ব্যাটারিতে প্রতারণা রহিমআফরোজ’র

প্রকাশ:| শনিবার, ১৭ আগস্ট , ২০১৩ সময় ০৯:৪৩ অপরাহ্ণ

মনোয়ারুল ইসলাম,স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম>>
rohim afroz batareব্যাটারি নিয়ে প্রতারণার ব্যবসা ফেঁদেছে রহিমআফরোজ। লুকাস, স্পার্ক ও গ্লোবাট ব্যাটারি নিয়ে গ্রাহকরা হয়রানির শিকার হচ্ছে। এসব ব্যাটারি ১ মাসেই ডাউন হয়ে যায়।ঠিকভাবে কাজ করেনা। কোম্পানির ওয়ারেন্টি থাকলেও কোন বিক্রয়োত্তর সেবা না দিয়ে গ্রাহকের দোষ দেয়া ও টালবাহানা করে বলে গ্রাহকরা অভিযোগ করেছেন।

রহিমআফরোজের সাবেক এক কর্মকর্তা জানান, কোম্পানিটির শুরু ব্যাটারি ব্যবসা দিয়ে। এখন এটি একটি গ্রুপ অব কোম্পানি।কিন্ত তাদের শুরুর সেই ব্যবসায় সততা রক্ষা না করে নানা রকম প্রতারণা করে গ্রাহকদের ঠকাচ্ছে। প্রতিষ্ঠাতার মতো ব্যবসায়িক সততা রক্ষা করছেনা বর্তমান ম্যানেজমেন্ট।

কয়েকজন ডিলার অভিযোগ করেন, ব্যাটারির স্থায়িত্ব কমে গেছে। ওয়ারেন্টি মেয়াদের মধ্যে চার্জ না থাকা, ব্যাটারি লিক হওয়াসহ নানাবিধ সমস্যা গ্রাহকরা বিরক্ত। নষ্ট ব্যাটারি জমা দিলেও দ্রুত ও সময়মতো তা ফেরত পাওয়া যায় না। আর মানুষের অকথ্য ভাষা হজম করতে হয়। রহিমআফরোজের ডিলারশিপ নিয়ে বিপদে পড়েছি। আর স্পার্ক আর গ্লোব্যাট একেবারে নিম্নমানের।

রহিমআফরোজের লুকাস ব্যটারি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ব্যবহারকারীরা।

লুকাস ব্যাটারির ব্যবহারকারী মারুফ রায়হান জানান, গাড়িতে ৫ বছর আগেও এই কোম্পানির ব্যাটারি ব্যবহার করছি। তখন ভালো ছিলো আর এখন ব্যাটারি কিনে বিপদে পড়েছি। অথচ বাজারে অনেক ভালো ব্যাটারি পাওয়া যায়। নামে আস্থা রেখে বিপদে পড়েছি।

ডিলাররা জানান, রহিমআফরোজের লুকাস ব্যাটারি অনেক জনপ্রিয় ছিলো। এখন নিম্নমানের কারণে ডিলাররাও কোম্পানির ওপর চরম বিরক্ত।

রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকার ব্যাটারি ও পার্টস ব্যবসায়ী সালেক রহমান জানান, আমরা রহিম আফরোজের পণ্য বিক্রি করে বেইজ্জত হচ্ছি। কারণ ব্যাটারির সমস্যা হলে মানুষ গালাগালি করে। রহিমআফরোজ এখন নিম্নমানের ব্যাটারি সরবরাহসহ নানারকম জালিয়াতি করছে আর কথা শুনছি আমরা।

ব্যাটারি সমস্যা হলে গ্রাহককে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। তারা নানা ভাবে চাপ দিয়ে থাকে। ফলে মানসম্মান নিয়ে ব্যবসা করা কঠিন হচ্ছে। আর বাজারে দেশি বিদেশী অনেক কোম্পানির ভালো মানের ব্যাটারি আসছে।এভাবে রহিমআফরোজ টিকতে পারবেনা।

রাজধানীর উত্তরার এক ঠিকাদার বাংলানিউজকে নাম না প্রকাশ করার শর্তে জানান, রহিম আফরোজ, লুকাসসহ যে কোন ব্রান্ডের ব্যাটারি দিতে পারি। আপনি আগে টাকা দিবেন। কতটাকা বাজেটে ব্যাটারি চান তা এনে দেবো।

এর আগে বাংলানিউজের অনুসন্ধানে রহিমআফরোজের কাকরাইল এলাকার ডিলার হাসিনা মোটরসে অনুসন্ধান চালিয়ে জানা যায়, অধিক সংখ্যক অর্ডার পেলে বিশেষ ব্যবস্থায় নিম্ন মানের ব্যাটারি তৈরি করে সরবরাহ করা হয়। এর আগেও গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে রহিম আফরোজের নিম্ন মানের পণ্যের ব্যাপারে অভিযোগ আসে।

মাসুদ নামের এক ঠিকাদার অভিযোগ করেন, তিনি হাসিনা মোটরসের এক কর্মচারীর কাছে রহিম আফরোজের ব্যাটারির দর জানতে চান। এসময় ওই কর্মচারী তাকে বলেন, ‘ঘটনা খুলে বলেন, আসলে আপনার প্রয়োজন কী? আমার কাছে সমস্যা খুলে বললে আপনার সহায়তা হতে পারে।’

মাসুদ ওই কর্মচারীকে টেন্ডারে অংশ নেওয়ার কথা জানান।

‘ব্যাটারির তালিকায় যে দর দেওয়া আছে তা দিয়ে টেন্ডার জমা দিলে আপনি কাজ পাবেন না’ বলেন হাসিনা মোটরসের কর্মচারী।

তিনি পরামর্শ দেন, ‘টেন্ডার পেতে হলে কম দর জমা দিতে হবে। তবেই আপনি কাজ পাবেন।’

কম দামে না হয় কাজ পাওয়া যাবে তখন ব্যাটারি পাওয়া যাবে কীভাবে? এর উত্তরও তার কাছে, ‘আপনি মনে হয় নতুন ব্যবসায়ী। তাই এমন বোকার মতো প্রশ্ন করছেন। আপনি কাজ পেলে আমার কাছে আসবেন, কম দামে ব্যাটারি দেব। তা রহিম আফরোজ হোক বা লুকাস হোক।’

বিষয়টি মাসুদকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে ওই কর্মচারী বলেন, ‘ব্যাটারির ভেতরে কেউ ঢোকে না। উপরে সবকিছুই ঠিক থাকবে, ভেতরে নিম্ন মানের প্লেট ও প্লেটের পরিমাণ কম থাকবে। আর তাতেই প্রতি ব্যাটারিতে দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা কম পড়বে।’

‘অভয়’ দিয়ে কর্মচারীটি জানান, ‘প্রায় সব ক্ষেত্রেই এভাবে ব্যাটারি সরবরাহ হচ্ছে। আর সরকারি দপ্তরে হলে তো আর কথাই নেই। একবার বুঝে দিলেই কেল্লাফতে।’