ব্যাটিংয়ে আত্মহননের মিছিল,পরাজয়ের বৃত্তেই মুশফিকরা

প্রকাশ:| রবিবার, ৩০ মার্চ , ২০১৪ সময় ০৮:৪৩ অপরাহ্ণ

সেই চিরচেনা দৃশ্য। বরাবরের মতো ব্যর্থতার পুরান। ব্যাটিংয়ে আত্মহননের মিছিল। বোলিংয়ে বিশ্বাসহীনতা। ফিল্ডিংয়ে মাশুল গোনা ভুলের পুনরাবৃত্তি। ২০ ওভারি ক্রিকেটে এতো ভুল নিয়ে তো আর জয় পাওয়া সম্ভব নয়। বাংলাদেশও পায়নি। টানা হারের চক্করে পাকিস্তানের বিপক্ষেও হেরেছে। ৫০ রানের বড় ব্যবধানেই।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের মূলসূত্র হলো -তিনটা বল দেখো, পরের দুটি বলে মার দাও। আর উইকেটে থিতু হলে নিজের ইনিংসটাকে যতোটা সম্ভব লম্বা কর। তাতেই দলের জন্য কাঙ্খিত ফলটা হাতের নাগালে চলে আসবে। সম্ভবত বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা এসব কথা জানেন না! তাই ২২ গজে পা রাখলেই মাথা গরম হয়ে ওঠে তাদের। তখন কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে প্রতিনিয়ত একই ভুল করে আউট হওয়ার প্রতিযোগিতায় নামে তারা।

পাকিস্তানের বিপক্ষেও পূর্ব অনুমিত ওই চিত্রকল্প বদলাতে পারেনি বাংলাদেশ। যদিও মোহাম্মদ হাফিজ বাহিনীর ছুঁড়ে দেয়া ১৯১ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শুরুটা জমাটই ছিল টাইগারদের। ফর্মে ফেরার প্রত্যয় দেখাচ্ছিলেন তামিম ইকবাল খান। অনেকটা দেখেশুনে খেলছিলেন তিনি। কিন্তু তাদের ক্ষেত্রে তো আর কোনো পূর্বানুমান খাটে না। তাই প্রত্যাশার সীমানাটা যখন বেড়ে উঠছিল, ঠিক তখনই আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন তামিম। ইনিংসের পঞ্চম ওভারের প্রথম বলে উমর গুলের বলে পুরো লাইন মিস করার পরও তার পরের বলেই একই ভাবে খেলতে গিয়ে দলের সর্বনাশ ডেকে আনেন তামিম (১৬)।

এরপর আনামুলের আউটটা অসর্তকার ফল। সাঈদ আজমলের মতো অভিজ্ঞ বোলারের সামনে তিনি যে একেবারে নবীন তা তার আউটের ধরনেই বোঝা গেছে। আজমলের গুগলি বুঝতে না পেরে বোলারের হাতেই রিটার্ন ক্যাচ দিয়েছেন কুষ্টিয়ার এই ব্যাটসম্যান। পরে মুশফিক ও শামসুর রহমানের টানা আউটে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ব্যাটিং ব্যর্থতার দৈন্যতা ফুটে উঠেছে।

ওয়ান ডাউনে নামা সাকিব দর্শক মনে আশা জাগালেও নিজের ‘ছটফটানি’র কারণে আউট হয়েছেন। ১৫তম ওভারের শেষ বলে গুলের বলে উমর আকমলের হাতে ক্যাচ দেন সাবেক বিশ্বসেরা এই ব্যাটসম্যান। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৮ রান আসে তার ব্যাটে। এরপর বাংলাদেশের ইনিংস টানার মতো সাহস আর কেউ দেখাতে পারেননি। মাঝে নাসিরের ২৩ রান ও শেষে মাশরাফির ছোট্ট ঝড় (১৭) শুধুমাত্র হারের ব্যবধানটাই কমিয়েছে। যখন বাংলাদেশ নির্ধারিত ২০ ওভারে সাত উইকেট হারিয়ে ১৪০ রান তুলতে সমর্থ হয়।

পাকিস্তানের উমর গুল তিন ওভারে ৩০ রান দিযে তিনটি উইকেট নেন। দুটি উইকেট পেয়েছেন সাঈদ আজমল। একটি করে উইকেট গেছে জুলফিকার বাবর ও শহিদ আফ্রিদির দখলে।

এর আগে পাকিস্তানের ইনিংসটা পুরোটাই আহমেদ শেহজাদময়। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১১১ রানের ইনিংস খেলেন পাক এই ওপেনার। তার ৬২ বলের ইনিংসটিতে পাঁচটি ছয় ও ১০টি চারের মার ছিল। তাছাড়া শেহজাদের ঝড়ো এই সেঞ্চুরির সাথে সাথে শহিদ আফ্রিদির ২২ ও শোয়েব মালিকের ২৬ রানে নির্ধারিত ২০ ওভারে পাঁচ উইকেটে ১৯০ রান জমায় পাকিস্তানিরা। বাংলাদেশের আবদুর রাজ্জাক বল হাতে সবচেয়ে সফলতা দেখান। চার ওভার বল করে ২০ রানের বিনিময়ে দুটি উইকেট নেন বাংলাদেশি এই স্পিনার। এছাড়া সাকিব, মাহমুদুল্লাহ ও আল আমিন একটি করে উইকেট পেয়েছেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
পাকিস্তান: ১৯০/৫ (শেহজাদ ১১১*, রাজ্জাক ২/২০)
বাংলাদেশ: ১৪০/৭ (সাকিব ৩৮, গুল ৩/২০)
ফল: পাকিস্তান ৫০ রানে জয়ী।