বোমা বা বিস্ফোরক শনাক্ত করবে ঘাসফড়িং

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ৭ জুলাই , ২০১৬ সময় ১০:০১ অপরাহ্ণ

ঘাসফড়িংয়ের নাকি ঘ্রাণশক্তি মারাত্মক। চারপাশের সমস্ত রাসায়নিক পদার্থের গন্ধ শুঁকে ফেলতে পারে নিমেষের মধ্যেই। যে কোনো রাসায়নিক দ্রব্যের সন্ধান পেয়ে যায় ম্যাজিকের মতো। আর তাই জঙ্গিদের বোমা বা বিস্ফোরক শনাক্ত করার কাজে ব্যবহার করা হবে এই ঘাসফড়িংকে। এতোদিন যেটা করে এসেছে সারমেয়, ইঁদুর, ডলফিন, কুকুর।

বোমা বা বিস্ফোরক শনাক্ত করবে ঘাসফড়িং‘স্নিফিং ইনসেক্ট’ হিসেবে ঘাসফড়িংকে ব্যবহার করার সবরকম প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছে ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারতীয় গবেষক বরণিধরণ রমণ ও তার দল। এর আগে ইঁদুরদের কার্যকরী স্নিফারের তকমা দিয়েছিলেন তারাই।

এই গবেষক দলটি জানিয়েছে, এ কাজে ঘাসফড়িংকে ব্যবহারে বাড়তি সুবিধাও আছে। পোকা হওয়ার সুবাদে যেকোনো ফাঁকফোকর দিয়ে সহজেই প্রবেশ করতে পারে এরা। সেই কারণেই এর নাম হয়েছে সাইবর্গ ইনসেক্ট বা সাইবর্গ লোকাস্ট।

তবে বোমার ঘ্রাণ পেলেই তো হল না। বোমার অবস্থান কোথায়, সে বিষয় প্রশাসন জানবে কী করে? সে বিষয়টি নিয়েও বিস্তর গবেষণা করেছে এই গবেষক দল। ঘ্রাণ পেলে পঙ্গপালের শরীরে যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, সেটিকে ডিকোড করলে মিলবে বোমা, বিস্ফোরকের হদিশ। উত্তেজনাকে বন্দি করতে ঘাসফড়িংয়ের পিঠে, অর্থাৎ দু’টি ডানার মাঝখানে বসানো থাকবে জৈব সঙ্গতিপূর্ণ ট্যাটু। আলো থেকে তাপ উৎপাদন করবে এই ট্যাটু। লেজার বিম কাজ করবে রিমোট কনট্রোলের মতো। বোমা শনাক্ত হলে জ্বলে উঠবে লাল বা সবুজ সিগন্যাল।

ড. রমণের আশা, বোমার সঠিক লোকেশন বলে অতিক্ষুদ্র ঘাসফড়িংই আগামীদিনে নিরীহ মানুষদের প্রাণ বাঁচাবে!

দুষ্টুলোকের পাল্লায় পড়ে যে বিজ্ঞান বিধ্বংসী মূর্তি ধারণ করে, তাকেই কিছু শুভ উদ্দেশ্যসম্পন্ন মানুষ কার্যকরী করে তুলছে মানবজাতীর কল্যাণে। তাই হয়তো অতিনগণ্য এ ঘাসফড়িংও আজ হয়ে উঠছে শক্তিশালী। চিনে নিতে পারছে লুকিয়ে রাখা ক্ষতিকারক বোম, বিস্ফোরক।