বোয়ালখালীতে জব্দকৃত মদ বিক্রি করলো পুলিশ

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১৯ এপ্রিল , ২০১৮ সময় ০৬:৩৬ অপরাহ্ণ

মাদক মামলার আসামী আ.লীগ নেতা!

বোয়ালখালী প্রতিনিধি :
আওয়ামী রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকায় সুমন তালুকদার নামের এক ব্যক্তিকে মাদক মামলার আসামী করেছে পুলিশ। গত ১২ এপ্রিল বোয়ালখালীতে পরিত্যক্ত অবস্থায় দেশীয় চোলাই মদ উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশের দায়েরকৃত মামলায় সুমনকে আসামী করেছে পুলিশ। এছাড়া পুলিশ জব্দকৃত চোলাই মদ বিক্রি করে দিয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সুমন তালুকদার বোয়ালখালী উপজেলার শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি উপজেলায় বালুর ব্যবসা করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ১২ এপ্রিল রাত দেড়টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার শ্রীপুর ভাঙাপুকুর ঘাট এলাকার একটি বালি টালের পেছন থেকে ৬শত লিটার দেশীয় তৈরি চোলাই মদ উদ্ধার করে পুলিশ। জব্দকৃত চোলাই মদের আনুমানিক বাজার মূল্য ২লক্ষ ৪০হাজার টাকা। এসময় পুলিশের উপস্থিত টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যায়। এ ব্যাপারে ১৯৯০ সালে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তিন জনের নাম উল্লেখ করে থানার উপ-পরিদর্শক মো. ফরিদ উদ্দিন মুন্সী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।
তবে মদ উদ্ধারের ঘটনায় প্রকাশিত সংবাদে জানা যায়, ১২ এপ্রিল রাতে উপজেলার কর্ণফলী নদীর মাঝখানে জেগে থাকা শ্রীপুর নাজির চর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৬শত লিটার দেশীয় তৈরি চোলাই মদ উদ্ধার করে পুলিশ। এতে পুলিশের বক্তব্যও রয়েছে। এছাড়া মদ উদ্ধারের পরদিন রাতে চার কৃষকের ৬টি গরুও চুরি যায় নাজির চর থেকে।
এছাড়া জব্দকৃত মদ পুলিশ ১৪ এপ্রিল গভীররাতে উপজেলার পশ্চিম গোমদ-ীর এক চিহ্নিত মদ ব্যবসায়ীর কাছে লাখ টাকায় বিক্রি করে দেয়ারও অভিযোগ উঠেছে। এ মদ থানা থেকে ওই ব্যবসায়ী নিয়ে যায়।
সুমন তালুকদার বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকায় হয়রানির জন্য মাদক মামলায় জড়িয়ে দিয়েছে পুলিশ। এ ব্যাপারে আইনজীবির পরামর্শে আদালতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য জিন্নাত আলী বলেন, সুমন একজন ব্যবসায়ী তবে মাদক ব্যবসায়ী নয়। মাদক মামলায় সুমনকে আসামী করায় নিন্দা জানান তিনি।
ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ঈসমাইল হোসেন খোকন জানান, ব্যবসায়ী সুমন দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের সাথে যুক্ত। তাকে মাদক মামলায় জড়িত করা ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছু নয়।
স্থানীয় শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোকারম জানান, সুমনকে ব্যক্তিগতভাবে আমি চিনি, সে মাদক ব্যবসায়ী নয়। সে একজন বালি ব্যবসায়ী। তাকে মাদক মামলায় জড়ানোটা উচিত হয়নি পুলিশের।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিমাংশু কুমার দাস বলেন, মামলার বাদী উপস্থিত সাক্ষী প্রমাণের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে নাম পাওয়ায় আসামী করেছেন। তদন্তে সত্যতার ভিত্তিতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে। এছাড়া থানা থেকে জব্দকৃত চোলাই মদ বিক্রয়ের বিষয়টি সত্য নয়।