বৈশাখী আনন্দে ভাসলেন বন্দিরা

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল , ২০১৫ সময় ০৯:১০ অপরাহ্ণ

jail-3পহেলা বৈশাখের দিনটি আনন্দে উৎসবে কাটিয়েছেন চট্টগ্রাম কারাগারের বন্দিরা। দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের সব পর্যায়েই ছিল বন্দিদের অংশগ্রহণ। অনুষ্ঠানের মঞ্চ বানানো থেকে শুরু করে মঞ্চে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, সব খানেই ছিলেন বন্দিরা।

নানা অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ নিয়ে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা প্রায় ছয় হাজার বন্দি আনন্দমুখর পরিবেশে এভাবেই পার করেছে পহেলা বৈশাখ। সাজাপ্রাপ্ত হয়ে বছরের পর বছর কারাগারে থাকারা একটু ভিন্ন পরিবেশ পেয়ে আনন্দে ভেসেছেন।

মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে কারাভ্যন্তরে বৈশাখী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন। এরপর জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় কারাভ্যন্তরে শুরু হয় বর্ণিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

‘কারা শিল্পী গোষ্ঠি’ নামের বন্দিদের একটি সাংস্কৃতিক দল অনুষ্ঠান মাতিয়ে রাখেন। দেশাত্নবোধক, বাউল, আঞ্চলিক গান, পল্লীগীতিসহ বিভিন্ন ধরনের গান পরিবেশন করা হয়।

নববর্ষের প্রথম প্রহরে সকাল ৭টার দিকে বন্দিদের দেওয়া হয় পান্তা-ইলিশ। এ আয়োজন দেখে বন্দিরা খুশি হন বলে জানান ডেপুটি জেলার মনির হোসেন।

তিনি বলেন, ‘উন্নতমানের খাবার পেয়ে বন্দিরা খুব খুশি হন। তবে এজন্য আমাদের আলাদা কোন বরাদ্দ ছিল না। বছরের অন্যান্য দিনে খাবারের বরাদ্দ থেকে বাঁচিয়ে আজকের এই আয়োজন করা হয়েছে।’

ডেপুটি জেলার মনির হোসেন বলেন, ‘দুপুর ২টার দিকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের বিরতি দেওয়া হয়, অনুষ্ঠান চলে বিকেল পর্যন্ত। এরপর দুপুরে উন্নত মুখরোচক খাবার পরিবেশন করা হয় বন্দিদের মধ্যে। দুপুরে গরু ও মুরগীর মাংস দেয়া হয়েছে এবং রাতে দেওয়া হয়েছে মাংস-পোলাও।’

সিনিয়র জেল সুপার ছগির মিয়া বলেন, ‘কারাগারের শিল্পীরা তাদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা দিয়ে অনুষ্ঠান মাতিয়ে রাখেন। বাইরে থেকে শুধু বাদ্যযন্ত্র আনা হয়েছিল। কারাগারের মাঠে উপস্থিত হয়ে বন্দিরা অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। তাদেরকে আনন্দ দিতে পেরে আমাদের খুব ভাল লাগছে।’

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন, সিনিয়র জেল সুপার ছগির মিয়া, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহাদাত হোসেন, ডেপুটি জেলার মনির হোসেন, আমিরুল ইসলাম, জাহেদুল ইসলামসহ কারা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত মঙ্গলবার চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি আছেন ৫ হাজার ৯৯৪জন।


আরোও সংবাদ