বোয়ালখালীর অনিয়ম দুর্নীতি বন্ধে এক মাস সময়

প্রকাশ:| রবিবার, ২৩ জুলাই , ২০১৭ সময় ০৭:০৯ অপরাহ্ণ

বোয়ালখালী প্রতিনিধি :
২২টাকা ভূমি উন্নয়ন কর দিতে গিয়ে গুণতে হয়েছে ৫শত টাকা। আমুচিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী সেলিম উদ্দিন ভূমি উন্নয়ন কর হিসেবে দেড় হাজার টাকা দাবি করলে পরে ৫শত টাকা নিয়ে ২২টাকা দাখিলা ধরিয়ে দেন বলে দুর্নীতি দমন কমিশনের গণশুনানীতে অভিযোগ আনেন সেকান্দর আলম বাবর নামের এক সেবা গ্রহীতা।
রবিবার (২৩জুলাই) বোয়ালখালী উপজেলা মিলনায়তনে দুর্নীতি দমন কমিশন আয়োজিত ৬০তম গণশুনানীতে এ অভিযোগ তুলে ধরেন।
এর প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফিয়া আখতার বলেন, ঘুষ দেয়া নেয়া ও দেয়া সমান অপরাধ। এর জন্য উভয়ের গণ শুনানী হওয়া দরকার। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
এ গণশুনানী সঞ্চালনায় ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাকসুদুর রহমান। গণশুনানী চলাকালে দুদক কমিশনার ড. নাসির উদ্দিন আহমেদ গণশুনানী মনিটরিং করে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা প্রদান করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকদের আবাসিক ব্যবস্থা থাকলেও তারা থাকেন না জানিয়ে নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, হাসপাতালে প্রেশার মাপেন ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীরা। উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল কর্মকর্তারা চিকিৎসা ও পরীক্ষা নিরীক্ষা করান। আর চিকিৎসক আসলেও তিনি রোগী না দেখেই চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করে দেন। এছাড়া আবাসিক রোগীদের নি¤œমানের খাবার দেয়া হয় জানিয়ে আরো অভিযোগ করেন বলেন, এ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নেয়া হয় ৭শ থেকে ১২শ টাকা পর্যন্ত।
জবাবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রতন কুমার দে বলেন, আবাসিক চিকিৎসকের পদটি বর্তমানে শূণ্য রয়েছে। এছাড়া এ পর্যন্ত তার কাছে কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। তবে তিনি এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন বলেন জানিয়ে বলেন, এ্যাম্বুলেন্স ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১০টাকা। এর চেয়ে বেশি নিলে মৌখিক ও লিখিত অভিযোগ করার জন্য বলেন তিনি। এসময় হাসপাতালে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা নিয়ে দুদক কমিনার ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি যোগ করেন।
চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর বোয়ালখালী জোনাল অফিসের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ ভুক্তভোগীরা তুলে ধরলে জেনারেল ব্যবস্থাপক মোবারক উল্লাহ ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান। এছাড়া মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, সাব-রেজিষ্ট্রারের কার্যালয়, উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিস ও প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগীরা। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে নিজ নিজ অবস্থা পরিস্কার করেন দপ্তরের কর্মকর্তারা।

এসব অভিযোগ বিবেচনায় নিয়ে শুনানী শেষে দুদক কমিশনার ড. নাসির উদ্দিন আহমেদ অভিযোগকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, অফিসের কর্মকর্তাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে আপনারা সেবা নিবেন। সেবা পাওয়া আপনাদের নাগরিক অধিকার। দালাল ধরে কাজ করবেন কেন। পেছনের দরজা দিয়ে নয়, সরাসরি কর্মকর্তাদের কাছে যাবেন।
সকল অনিয়ম রোধে একমাসের সময় বেঁেধ তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের হুশিয়ার করে দিয়ে বলেন, এক মাস পর কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে কোনো ধরণের শুনানী শোনা হবে না। বিভাগীয় ব্যবস্থা নয়ত মামলা দেবে দুদক।
এছাড়া তিনি সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীদের ব্যক্তিগত সম্পদের হিসাব চাওয়া হবে জানিয়ে বলেন, এখনই সাবধান হয়ে যান, নয়ত সোজা জেলে যাবেন। তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ অনুসারে আপনারা জনগণকে তথ্য দিতে বাধ্য।
২০১৮ সালের মধ্যে বোয়ালখালী উপজেলাকে একটি দুর্নীতি মুক্ত মডেল উপজেলা হিসেবে দেখতে চান জানিয়ে বলেন, ঢাকা থেকে এ উপজেলার সকল কার্যক্রম মনিটরিং করা হবে। অফিসকে দালাল মুক্ত করতে ও নিরীহ মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হয় তার জন্য কর্মকর্তা কর্মচারীদের ছবি সম্বলিত নাম ঠিকানা ও পদবী দপ্তরগুলোর সামনে টাঙানোর নিদের্শ দেন। এসময় তিনি সেবা গ্রহীতাদের সাথে সংযত ভাষায় আচরণ করার জন্য কর্মকর্তাদের নিদের্শনা দেন।
দুদক কমিশনার আরো বলেন, আগামী আগস্ট মাসের ২২ তারিখ তিনি আবারো চট্টগ্রাম আসবেন সাবির্ক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে।
গণশুনানীতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় দুদক পরিচালক মনিরুজ্জামান, উপ পরিচালক সৈয়দ আহমেদ, সহকারী পরিচালক হুমায়ন কবীর, উপ-সহকারী পরিচালক মো. শফিউল্লাহ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফিয়া আখতার, বোয়ালখালী দুদক কমিটি সভাপতি এমএন আলম, সাধারণ সম্পাদক এসএম আফাজুর রহমান, সরকারী বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, ইউপি চেয়ারম্যান ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।