ব্যবসায়ীর লাশ রেখে বিকেল ৪টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ

প্রকাশ:| শনিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর , ২০১৩ সময় ১০:০৮ অপরাহ্ণ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চট্টগ্রামের প্রবেশপথ নগরীর সিটি গেট এলাকায় সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত এক ব্যবসায়ীর লাশ সড়কে রেখে বিক্ষোভ করেছে স্থানীয় জনতা। তারা সড়কে টায়ারে আগুন এবং এলোপাতাড়ি যানবাহন রেখে অবরোধ সৃষ্টি করে। এতে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হওয়ায় পথচারীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে।
las oborod
শনিবার বিকেল ৪টা থেকে লাশ নিয়ে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত এলাকার শত শত নারীপুরুষ সড়কে অবস্থান করেন। এসময় উত্তেজিত জনতা সড়কের পাশে একটি পুলিশ বক্সও ভাংচুর করে।

স্থানীয়রা জানান, স্থানীয় কিছু সন্ত্রাসী কয়েকদিন আগে এলাকার তেল ও জাহাজের পুরোনো মালামাল ব্যবসায়ী এস আর ট্রেডিং নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক বেলাল হোসেনের (৩৫) কাছে চাঁদা দাবি করেছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বেলাল কিছুদিন আগে আকবর শাহ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

এরপর শুক্রবার রাত ১০টার দিকে সন্ত্রাসীরা বেলালকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে গভীর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান।

নিহতের ছোট ভাই হাসান মোস্তফা কাছে অভিযোগ করেন, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এলাকার সন্ত্রাসী রনি,হোসেন,পাভেলসহ কয়েকজন সন্ত্রাসী আমার ভাইয়ের ওপর সন্ধ্যায় হামলা চালায়। তিনি রাতে আহতাবস্থায় আকবর শাহ থানায় এ বিষয়ে একটি জিডি করতে যান। কিন্তু ওসি এই অভিযোগ আমলে নেয়নি।

তিনি বলেন,‘থানা থেকে বাসায় ফেরার পথে সন্ত্রাসীরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করেছে।’

এদিকে ময়না তদন্তের পর শনিবার বিকেলে নিহতের লাশ এলাকায় পৌঁছলে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সড়কে নেমে যায়। এসময় তারা বিভিন্ন ধরনের শ্লোগান দিয়ে নগরীর প্রবেশপথ সিটি গেইটের সামনে সড়ক ‍অবরোধ করে রাখে। সড়কে অবস্থানের কারণে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে উভয়পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

খবর পেয়ে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসীকে খুনিদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (পশ্চিম) আরেফিন জুয়েল বলেন,‘নিহতের লাশ নিয়ে রাস্তায় অবস্থান করায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে স্থানীয়রা সড়ক থেকে সরে যান। বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক আছে।’

নিহত ব্যবসায়ী বেলালের প্রতিবেশি মো. ইব্রাহিম জানান, বেলাল উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডের কালিরহাট এলাকার মৃত সাহাব মিয়ার ছেলে। তারা নয় ভাইয়েল মধ্যে বেলাল চতুর্থ।

এদিকে বেলালের লাশ এলাকায় পৌঁছার পর স্বজনদের আহাজারীতে পুরো এলাকার বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে।