ব্যস্ততা নেই ফুল চাষিদের

প্রকাশ:| সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি , ২০১৫ সময় ১১:৩৫ অপরাহ্ণ

ফুলেররাজ্য খ্যাত মানিকগঞ্জ সিংগাইর উপজেলা। হরেক রকম ফুলের সমারোহ আর গন্ধে ভরে থাকে এ অঞ্চলটি। জেলা শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে এ এলাকার হাজারো চাষী জীবিকা হিসেবে বেছে নিয়েছে ফুল চাষ। রাজধানী থেকে বেশ কাছে হওয়ায় প্রতিদিন ব্যবসায়ীদের ভিড় জমে এখানে।
ফুল চাষ
পহেলা বসন্ত, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস, আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘিরে ক্রেতা-বিক্রেতার পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে এখানকার ফুলবাজার। প্রতিদিন সূর্য ওঠার আগেই চাষি, পাইকার, খুচরা ব্যবসায়ী ও ফুলশ্রমিকরা ছুটে আসেন এখানে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢাকাসহ সারাদেশে ট্রাক ও পিকআপভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহনে পাঠানো হয় ফুল।

তবে এবারের চিত্রটা ভিন্ন। টানা অবরোধ আর হরতালে ফুলবাজারে কেনাবেচায় ধস নেমেছে। চাষি, পাইকারী ও খুচরা ব্যবসায়ী আর ফুলশ্রমিকদের আগের মতো ব্যস্ততা নেই। অনেক চাষিই হতাশ হয়ে বসে আছেন।

এদিকে, বাগানগুলো হলুদ আর বাসন্তি রঙয়ের গাঁদা ফুলে ভরে আছে। চাহিদা না থাকায় ও দাম কম হওয়ায় চাষিরা ফুল সংগ্রহে আগ্রহ হারিয়েছেন। কিন্তু ফুল না তুললে গাছ মারা যেতে পারে এ আশঙ্কায় অনেক চাষি লোকসান মেনে নিয়েই ফুল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

ফুল চাষি রবিউল আলম বাংলামেইলকে জানান, এবার সাড়ে ৬ বিঘা জমিতে গোলাপ, ক্যারোনডোনা, রজনীগন্ধা, জিপসি, গ্লাডিওলাস জাতের ফুল চাষ করেছি। ফলন অন্যবারের তুলনায় অনেকটা ভালো। কিন্তু অবরোধ হরতালের কারণে কোনো পাইকার আসছে না। এতে বাগানেই নষ্ট হচ্ছে ফুল।

ফুল চাষি আফাজ উদ্দিন জানান, এবার ৪ বিঘা জমিতে গোলাপ, ২ বিঘা জমিতে গ্যালারিক্স, ৫ বিঘা জমিতে রজনীগন্ধা চাষ করেছি। দেশের অবস্থা খারাপ না হলে ফুল বিক্রি করে অন্তত ৫ লাখ টাকা লাভ করতে পারতাম।

ফুল চাষি ইমারত হোসেন বাংলামেইলকে জানান, এক গাড়ি ফুল ঢাকায় নিতে আগের চেয়ে এখন চারগুণ বেশি ভাড়া লাগছে। লাভের টাকা এখন ভাড়াতেই দিতেই যাচ্ছে। তাই বাগান থেকে ফুল তোলা বন্ধ করে দিয়েছি।

FLOWER-PICকৃষি বিভাগ সূত্রমতে, সিংগাইর উপজেলায় এবার ৫০ হেষ্টর জমিতে ফুল চাষ হয়েছে। এখন ফুলের ভরা মওসুম (জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ) চলছে। আগের চেয়ে এবার ফলন ভালো হয়েছে।

সিংগাইর উপজেলা কৃষি অফিসার আবু আদনান জানান, ফলন ভালো হলেও অবরোধ আর হরতালের কারণে কোথাও ফুল সরবরাহ করতে পারছে না চাষিরা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়তে হতে পারে ফুলচাষিদের।


আরোও সংবাদ