ব্যাংক সিকিউরিটি সিস্টেম

প্রকাশ:| শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি , ২০১৬ সময় ১১:৩২ অপরাহ্ণ

সুড়ঙ্গ খুঁড়ে কিংবা সিঁদ কেটে টাকা লুট রোধে ব্যাংক ভল্টের নিরাপত্তায় নুতন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী ইকবাল হোসেন। উদ্ভাবিত নতুন প্রযুক্তির নাম দেয়া হয়েছে ‘ব্যাংক ভল্ট সিকিউরিটি সিস্টেম’।

জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলায় ইকবাল হোসেন তার নতুন এ উদ্ভাবন প্রদর্শন করেন। মহানগরীর এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের জিমনেশিয়াম সংলগ্ন আউটার স্টেডিয়ামে চলছে এ মেলা।

কিশোরগঞ্জ জেলার সোনালী ব্যাংকের প্রধান শাখায় ২০১৪ সালের ২৬ জানুয়ারি দুঃসাহসিক চুরি সংঘঠিত হয় । দীর্ঘ সুড়ঙ্গ খুঁড়ে ব্যাংকের ভল্ট থেকে ১৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা চুরি করে নিয়ে যায় চোরের দল। শাখাটির নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক পুলিশি পাহারার মধ্যেই এই চুরি সংঘটিত হয়।

জেলা শহরের ব্যস্ততম এলাকায় সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা পাহারার মধ্যে এমন চুরির ঘটনা পুরো দেশবাসিকে হতবাক করেছিলো। এর পরপরই ২৮ জানুয়ারি ব্যাংকগুলোর ভল্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর ব্যবস্থা নিতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ পাঠায় বাংলাদেশ ব্যাংক। এর পরেও বেশ কয়েকটি ব্যাংকে ঘটেছে চুরি।

‘ব্যাংকসমূহের ভল্টের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ’ শীর্ষক বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে প্রযুক্তিগত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বলা হয়, ‘ভল্টের অভ্যন্তরে সিসি টিভি বসানোসহ সিকিউরিটি অ্যালার্মের সার্বক্ষণিক ব্যবস্থা রাখতে হবে।’

ব্যাংক ভল্টের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সেই নির্দেশনা সম্পর্কে জানেন না ইকবাল হোসেন। তিনি নিজে থেকে এ উদ্ভাবন নিয়ে কাজ করছিলেন বেশ কিছু দিন ধরে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া এ তরুণ চান তার উদ্ভাবিত এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্যাংকে চুরি বন্ধ হোক। আরো চান বিশ্ব জানুক তার এ উদ্ভাবন।

নতুন এ প্রযুক্তি সম্পর্কে জানাতে গিয়ে ইকবাল হোসেন বলেন, চারটি সেন্সর সিস্টেমের সহায়তায় ‘ব্যাংক ভল্ট সিকিউরিটি সিস্টেম’ কাজ করবে। অনাকাঙ্ক্ষিত কেউ ব্যাংকের ভল্টের দরজা খুললেই একটি অটোমেটিক কল চলে যাবে ব্যাংক ম্যানেজারের মুঠোফোনে। ম্যানেজার কল রিসিভ করে দুই নম্বর ডায়াল করলেই ভল্টের ধাতব বডিতে ২২০ ভোল্টের ইলেক্ট্রিক শক তৈরি হয়ে যাবে। একই সঙ্গে দুষ্কৃতিকারীদের অজ্ঞান করতে বের হবে ক্লোরোফরম গ্যাস। মূলত ম্যাগনেটিং, লাইটিং, মোশন ও ভাইব্রেটিং সেন্সর সিস্টেম পৃথকভাবে ব্যাংক ভল্টের সিকিউরিটি নিশ্চিত করবে।

সিকিউরিটি সিস্টেমের চারটি সেন্সরে পৃথক কাজ সম্পর্কে জানাতে গিয়ে এ উদ্ভাবক জানান, গেল কয়েক বছরে দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে চুরির ঘটনাগুলোর অধিকাংশই ঘটেছে সুড়ঙ্গ খুঁড়ে কিংবা পাশের দেয়াল ভেঙে। এ ধরনের ঘটনা রোধে কাজ করবে ভাইব্রেটিং সেন্সর।

ব্যাংক ভল্টের দেয়ালে সেন্সর এমনভাবে সেট করা থাকবে যাতে কেউ দেয়াল ভাঙা বা ছিদ্র করার চেষ্টা করলে সঙ্গে সঙ্গে সৃষ্ট কম্পন অনুভব করেই এলার্ম বেজে উঠবে। এর পরেও যদি দুর্বৃত্তরা ভল্টে প্রবেশ করে ফেলে, তবে আলো জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গেই লাইটিং সেন্সর সতর্ক করবে ব্যাংক ম্যানেজার বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে।

এছাড়া অনাকাঙ্ক্ষিত কেউ ভল্টে প্রবেশের চেষ্টা করে, তবে ভল্টের দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে ম্যাগনেটিক সেন্সরের সহায়তায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাজবে এলার্ম। শুধু আলো বা কম্পন নয়, ব্যাংক ভল্ট সিকিউরিটি সিস্টেমে রয়েছে মোশন সেন্সর সিস্টেমও, যা ব্যাংক ভল্টের ভেতরে মানুষের নড়াচড়াকেও শনাক্ত করতে পারবে।

শুধু এলার্ম বাজিয়েই কাজ শেষ করবে না ‘ব্যাংক ভল্ট সিকিউরিটি সিস্টেম’। চোরকে ধরার ক্ষেত্রেও সহায়তা করবে এটি। সিকিউরিটি সিস্টেমের চারটি সেন্সরে যে কোনো একটি সেন্সর অস্বাভাবিক কিছুর উপস্থিতি শনাক্ত করলেই বাজবে এলার্ম আর সঙ্গে সঙ্গে একটি অটোমেটিক কল চলে যাবে ব্যাংক ম্যানেজারের মুঠোফোনে।

যদি কোনো করণে ব্যাংক ম্যানেজার কল রিসিভ না করেন- এমন প্রশ্নের জবাবে ইকবাল বলেন, ‘এমন পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য ডিভাইসে একটি নির্দিষ্ট সময় সেট করে দেয়ার অপশন থাকবে। যদি কোনো কারণে কল রিসিভ না হয়, তবে নির্দিষ্ট সময় পরে সিকিউরিটি সিস্টেম নিজেই তার কাজ শুরু করবে।’

এছাড়া দুর্ঘটনার ঝুঁকিহ্রাস, অটোমেটিক ড্রেনেজ সিস্টেম সুবিধা, কৃষি জমির চাহিদা অনুযায়ী সেচ দেয়ার নতুন প্রযুক্তিও মেলায় প্রদর্শিত হচ্ছে। বৈচিত্র্যময় নানা ডিজিটাল উদ্ভাবনী প্রযুক্তি নিয়ে তরুণরা হাজির হয়েছে চট্টগ্রামের এ উদ্ভাবনী মেলায়। বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া এ মেলা চলবে শনিবার রাত ৯টা পর্যন্ত। এবারের মেলায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ মোট ৬০টি প্রতিষ্ঠানের ৭৬টি স্টল রয়েছে।


আরোও সংবাদ