বৈশাখী মেলার সর্বজনীন

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল , ২০১৫ সময় ০৯:৪৩ অপরাহ্ণ

বৈশাখ মেলার সর্বজনীনতারুণ্যের বৈশাখ উদ্যাপন পরিষদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুল ইসলাম আমিন বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষের সর্বজনীন ও সর্ববৃহৎ উৎসবে পরিণত হওয়া, বৈশাখ মেলার সর্বজনীন চরিত্রকে নানা সময়ে বিতর্কিত করার চেষ্টা হয়েছে। তবে এ দেশের সাধারণ মানুষ কোনো ভেদবুদ্ধিতে বেশিদিন আটকে থাকেনি। বাংলার এ উৎসব বিকশিত হয়েছে আপন চরিত্র ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে। ষাটের দশকে বাঙালি জাতীয়তাবাদের উত্থানের কালে বৈশাখী মেলা নিয়েছিল নাগরিক রূপ। উৎসবের সঙ্গে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের নতুন মাত্রা যোগ হয়েছিল বাংলা নববর্ষকে ঘিরে, সে ধারা এখনও চলছে।
গতকাল ৮ এপ্রিল বিকেলে নগরীর ‘কাসুন্দি রেস্টুরেন্টে’ পরিষদের সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা শিক্ষক নেতা আবৃত্তিশিল্পী অঞ্চল চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও আবৃত্তিশিল্পী অ্যাডভোকেট মিলি চৌধুরীর সঞ্চালনায় সূচনা বক্তব্য দেন পরিষদের অন্যতম উপদেষ্টা ও প্রধান নির্বাহী লেখক-সাংবাদিক শওকত বাঙালি। মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব প্রফেসর হাছিনা জাকারিয়া বেলা, আওয়ামী শিল্পীগোষ্ঠীর সভাপতি গণসঙ্গীত শিল্পী অশোক সেন গুপ্ত, নাট্যজন-সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব প্রদীপ দেওয়ানজী, রবীন্দ্র সঙ্গীতশিল্পী অধ্যক্ষ কাবেরী সেন গুপ্তা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বৃজেট ডায়েস, তারুণ্যের উচ্ছ্বাস সভাপতি জিন্নাহ চৌধুরী, দৃষ্টি’র সভাপতি মাসুদ বকুল।
অন্যদের মধ্যে অভিমত ব্যক্ত করেন পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির জেলা আহবায়ক অ্যাডভোকেট সীমান্ত তালুকদার, চেয়ারম্যান মো. আজাহার উদ্দিন, মহাসচিব সাজ্জাত হোসেন, দৃষ্টি চট্টগ্রামের তাফহীম উর রশীদ, ইমন কল্যাণ সঙ্গীত বিদ্যাপীঠের রঞ্জন দত্ত, দেবু ভট্টাচার্য দেবু, গোধুলী সঙ্গীত নিকেতনের দেবাশীষ মজুমদার, সাংবাদিক আহসানুল কবির রিটন, শব্দনোঙর সভাপতি হাসান জাহাঙ্গীর, সংগঠক সাইফ টিটু, শেখ মো. জাহিদুল আলম, নৃত্য নিকেতনের রিয়া দাশ চায়না, সুরাঙ্গন সংগীত একাডেমীর শ্যামল দত্ত, অঙ্গনা নৃত্য একাডেমীর সীমা চৌধুরী, সন্দীপনা সাংস্কৃতিক ফোরামের ডি.কে দাশ মামুন, নৃত্যরঙ একাডেমীর তন্ময় বড়–য়া, অপরাজেয় বাংলাদেশের রিমঝিম আহমেদ, ওডেব সাংস্কৃতিক দলের ইলা চৌধুরী, সপ্তস্বর সঙ্গীত বিদ্যালয়ের অরুণ বড়–য়া, শহীদ মিনার পরিষদের শাওন বড়–য়া, নৃত্তম একাডেমীর অয়ন মাহমুদ, সানি টিউটোরিয়্যালের শাহীন আক্তার, প্রতিভা সঙ্গীত একাডেমীর শিমুল দাশ, সুন্দরম শিল্পী গোষ্ঠীর সুজন মজুমদার প্রমুখ।
সবার আলোচনার ভিত্তিতে আগামী ১৩ এপ্রিল বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা এবং ১৪ এপ্রিল সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান চলমান রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সাংস্কৃতিক আয়োজনে বংশীবাদন, গান, নৃত্য, আবৃত্তি, ব্যান্ড দল শহরতলী’র পাশাপাশি কবি গান পরিবেশিত হবে।
এছাড়া রয়েছে ১২ এপ্রিল মেলার প্রচারণা উপলক্ষে ‘কর্ণফুলীকে বাঁচানোর দাবিতে সাম্পান র‌্যালি, বৈশাখী সাজ প্রতিযোগিতা, ঘুড়ি উৎসব, পুথি উৎসব, বৈশাখের আলোকচিত্র প্রদর্শনী, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চিত্র প্রদর্শনী, বিশেষ সম্মাননা। পুরো আয়োজন প্রায় ৫ ঘন্টা সরাসরি সম্প্রচার করবে একাত্তর টেলিভিশন। মেলার প্রচারণা উপলক্ষে আগামী ১২ এপ্রিল বিকেল ৪টায় জমিয়তুল ফালাহ্ থেকে কর্ণফুলীর মোহনার উদ্দেশ্যে তথা চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় পহেলা বৈশাখের আয়োজনের স্থানের উদ্দেশ্যে সাইকেল র‌্যালি শুরু হবে। আগ্রহী ব্যক্তি, সংগঠনকে বিকেল ৪টার মধ্যে জমিয়তুল ফালাহ্ প্রাঙ্গণে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
##