ব্যবসায়ী খোকনের হত্যাকারী কেউ ধরা পড়েনি

প্রকাশ:| শুক্রবার, ২৯ মে , ২০১৫ সময় ১১:৩৫ অপরাহ্ণ

শফিউল আলম, রাউজানঃ রাউজানের উরকিরচর ইউনিয়নের আবুরখীল এলাকায় জবাই করে হত্যা করা হয় ব্যবসায়ী মোঃ ইলিয়াছ প্রকাশ খোকনকে । শুক্রবার দুপুরে হত্যাকান্ডের একদিন পর নিহত ব্যবসায়ী মোঃ ইলিয়াছ প্রকাশ খোকনের বড় স্ত্রী জোৎøা আকতার বাদী হয়ে অজ্ঞাত নামা ব্যক্তিদের আসামী করে রাউজান থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন বলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই খলিল জানান ।

গত ২৮ মে বৃহস্পত্বিার সকালে রাউজানের উরকিরচর ইউনিয়নের পশ্চিম আবুর খীল এলাকার শান্তির বাপের ব্রীক ফিল্ডের পার্শ্বে খালী ফসলী জমি থেকে ব্যবসায়ী ইলিয়াছ প্রকাশ খোকন সওদাগরের গলাকাটা লাশ উদ্বার করে রাউজান থানা পুলিশ । চট্টগ্রাম নগরীর চান্দঁগাও থানার পশ্চিম মোহরা গোলাফের দোকাান এলাকার মৃত ইসমাইলের পুত্র ব্যবসায়ী ইলিয়াছ খোকন সওদাগর । নিহত খোকন সওদাগরের হাটহাজারীর দঃ কুয়াইশ গুলগুলা আমতলীতে আলিফা স্টোর নামের একটি মুদি দোকাান রয়েছে। নিহত ব্যবসায়ী ইলিয়াছ প্রকাশ খোকনের দুই স্ত্রী রয়েছে প্রধম স্ত্রী ঘরে দুই ছেলে সন্তান রয়েছে । ব্যবসায়ী খোকন সওদাগর রাউজানের উরকিরচর এলাকা থেকে শামিমা আকতার নামের এক মহিলাকে দ্বিতীয় বিবাহ করেন ।

বিবাহের পর শামিমা সাত মাসের অন্তঃসর্ত্বা অবস্থায় ব্যবসায়ী খোকনের বাড়ী থেকে চলে আসে বাপের বাড়ীতে বসবাস করেন । শামিমার ঘরে তের বৎসরের এক ছেলে সন্তান রয়েছে । প্রথম স্ত্রী জোøা আকতার বলেন গত ২৭ মে দিবাগত রাত সাড়ে এগারটার সময় তার স্বামী ঘর থেকে বের হয় । রাতেই ঘরে ফিরে না আসায় খোকন সওদাগরের ম্ােবাইল ফোনে ফোন করা হলে ও মোবাইল ফোন রিসিভ না করায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শংকা নেমে আসে । গত বৃহস্পতিবার সকালে পুণরায় খোকন সওদাগরের মোবাইলে ফোন করলে এক ব্যক্তি ফোন ধরে খোকন সওদাগরের হত্যাকান্ডের সংবাদ জানালে তার এলাকার লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন । ব্যবসায়ী ইলিয়াছ প্রকাশ থোকন সওদাগরের লাশ সনাক্ত করেন তার স্বজনেরা। ব্যবসায়ী খোকন সওদাগর কে কেন কারা হত্যা করেছে এ ব্যাপারে তার স্বজনেরা কিছুই বলতে পারছেনা । দিত্বিয় স্ত্রী শামিমা আকতার জানান তের বৎসর পুর্বে খোকন সওদাগর তাকেই বিবাহ করেন । বিবাহের পর সাত মাসের অন্তঃসর্ত্বা অবস্থায় থোকন সওদাগরের সাথে বিরোধ হলে বাপের বাড়ীতে চলে আসি এর পর থেকে খোকন সওদাগরের সাথে আর কোন যোগাযোগ হয়নি । স্বামীর ঘর থেকে চলে আসার সময় পেটে থাকা সন্তান জম্ম নেয় বাপের বাড়ীতে । সন্তান ফয়সল কে নিয়ে এলাকার মানুষের ঘরের গৃহস্থি কাজ করে সন্তানকে লালন পালন করছি । খোকন সওদাগরকে কারা হত্যা করেছে কেন হত্যা করেছে এ ব্যাপারে শামিমা কিছুই জানেনা বলে জানান ।

পুলিশ জানায় নিহতের শরীরে সাদা ফতুয়া, সেন্ডু গেঞ্জি আর রক্তমাখা সাদা লুঙ্গি পড়া অবস্থায় নিহতের শরীরের চোখের ডানপার্শ্বে থেতলানো, গলার অর্ধেক অংশ কাটা ও পুরুষাঙ্গ কর্তন ছিল। ঘটনাস্থল থেকে একটি মোবাইল ও ছুরি উদ্ধার করে পুলিশ। খবর পেয়ে নিহতের ভাই আকবর ও তার দুই ছেলে ঘটনাস্থলে এসে লাশ শনাক্ত করেন।

নিহতের বড় স্ত্রীর ছেলে জুবায়েদুল ইসলাম কায়সার জানান, আমার আব্বা গত বুধবার রাত সাড়ে এগারটার দিকে ফোন করে একটি দাওয়াতে যাওয়ার কথা বলে। গভীর রাত পর্যন্ত তিনি ফিরে না আসায় আমরা তার মোবাইলে বারবার ফোন করতে থাকলেও রিসিভ করেননি। কারো সাথে তার পূর্ব শত্র“তা ছিল কিনা জানতে চাইলে কায়সার জানান তার বাবার সাথে কারো কোন শত্র“তা ছিলনা। রাউজান থানার এস আই খলিল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লাশ উদ্বার করে ময়না তদন্তে জন্য মর্গে প্রেরণ করেন । গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে লাশ ময়না তদন্ত শেষে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ব্যবসায়ী খোকন সওদাগরের লাশে পশ্চিম মোহরা এলাকায় নিয়ে যায় । রাতেই জানাজার নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় বলে জানান নিহতের স্ত্রী জোৎøা আকতার ।