‘বৈষম্যমূলক’ বেতন কাঠামো বাতিল না করলে আন্দোলন

প্রকাশ:| রবিবার, ২৪ মে , ২০১৫ সময় ০৮:১৫ অপরাহ্ণ

প্রস্তাবিত অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামোকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য বৈষম্যমূলক উল্লেখ করে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। অবিলম্বে এ বেতন কাঠামো বাতিল না করলে কঠোর আন্দোলনের হুমকিও দিয়েছেন শিক্ষকরা।

রোববার দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ হুমকি প্রদান করেন শিক্ষক নেতারা।
‘বৈষম্যমূলক’ বেতন কাঠামো বাতিল না করলে আন্দোলন
এছাড়া সংবাদ সম্মেলন থেকে আটদফা দাবি তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. কাজী এস এম খসরুল আলম কুদ্দুসী।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘ড. ফরাসউদ্দিন বেতন কমিশন এবং সচিব কমিটি সমতার নীতি ও সুবিধাবঞ্চিতদের ব্যাপারগুলোকে গুরুত্ব দেননি। নিজেদের অপরিহার্য এবং বাকীদের পরিত্যাজ্য নীতি অনুসরণ করে উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য সুবিধাজনক একটি কাঠামো সরকারকে দিয়ে পাস করিয়ে নিতে চাচ্ছেন।’

“টাইম স্কেল ও সিলেকশান গ্রেড বাদ দেয়ার সুপারিশ করে ড. ফরাসউদ্দিন বেতন কমিশন এবং সচিব কমিটি সুবিধাবঞ্চিতদের উপর চরম অবিচার করেছেন।”

তিনি বলেন,‘সরকারি কর্মকর্তাদের গুরুত্ব খাটো করে দেখার কোন অবকাশ নেই। তবে সমাজের অন্যান্য পেশার লোকজন ও শিক্ষকরা দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে যে অপরিহার্য অবদান রাখছেন সেটি অস্বীকার করা অসমীচিন। সচিব কমিটি তাদের সুপারিশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন দুই ধাপ নামিয়ে এনে সরকারের ইতিবাচক ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ এবং সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন করেছে। প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো শিক্ষকদের উচ্ছ্বসিত হওয়ার পরিবর্তে হতাশায় নিমজ্জিত করেছে।’

শিক্ষকদের মানুষ গড়ার কারিগর উল্লেখ করে ড.কুদ্দুসী বলেন, ‘সচিব কমিটি নিজেদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে এবং চরম স্বার্থপরতার পরিচয় দিয়ে এ বেতন কাঠামো তৈরী করেছে। সচিবরা শিক্ষকদের মর্যাদাহানি করেছেন, যা সত্যিই হতাশাব্যঞ্জক। দুঃখজনক হলেও সত্য, সপ্তম জাতীয় বেতন কাঠামোতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের যে অবস্থা ছিল তার অবনমন করা হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষকরা সরকারের প্রতি আটদফা দাবি জানান। দাবিগুলো হলো- প্রস্তাবিত অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামোতে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন অধ্যাপকদের বেতন-ভাতা সিনিয়র সচিবের সমতুল্য করা, সিলেকশান গ্রেড প্রাপ্ত অধ্যাপকদের বেতন-ভাতা সিনিয়র সচিবের সমতুল্য করা, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারি অধ্যাপক ও প্রভাষকদের বেতন কাঠামো ক্রমানুসারে নির্ধারণ, প্রতিবেশী দেশসমূহের আলোকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের গবেষণা ভাতা, বই ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাদি নিশ্চিত, সরকারি কর্মকর্তাদের ন্যায় গাড়ি, আবাসন ও অন্যান্য সুবিধা শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও নিশ্চিত করা, প্রত্যাশিত বেতন কাঠামো অনুযায়ী ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স-এ শিক্ষকদের পদমর্যাদা ও অবস্থান নিশ্চিত, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদমর্যাদা মূখ্য সচিব/মন্ত্রী পরিষদ সচিবের সমতুল্য করে সে অনুযায়ী সুবিধাদিও নিশ্চিত করা এবং শিক্ষানীতি অনুযায়ী শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রবর্তন করা।

সংবাদ সম্মেলন থেকে সোমবার (২৫ মে) সকাল ১১টায় প্রতিবাদ সমাবেশের ঘোষণা দিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ আবুল মনছুর বলেন,‘অবিলম্বে যদি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য বৈষম্যমূলক বেতন কাঠামো বাতিল না করে তবে শিক্ষকরা কঠোর আন্দোলন কর্মসূচী ঘোষণা করবে।’

সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সহ সভাপতি অধ্যাপক ড. শ্যামল রঞ্জন চক্রবর্তী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. হানিফ সিদ্দিকী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অহিদুল আলম, সদস্য অধ্যাপক ড. কামরুল হুদা, অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক সাহিদুর রহমান, অধ্যাপক ড. সুপ্তিকনা মজুমদার, অধ্যাপক সজীব কুমার ঘোষ ও অরুপ বড়ুয়া উপস্থিত ছিলেন।