বোয়ালখালীতে ২৫টি কাঁচা বাড়ির আংশিক ক্ষতি : স্বাভাবিক জনজীবন

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ৩০ মে , ২০১৭ সময় ০৭:৩৬ অপরাহ্ণ

পূজন সেন, বোয়ালখালী : বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ আঘাতে বোয়ালখালীতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
গতকাল সোমবার দুপুর থেকে হালকা বৃষ্টিপাত হলেও আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে দমকা হাওয়ার সাথে বিকেল দুইটা নাগাদ ভারী বৃষ্টিপাত হয়। বর্তমানে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে।
তবে মঙ্গলবার দমকা হওয়ায় ২৫টি কাঁচা ঘরবাড়ির আংশিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ও গাছের ডালাপালা ভেঙ্গে গেছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফিয়া আখতার।
বোয়ালখালীতে ২৫টি কাঁচা বাড়ির আংশিক ক্ষতি : স্বাভাবিক জনজীবন তিনি জানান, এ পর্যন্ত আল্লাহর রহমতে বোয়ালখালী উপজেলায় তেমন একটা ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। পূর্বাভাষ পাওয়ার সাথে সাথে উপজেলার সমস্ত সাইক্লোন সেন্টার খুলে দেয়া হয়। এছাড়া মাইকিং করা হয়। সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হয়।
যেসব ঘর বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা সরকারি সহায়তা আসলে দেয়া হবে বলে জানান তিনি।
পৌর সদরের বাসিন্দা মো. ওসমান জানান, গতকাল (২৯ মে) সোমবার সন্ধ্যা থেকে ১০ নম্বর বিপদ সংকেত জারির পর জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছিল। অনেকে নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন।
দেখা গেছে, ঘূর্ণি ঝড় আঘাত হানার পূর্বাভাষ পাওয়ার সাথে সাথে উপজেলা সদরের মার্কেটগুলো, দোকানপাঠ বন্ধের পাশাপাশি রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে পড়ে। যানচলাচলও ছিল বন্ধ।
এরপর আজ ৩০মে মঙ্গলবার দুপুরে ঘূর্ণিঝড় উপকূল অতিক্রম করে চলে যাওয়া খবরে আবারো ব্যস্তময় হয়ে উঠেছে বোয়ালখালী উপজেলা।
চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর বোয়ালখালী জোনাল অফিসের উপ-ব্যবস্থাপক মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়। ঘূর্ণি ঝড়ে ব্যাপক কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। কয়েকটি জায়গায় গাছ ও গাছের ডাল পড়ে তার ছিঁড়ে গেছে। তা মেরামত করার কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। উপজেলার কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। আজ না হলেও আগামীকালকের মধ্যেই বাকি এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে বলে জানান তিনি।
পৌর মেয়র হাজী আবুল কালাম আবু জানান, আল্লাহর রহমতে বোয়ালখালীতে তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। গত কয়েকদিন ধরে তীব্র তাপদাহে জনজীবন অস্বস্তি ভুগছিল। বর্তমানে বৃষ্টিপাত ও শীতল বাতাসে জনজীবনে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
সোমবার সন্ধ্যায় আকাশের পরিস্থিতি দেখে অনেকেই ১৯৯১ সালে ২৯ এপ্রিলের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণি ঝড়ের কথা বারবার স্মরণে আনছিলেন চায়ের দোকানে বসে মৃদুল দে, আবু জাফর, মো. হেলাল উদ্দিন, আলী হকসহ আরো অনেকে। তারা ২৯ এপ্রিলে আঘাত হানার পূর্বে সেই ঘূর্ণিঝড়ের আবহ সৃষ্ট ‘মোরা’ নামক ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাষে দেখতে পাচ্ছেন বলে এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন। তবে সেরকম কিছু না ঘটায় তারা সৃষ্টিকর্তার কাছে শুকরিয়া আদায় করেছেন।


আরোও সংবাদ