ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে জামায়াত-শিবির,আটক ৬,

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর , ২০১৩ সময় ১০:১৫ অপরাহ্ণ

জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার রিভিউ আবেদন খারিজ হওয়ার পর চট্টগ্রামে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে জামায়াত-শিবির। আগ্রবাদে শিবিরের গুলিতে পুলিশের এক এসআই মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়েছে। আবার পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করে পালিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের গুলিতে এক শিবিরকর্মীও আহত হয়েছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ বিভিন্নস্থানে গাড়িতে আগুন ও ভাঙচুর করেছে জামায়াত-শিবির। এছাড়া সড়কে গাছ কেটে ও টায়ারে আগুন দিয়ে রাস্তায় অবরোধের পাশাপাশি টেলিফোন বক্সেও আগুন দিয়েছে তারা। আওয়ামী লীগের মিছিলে জামায়াত-শিবির হামলা চালিয়ে পুলিশসহ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের আহত করে। সন্ধ্যায় ফৌজদার হাটে শিবিরের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে নাশকতার সরঞ্জামসহ ৬ জনকে আটক করে যৌথবাহিনী।

পুলিশ ও প্রতক্ষ্যদর্শী সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে নগরীর ডবলমুরিং থানাধীন বেপারী পাড়া এলাকায় টহল পুলিশের ওপর গুলি চালায় শিবির। এ ঘটনায় ডবলমুরিং থানার এসআই সাইফুল ইসলাম মাথায় গুরুতরভাবে গুলিবিদ্ধ হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় চমেক হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চমেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই জহিরুল ইসলাম।

ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউল ইসলাম জানান, সন্ধ্যায় নগরীর ডবলমুরিং থানাধীন আগ্রাবাদ বেপারী পাড়া এলাকায় এসআই সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল টহলরত ছিল। এসময় দুটি মটর সাইকেলে করে জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসীরা এসে পুলিশকে লক্ষ্য করে ১০/১২ রাউন্ড গুলি ছুড়লে সাইফুল মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ ঘটনায় আরো তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়। এরমধ্যে গুরুতর আহত অবস্থায় সাইফুলকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের দামপাড়া পুলিশ লাইন হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।

এদিকে বিকেল ৪টার দিকে সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট এলাকায় ঝটিকা মিছিল নিয়ে সড়কে অবস্থান নেয় জামায়াত-শিবিরকর্মীরা। পরে মহাসড়কে চলাচলরত দু’টি কাভার্ড ভ্যান ও দু’টি ট্রাকে আগুন দেয়। এসময় প্রায় ২০টি সিএনজি ও মাইক্রোবাস ভাঙচুর করা হয়। একই সময়ে উপজেলা বাড়বকুণ্ডে একটি ট্রাকে আগুন দেয়া হয়। বার আউলিয়া হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ফৌজদার হাট এলাকায় এক জামায়াত নেতার মালিকানাধীন ফৌজদারহাট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে জামায়াত-শিবিরের আস্তানার সন্ধান পেয়ে সন্ধ্যায় অভিযান পরিচালনা করে যৌথবাহিনী। এসময় সেখান থেকে বিপুল সংখ্যক জিহাদী বই, লিপলেট ও পোস্টার উদ্ধার করেছে। ওই স্কুলের পাশে আরো দু’টি কোচিং সেন্টারে অভিযান চালিয়ে নাশকতার বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করে যৌথবাহিনী। এসময় সেখান থেকে ৬ জনকে আটক করা হয়েছে।

এদিকে সন্ধ্যায় বহদ্দারহাট, চকবাজার, বাদুরতলা ও শুলকবহর এলাকায় ব্যাপকাহারে ককটেল বিস্ফোরণ করা হয়েছে। তখন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সন্ধ্যায় পাঁচলাইশ থানাধীন বাদুরতলা এলাকায় টহল পুলিলকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করে পালানোর সময় এনামুল হক (২৭) নামে এক শিবিরকর্মী পুলিশের ছুড়া গুলিতে বিদ্ধ হন। তাকে আহত অবস্থায় চমেক হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। এসময় সেখান থেকে দু’টি অবিস্ফোরিত ককটেলও উদ্ধার করেছে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাঁচলাইশ থানার ওসি ওমর ফারুক।