেমন ধরুন আপনার অফিসে আপনি যে কাজ করতে একটি নির্দিষ্ট সফটওয়্যার ব্যবহার করেন সেটার জন্য থাকবে একটি স্মার্টফোন অ্যাপ্লিকেশন। মানুষ কাজ করবে সব জায়গা থেকে, সময় নষ্ট করার মত সময় থাকবে না কারও। যোগাযোগ রক্ষা হবে টেক্সট করার মাধ্যমে। ভ্রমনে গেলে সাথে যাবে আপনার স্মার্টফোন। এবং আপনার স্মার্টফোনই তো আপনার পৃথিবী।

ভবিষ্যতের স্মার্টফোন4অগমেন্টেড রিয়েলিটি

অগমেন্টেড রিয়েলিটি বা AR হচ্ছে আমরা আমাদের সেন্স ব্যবহার করে যা পর্যবেক্ষন করি বা অনুধাবন করি সেটা একটি কম্পিউটার জেনারেটেড সেন্সরের মাধ্যমে করা। এই কাজটিই করবে স্মার্টফোন। ডিভাইসের সাউন্ড, ভিডিও, গ্রাফিক্স, জিপিএস ডেটা ব্যবহার করে আপনাকে জানিয়ে দিবে রিয়েলটাইম তথ্য। ধরুন একটি নতুন একটি স্থানে গেলেন আপনি, সেখানে স্মার্টফোন বের করে অগমেন্টেড রিয়েলিটি সম্বলিত অ্যাপ্লিকেশন চালু করলেন। ক্যামেরা এবং জিপিএস ডেটা ব্যবহার করে আপনার স্মার্টফোন জানিয়ে দিবে কোথায় কি আছে।

বিল্ট-ইন প্রজেক্টর

ভবিষ্যতের স্মার্টফোন5

আগেই বলেছি একটি স্মার্টফোনই হবে আপনার পৃথিবী। সেটার আকার আকৃতি কি হবে জানি না। ধরে নিচ্ছি ৪ থেকে ৫ ইঞ্চি হবে সর্বোচ্চ। কিন্তু ডিভাইসটিতে থাকবে বিল্ট ইন প্রজেক্টর। আপনার ডিভাইস যত ছোট হোক না কেন এর মাধ্যমে বড় স্ক্রিনে খেলা অথবা মুভি দেখতে এতটুকু বেগ পেতে হবে না আপনাকে। ইতোমধ্যে কয়েকটি স্মার্টফোনে প্রজেক্টর সুবিধা চালু করলেও তা আশানুরূপ ফলাফল দেখাতে পারেনি। এর মান উন্নত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে স্মার্টফোন প্রস্তুতকারক কোন্পানিগুলো।

ফ্লেক্সিবল স্ক্রিন

স্মার্টফোনের আকৃতি যদি বেশি বড় হয় তাহলে তা বহন করতে এবং ব্যবহার করতে অসুবিধা হয়। আবার খুব ছোট হলে সবধরণের কাজ করতে বাধাগ্রস্থ হতে হয় যেমন অফিসিয়াল কাজ। ভবিষ্যতের স্মার্টফোন স্ক্রিন হবে ফ্লেক্সিবল এবং অতিমাত্রায় ফ্লেক্সিবল। ব্যবহারকারী তার ইচ্ছা অনুযায়ী সেটাকে চাইলে ফোল্ড করে পকেটে রাখতে পারবে, আবার বের করে আনফোল্ড করে কাজ করতে সক্ষম হবে।

থ্রিডি স্ক্রিন এবং হলোগ্রাম

সায়েন্স ফিকশন মুভিতে আমরা সবাই দেখেছি হলোগ্রাফিক স্ক্রিন। উদাহরণস্বরূপ আয়রন ম্যান মুভিটির কথাই ধরুন। আর্কিটেকচারাল ডিজাইন ত্রিমাতৃক আবহে ব্যবহারকারীর সামনে চলে আসে। ব্যবহারকারী তখন প্রয়োজন অনুযায়ী ডিজাইন সম্পাদনা করেন। এরকম ফিচার দেখা যাবে ভবিষ্যতের স্মার্টফোনগুলিতে। রেটিনা ডিসপ্লের মত উচ্চমান সম্পন্ন ডিসপ্লে কোয়ালিটি আমরা পেয়ে গেছি। এখন গবেষকরা থ্রিডি ডিসপ্লে নিয়ে কাজ করছেন। পরবর্তী গবেষণাটি হবে হলোগ্রাফিক প্রজেকশন নিয়ে।

এই ছিল ভবিষ্যতের স্মার্টফোনের কিছু ঝলক। নিত্য নতুন প্রযুক্তির জোয়ারে ভাসছে বিশ্ব। হঠাৎ করেই একে একে চলে আসবে উপরের প্রযুক্তি সম্বলিত স্মার্টফোন। ভবিষ্যতে যারা স্মার্টফোন ব্যবহার করতে চাইবেন না তাদের জন্য থাকবে গুগল গ্লাসের মত প্রযুক্তি পণ্য। আরও থাকবে স্মার্ট ওয়াচ, যা হবে স্মার্টফোনের বিকল্প। এগুলো নিয়ে অন্য একদিন লিখব। আজ এ পর্যন্তই।


আরোও সংবাদ